০৬:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জামায়াতের সঙ্গে জোট: ভাঙনের মুখে এনসিপি, পদত্যাগের হিড়িক

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:৪৭:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৮১

: চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন চরম অস্তিত্ব সংকটে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতা করার পর থেকেই দলটিতে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। আদর্শিক বিচ্যুতি ও ‘জামায়াত ট্যাগ’ এড়াতে ইতোমধ্যে দলের শীর্ষ পর্যায়ের ১৭ জন নেতা পদত্যাগ করেছেন।
গত ২৮ ডিসেম্বর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই দলে অন্তর্দ্বন্দ্বে প্রকট হয়। পদত্যাগকারী নেতাদের দাবি:: জোট গঠনটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থি।
দলের অনেক নেতাকর্মীর অভিযোগ, অন্ধকারে রেখে এই জোট করা হয়েছে এবং মনোনয়নের নামে প্রতারণা করা হয়েছে।
: মধ্যপন্থি দাবি করলেও এনসিপি এখন পুরোপুরি ডানপন্থি ঘরানায় মিশে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সদ্য পদত্যাগ করা নেত্রী নীলিমা দোলা।
নেতৃত্বে বড় ধস
দলটির নারী নেতৃত্বে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। পদত্যাগকারীদের তালিকায় রয়েছেন: সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা।
শীর্ষ নেত্রী সৈয়দা নীলিমা দোলা, ডা. তাজনূভা জাবীন এবং মনিরা শারমিন।
এছাড়া সামান্থা শারমিন ও নূসরাত তাবাসসুমসহ একাধিক নেত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দলের কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন।
দলের ভাঙন কেবল পদত্যাগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। পদত্যাগী নেতা মুনতাসীর মাহমুদের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ‘তৃণমূল এনসিপি’। এই নতুন প্ল্যাটফর্ম থেকে সাবেক দুই ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দুর্নীতি তদন্তের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিলও করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের অভিমত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এনসিপির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন:
অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী মনে করেন, নানা কারণে দল হিসেবে এনসিপি দাঁড়াতে পারবে না।
জাহেদ উর রহমান সতর্ক করেছেন যে, নির্বাচনের পর এই বিপর্যয় আরও চরম আকার ধারণ করতে পারে।
গবেষক আলতাফ পারভেজ জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখতে তরুণদের নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বর্তমানে দলটির হাইকমান্ড এই টালমাটাল পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। শীর্ষ নেতাদের অনেকেই নির্বাচনে ব্যস্ত থাকায় সাংগঠনিক এই সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলকে আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব পৌরসভা গড়ার প্রত্যয় ইমদাদুল হকের

জামায়াতের সঙ্গে জোট: ভাঙনের মুখে এনসিপি, পদত্যাগের হিড়িক

আপডেট: ১২:৪৭:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

: চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন চরম অস্তিত্ব সংকটে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতা করার পর থেকেই দলটিতে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। আদর্শিক বিচ্যুতি ও ‘জামায়াত ট্যাগ’ এড়াতে ইতোমধ্যে দলের শীর্ষ পর্যায়ের ১৭ জন নেতা পদত্যাগ করেছেন।
গত ২৮ ডিসেম্বর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই দলে অন্তর্দ্বন্দ্বে প্রকট হয়। পদত্যাগকারী নেতাদের দাবি:: জোট গঠনটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থি।
দলের অনেক নেতাকর্মীর অভিযোগ, অন্ধকারে রেখে এই জোট করা হয়েছে এবং মনোনয়নের নামে প্রতারণা করা হয়েছে।
: মধ্যপন্থি দাবি করলেও এনসিপি এখন পুরোপুরি ডানপন্থি ঘরানায় মিশে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সদ্য পদত্যাগ করা নেত্রী নীলিমা দোলা।
নেতৃত্বে বড় ধস
দলটির নারী নেতৃত্বে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। পদত্যাগকারীদের তালিকায় রয়েছেন: সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা।
শীর্ষ নেত্রী সৈয়দা নীলিমা দোলা, ডা. তাজনূভা জাবীন এবং মনিরা শারমিন।
এছাড়া সামান্থা শারমিন ও নূসরাত তাবাসসুমসহ একাধিক নেত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দলের কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন।
দলের ভাঙন কেবল পদত্যাগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। পদত্যাগী নেতা মুনতাসীর মাহমুদের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ‘তৃণমূল এনসিপি’। এই নতুন প্ল্যাটফর্ম থেকে সাবেক দুই ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দুর্নীতি তদন্তের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিলও করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের অভিমত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এনসিপির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন:
অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী মনে করেন, নানা কারণে দল হিসেবে এনসিপি দাঁড়াতে পারবে না।
জাহেদ উর রহমান সতর্ক করেছেন যে, নির্বাচনের পর এই বিপর্যয় আরও চরম আকার ধারণ করতে পারে।
গবেষক আলতাফ পারভেজ জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখতে তরুণদের নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বর্তমানে দলটির হাইকমান্ড এই টালমাটাল পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। শীর্ষ নেতাদের অনেকেই নির্বাচনে ব্যস্ত থাকায় সাংগঠনিক এই সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।