দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পরিচয় মিলেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া আটজন ‘অজ্ঞাত’ লাশের। আদালতের নির্দেশে এবং আন্তর্জাতিক ফরেনসিক প্রটোকল মেনে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করা হয়। সোমবার রায়েরবাজার কবরস্থানে এক আবেগঘন পরিবেশে স্বজনদের উপস্থিতিতে তাদের এই রাষ্ট্রীয় ও মানবিক পরিচয় প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
শোকাতুর রায়েরবাজার: সন্তানের স্পর্শ যেন গাছের পাতায়
কবরস্থানের নিস্তব্ধতা ভেঙে যায় স্বজনদের আহাজারিতে। কেউ কবরের পাশে লাগানো ছোট গাছে হাত বুলিয়ে খুঁজে ফিরছিলেন প্রিয় সন্তানের ছোঁয়া, কেউবা নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন শিয়রে। জুলাইয়ের উত্তাল দিনে আন্দোলনে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া এই মানুষগুলো ‘অজ্ঞাত’ পরিচয়ে দাফন হয়েছিলেন স্বজনদের অগোচরেই। শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষ রয়েছেন।
সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ জানান, আদালতের নির্দেশে অস্থায়ী মর্গ তৈরি করে মৃতদেহ উত্তোলন ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। এই পুরো কার্যক্রম মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন এবং আন্তর্জাতিক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ‘মিনেসোটা প্রটোকল’ অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হয়। নয়টি আবেদনের মধ্যে আটটির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে, বাকি একটির প্রক্রিয়া এখনো চলমান।
রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও অঙ্গীকার
অনুষ্ঠানে উপস্থিত উপদেষ্টাগণ শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরেন:
* মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম: “পরিচয় শনাক্তের ফলে পরিবারগুলো এখন জানে তাদের প্রিয়জন কোথায় শায়িত আছেন। এটি যেমন মানসিক শান্তির, তেমনি জাতির জন্য সম্মানের। প্রতিটি শহীদকে তাদের আপনজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
* উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান: “শহীদদের পরিচয় ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। গণঅভ্যুত্থানের সময় যারা অজ্ঞাত পরিচয়ে দাফন হয়েছিলেন, তাদের পরিচয় ফিরিয়ে দিয়ে রাষ্ট্র সেই দায়মুক্ত হচ্ছে।”
* অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী): “এটি বাংলাদেশের ফরেনসিক সক্ষমতার ইতিহাসে অন্যতম একটি বড় কাজ হয়ে থাকবে।”
> সারকথা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মদানকারী প্রতিটি মানুষের আত্মপরিচয় নিশ্চিতে সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন উপস্থিত সকলে। অজ্ঞাত পরিচয়ের আড়াল থেকে প্রিয়জনের নাম খুঁজে পাওয়ায় স্বজনদের মনে শোকের মাঝেও এক চিলতে স্বস্তি ফিরেছে।
>
১২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:
পরিচয় ফিরল ৮ ‘অজ্ঞাত’ শহীদের: রায়েরবাজারে স্বজনদের কান্নায় ভারী বাতাস
-
নিউজ ডেস্ক - আপডেট: ১২:৩৬:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
- ৬৫২
সর্বাধিক পঠিত





















