নিজস্ব প্রতিবেদক: বেনাপোল বন্দরে কাঁচামাল পণ্য মাঠে আ.লীগ আমলে গড়ে উঠা শামীমের রাম রাজত্ব বহাল তবিয়তে। জিরো থেকে হিরো বনে যাওয়া শামিমের কোটি কোটি টাকার সম্পদের গোপন রহস্য শুল্ক ফাঁকি ও স্বর্ণ চোরাচালান। স্কুলের গন্ডী পেরনো শামীম ওরফে গাজী শামীম আজ কোটি কোটি টাকার মালিক। বেনাপোল এলাকায় রয়েছে কয়েকটি আলিশান বাড়ি ও বহু সম্পদের মালিক। শামীম বেনাপোল দিঘীরপাড় এলাকার মৃত মিলন উদ্দীনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেনাপোল দিঘীরপাড় এলাকার প্রাইভেটকার চালক মৃত মিলন উদ্দীন ছেলে শামীম পিতার মৃত্যুর পর একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। কয়েক বছর চাকরি করে গাজী এক্সিম নামে একটি আমদানিকারক লাইসেন্স করে পান ও ফল আমদানি শুরু করে। আ.লীগ আমলে গড়ে উঠা শুল্কফাঁকির সিন্ডিকেট চক্রের সাথে হাত মিলালে আর পেছনে ফিরে তাঁকাতে হয়নি। বেনাপোল এলাকায় শুল্ক ফাঁকির টাকাই গড়ে তুলেছে সম্পদের পাহাড়।
গোপন অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২০২১ সালে টাকার অভাবে ব্যবসা করতে না পেরে তিন জন মিলে পার্টনারশীপ পানপাতা এলসি ব্যবসা শুরু করে শামীম গাজী-মেসার্স গাজী এক্সিম,উজ্জল বিশ্বাস-মেসার্স উৎস ইন্টারপ্রাইজ ও শাহাজান আলী-মেসার্স শিমু ইন্টারপ্রাইজ। বর্তমানে এই তিনজন শত কোটি টাকার মালিক। অনুসন্ধানে জানা যায়, আ.লীগ নেতা সামান্য টেলিকম দোকান থেকে হোন্ডি,স্বর্ণ ব্যবসায়ী উজ্জলের মাধ্যমে তিন পার্টনার মিলে পরবর্তীতে গড়ে তোলে আমদানি ব্যবসা। ইতিমধ্য অবৈধ সাম্রাজ্যে গড়ে উঠা এদের আমদানি ফেরত ফলের গাড়িতে বিএসএফ কর্তৃক স্বর্ণ উদ্ধার,আমদানি মরিচের গাড়িতে বিজিবি কর্তৃক অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বন্দরে পচনশীল পণ্য ছাড়করনে রাজস্ব কর্মকর্তার সাথে সখ্যতায় গড়ে উঠা শক্তিশালী শামীম সিন্ডিকেট। আর এ কাজে শামীমের অফিসের কর্মচারী তৈহিদ ঘুসের টাকা উত্তোলণ করছে। বেনাপোল কাস্টমস পরীক্ষণ গ্রুপের রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্রপালের আত্মীয় ঢাকার এক ফল ব্যবসায়ীর সখ্যতাই ফ্যাসিস্ট আ.লীগ নেতা উজ্জ্বল ও শামীমের কর্মচারীর মাধ্যমে আমদানিকৃত ট্রাক বড় অংকের চুক্তিতে পরীক্ষণ ছাড়াই পণ্য চালান রিপোর্ট দিচ্ছেন। এছাড়া তার প্রতিনিধি তৌহিদ ও শুভ’র মাধ্যমে কাঁচামালের মাঠ থেকে ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে ঘুসের টাকা উত্তলোণ করে থাকেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আমদানিকারক জানান, বেনাপোল বন্দরে একটি সিন্ডিকেট চক্রের মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা ঘুসের টাকা লেনদেন হচ্ছে। আর ঘুস লেনদেনের কারনে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। মূলত বর্তমান রাজস্ব কর্মকর্তা হাতে গোনা কয়েকটি ব্যবসায়ীদের সাথে বসে চুক্তি করে পরীক্ষণ রিপোর্ট দিচ্ছেন। ফলে অনান্য ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ব্যবসা থেকে ছিটকে পড়ছেন। কাগজপত্র সব ঠিক থাকলে ঘুসের টাকা দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে তিনি পণ্য চালানে টি-আর (ট্যাক্স রেগুলেশনস) দিতে নারাজ। এবং গাড়ির সব পণ্য নামিয়ে দেখা হবে বলে ভয় দেখান। অন্যদিকে তার চুক্তিকৃত ব্যবসায়ীদের চোঁখের ইশারাই ফাইল স্বাক্ষর ও বিশেষ টি-আর (ট্যাক্স রেগুলেশনস) সুবিধা প্রদান করে কোটি কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকিতে মেতে উঠেছেন।
বেনাপোলের এক সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী জানান, শুল্ক ফাঁকির টাকায় শামীম ও উজ্জল বেনাপোল-ঢাকা ও যশোরে বহু সম্পদ গড়ে তুলেছেন। সাম্প্রতি ৩০ লাখ টাকা দিয়ে শামীম (গাজী এক্সপ্রেস) এবং উজ্জল ২৮ লাখ টাকা (উৎস শিপিং লাইন্স) নামে সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স ক্রয় করেছে। এবং এসব লাইসেন্স ছাড়াও তারা অনান্য সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স ব্যবহার করে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে গাজী এক্সপ্রেস ও গাজী ইমপেক্স এর মালিক শামীমের মুঠোফোনে কল দিলে তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া গেছে।
বেনপোল বন্দরের স্থানীয় একাধিক সূত্রের দেওয়া প্রাপ্ত তথ্যে জনা যায়, বেনাপোল কাস্টমস হাউসের পরীক্ষণ গ্রুপ-৩ এর রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্র যোগদানের পর হতেই উজ্জল ও শামীমের সাথে সখ্যতা গড়ে পচনশীল পণ্য খালাসে সুবিধা দিতে সিন্ডিগেট গড়ে তুলে ঘুস বানিজ্যে লিপ্ত হয়েছেন। ৫আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী সময়ে বেনাপোল বন্দরের কাঁচামাল পণ্য পরীক্ষণে কোন অনিয়ম পাইনী কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যা জনমনে রহস্যজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ ব্যাপার। বেনাপোল কাস্টমস কর্মকর্তার লাগামহীন অনিয়ম- দূর্নীতির ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ বিষয়ে কথা বলতে কাস্টমস কমিশনার আবু হোসেন মোহাম্মদ খালিদের নাম্বারে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা যাইনী।
১২:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:
বেনাপোল কাঁচামাল পণ্য সিন্ডিকেট মূলহোতা শামীম
-
নিউজ ডেস্ক - আপডেট: ০৬:৪৭:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
- ১০২৯
সর্বাধিক পঠিত





















