১২:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মণিরামপুরে রানা প্রতাপ হত্যা: বিউটি পার্লার মালকিন পুলিশ হেফাজতে

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:৪৮:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৫৭

যশোরের মণিরামপুরে আলোচিত রানা প্রতাপ বৈরাগী (৪২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তাঁর এক নারী বন্ধুকে (বান্ধবী) হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে আটক করা হয়। ওই নারী স্থানীয় বাজারের একটি বিউটি পার্লার পরিচালনা করেন।
এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে নিহতের পিতা তুষার কান্তি বৈরাগী বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ হেফাজতে থাকা নারীর সঙ্গে স্কুলজীবন থেকেই রানা প্রতাপের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে ওই নারীর অন্যত্র বিয়ে হলেও প্রবাসফেরত স্বামীর অবর্তমানেও রানার সঙ্গে তাঁর ‘বন্ধুত্ব’ অটুট ছিল। রানার নিয়মিত যাতায়াত ছিল ওই নারীর বিউটি পার্লারে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হত্যাকাণ্ডের কিছুক্ষণ আগে রানা প্রতাপের বরফকলে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় ওই নারীকে। এমনকি হত্যাকাণ্ডের অকুস্থলটিও ওই বিউটি পার্লার সংলগ্ন গলিতে হওয়ায় পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
তদন্তে ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক মেরুকরণ
হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে পুলিশ কেবল ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক দিকগুলোও খতিয়ে দেখছে। তদন্তে উঠে আসছে:
* ব্যবসায়িক শত্রুতা: স্থানীয় অন্য একটি বরফকল মালিকের সঙ্গে রানা প্রতাপের ব্যবসায়িক বিরোধ চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
* অতীত ও বর্তমান জীবন: রানা প্রতাপ একসময় চরমপন্থী দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং শ্রমিক নেতা ওলিয়ার রহমান হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি ছিলেন। তবে গত কয়েক বছর ধরে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে নওয়াপাড়া ও মণিরামপুরে মৎস্য ঘের, বরফকল ও পত্রিকা প্রকাশনা (বিডি খবর) ব্যবসায় যুক্ত হন।
নিহতের পরিবারের দাবি, রানা প্রতাপ ইংরেজি সাহিত্যে উচ্চশিক্ষিত ছিলেন এবং ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাঁকে আগের মামলায় জড়ানো হয়েছিল। এলাকায় তিনি পরোপকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর ১০ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রজিউল্লাহ খান জানান, “তদন্তের স্বার্থে একজনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের পাশাপাশি ব্যবসায়িক ও পূর্ব শত্রুতার বিষয়গুলোও আমাদের নজরে আছে। দ্রুতই এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”
উল্লেখ্য, গত সোমবার বিকেলে মণিরামপুরের কপালিয়া বাজারে নিজ বরফকলের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন রানা প্রতাপ।

সর্বাধিক পঠিত

‘তেলের দাম ৭০০ টাকা হতো’—ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ড নিয়ে যা বললেন যুবদল নেতা নয়ন

মণিরামপুরে রানা প্রতাপ হত্যা: বিউটি পার্লার মালকিন পুলিশ হেফাজতে

আপডেট: ০৩:৪৮:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

যশোরের মণিরামপুরে আলোচিত রানা প্রতাপ বৈরাগী (৪২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তাঁর এক নারী বন্ধুকে (বান্ধবী) হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে আটক করা হয়। ওই নারী স্থানীয় বাজারের একটি বিউটি পার্লার পরিচালনা করেন।
এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে নিহতের পিতা তুষার কান্তি বৈরাগী বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ হেফাজতে থাকা নারীর সঙ্গে স্কুলজীবন থেকেই রানা প্রতাপের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে ওই নারীর অন্যত্র বিয়ে হলেও প্রবাসফেরত স্বামীর অবর্তমানেও রানার সঙ্গে তাঁর ‘বন্ধুত্ব’ অটুট ছিল। রানার নিয়মিত যাতায়াত ছিল ওই নারীর বিউটি পার্লারে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হত্যাকাণ্ডের কিছুক্ষণ আগে রানা প্রতাপের বরফকলে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় ওই নারীকে। এমনকি হত্যাকাণ্ডের অকুস্থলটিও ওই বিউটি পার্লার সংলগ্ন গলিতে হওয়ায় পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
তদন্তে ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক মেরুকরণ
হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে পুলিশ কেবল ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক দিকগুলোও খতিয়ে দেখছে। তদন্তে উঠে আসছে:
* ব্যবসায়িক শত্রুতা: স্থানীয় অন্য একটি বরফকল মালিকের সঙ্গে রানা প্রতাপের ব্যবসায়িক বিরোধ চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
* অতীত ও বর্তমান জীবন: রানা প্রতাপ একসময় চরমপন্থী দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং শ্রমিক নেতা ওলিয়ার রহমান হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি ছিলেন। তবে গত কয়েক বছর ধরে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে নওয়াপাড়া ও মণিরামপুরে মৎস্য ঘের, বরফকল ও পত্রিকা প্রকাশনা (বিডি খবর) ব্যবসায় যুক্ত হন।
নিহতের পরিবারের দাবি, রানা প্রতাপ ইংরেজি সাহিত্যে উচ্চশিক্ষিত ছিলেন এবং ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাঁকে আগের মামলায় জড়ানো হয়েছিল। এলাকায় তিনি পরোপকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর ১০ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রজিউল্লাহ খান জানান, “তদন্তের স্বার্থে একজনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের পাশাপাশি ব্যবসায়িক ও পূর্ব শত্রুতার বিষয়গুলোও আমাদের নজরে আছে। দ্রুতই এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”
উল্লেখ্য, গত সোমবার বিকেলে মণিরামপুরের কপালিয়া বাজারে নিজ বরফকলের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন রানা প্রতাপ।