যশোরের কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গৌতম রায়কে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
গৌতম রায়ের অভিযোগ, একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তাঁর কথা থামিয়ে দিয়ে শাহীন চাকলাদার তাঁকে দলীয় কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন করেন। এ সময় তাঁকে বলা হয়, ‘তোমার দল করার দরকার নাই। তোমাকে দল করতে কে বলেছে?’
গৌতম রায় বলেন, ওই বক্তব্যের প্রতিবাদ করলে শাহীন চাকলাদার তাঁকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমি এখনো বেঁচে আছি। তুই কীভাবে নেতা হোস আমি দেখে নেবো।’ একই সঙ্গে অনুষ্ঠানের সভাপতিকে তাঁকে সভা থেকে বের করে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের কেউ কেউ প্রতিবাদ জানান। তাঁদের পোস্টে দাবি করা হয়, দলীয় অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে গৌতম রায়কে হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে একজন দলীয় কর্মী অভিযোগ করেন, আলোচনাসভায় শোকের বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে গৌতম রায়কে উদ্দেশ করে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেওয়া হয়। পোস্টে শাহীন চাকলাদারের কথিত বক্তব্যের একটি অংশও তুলে ধরা হয়।
হুমকির অভিযোগের বিষয়ে গৌতম রায় আক্ষেপ করে বলেন, “বিভিন্ন অত্যাচারে এমনিতেই আমরা জর্জরিত। এরপরও যদি নিজ দলের জেলা শীর্ষ নেতারা হুমকি দেন, তাহলে আমরা যাব কোথায়?”
এ ঘটনায় কেশবপুরের পাশাপাশি যশোর জেলা পর্যায়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, দলীয় অভ্যন্তরে ভিন্নমত পোষণকারী নেতাকর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা সাংগঠনিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তবে শাহীন চাকলাদারের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।




















