ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও গাছে বেঁধে নির্যাতনের মামলার প্রধান আসামি শাহিনুর রহমান থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি কালীগঞ্জ থানায় উপস্থিত হন। আত্মসমর্পণের সময় শাহিনুর নিজেকে নির্দোষ দাবি করে পুরো ঘটনাটিকে ‘সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উল্লেখ করেন।
পেশায় ট্রাকচালক ও শ্রমিক নেতা হিসেবে পরিচিত শাহিনুর রহমানকে এদিন মোটরসাইকেল শোভাযাত্রাসহ থানায় নিয়ে আসেন কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্বাস উদ্দিনসহ স্থানীয় বেশ কিছু বাসিন্দা। থানায় প্রবেশের আগে সাংবাদিকদের শাহিনুর বলেন, “আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তাই স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও পরিকল্পিত।”
স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর দাবি অনুযায়ী, গত ৩১ ডিসেম্বর কালীগঞ্জ উপজেলার নদীপাড়া আড়পাড়া এলাকায় ওই নারীর বাড়িতে ‘আপত্তিকর’ অবস্থায় দুই যুবককে আটক করে স্থানীয়রা। এরপর তাদের তিনজনকেই গাছে বেঁধে মারধর করা হয়। পরবর্তীতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ওই ভিডিওতে নারীকে অর্থের বিনিময়ে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করতে দেখা গেছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
ঘটনার কয়েকদিন পর ৫ জানুয়ারি ওই নারী বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ এর আগে হাসান আলী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তবে ৬ জানুয়ারি এলাকাবাসী এই মামলাটিকে ‘মিথ্যা’ দাবি করে মানববন্ধন করেন। তাদের অভিযোগ, নারীটি তার অনৈতিক কর্মকাণ্ড আড়াল করতে এই মামলার আশ্রয় নিয়েছেন।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, “আসামি শাহিনুর রহমান আদালতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলেও পরে থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”





















