০৯:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফারইস্ট লাইফের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ও স্ত্রীর ৫৭ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:৩৬:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১০

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে থাকা ৫৭ কোটি ৬১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব সম্পদের মধ্যে রয়েছে বাড়ি, ফ্ল্যাট, আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্লট এবং বিভিন্ন এলাকায় জমি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে ক্রোক করা সম্পদ বিক্রি, হস্তান্তর বা বিনিময় বন্ধে সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিস্ট্রারদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গ্রাহকদের সঞ্চয়ের অর্থ বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর করে আত্মসাৎ এবং প্রতিষ্ঠানের নামে অতিরিক্ত দামে জমি কেনার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলার তদন্তে এসব সম্পদের তথ্য পায় দুদক। সম্পদ হস্তান্তর বা অন্যত্র সরিয়ে ফেলার আশঙ্কায় সেগুলো ক্রোকের আবেদন করে সংস্থাটি।

দুদক সূত্র জানায়, নজরুল ইসলামের নামে ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুন্সিগঞ্জ, পটুয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ২০টি দলিলে স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সম্পদের সরকারি দলিলমূল্য ৩৮ কোটি ৩৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা।

নজরুল ইসলামের সম্পদের মধ্যে রাজধানীর গুলশান-বারিধারা এলাকায় ৮ কাঠা বা ১৩ দশমিক ২২২ শতাংশ জমির ওপর বাড়ি ও জমি রয়েছে, যার দলিলমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। এ ছাড়া উত্তরা ও যাত্রাবাড়ীসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জমি ও প্লট রয়েছে। ময়মনসিংহের ভালুকার হবিরবাড়ী মৌজা, মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী এবং পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটায়ও তাঁর জমি রয়েছে। কুয়াকাটায় জমির পরিমাণ প্রায় ৬ দশমিক ১৬ একর। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, বন্দর ও সদর এলাকায় একাধিক আবাসিক প্লট ও জমির তথ্য পেয়েছে দুদক।

অন্যদিকে, নজরুল ইসলামের স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ২২টি দলিলে স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সম্পদের সরকারি দলিলমূল্য ১৯ কোটি ২২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।

তাসলিমার সম্পদের মধ্যে মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পাইকপাড়া ও সলিমাবাদ এলাকায় প্রায় শতাধিক শতাংশ নাল জমি, রাজধানীর গুলশান আবাসিক এলাকায় বাড়ি এবং প্রায় ৩ হাজার বর্গফুটের একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। এ ছাড়া খিলক্ষেত, ক্যান্টনমেন্ট, বাড্ডা ও সূত্রাপুর এলাকায় জমি, প্লট ও ভবনের তথ্য পেয়েছে দুদক।

দুদকের নথি অনুযায়ী, স্বামী-স্ত্রীর নামে থাকা এসব স্থাবর সম্পদের সরকারি দলিলমূল্য ৫৭ কোটি ৬১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। তবে সম্পদগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য সরকারি দলিলমূল্যের চেয়ে অনেক বেশি বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ও উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান দুদক বিধিমালা, ২০০৭-এর সংশোধিত ২০১৯ সালের বিধিমালার ১৮ বিধি অনুযায়ী সম্পদ ক্রোকের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, সম্পদগুলো ক্রোক করা না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তা হস্তান্তর বা অন্যত্র সরিয়ে ফেলতে পারেন। নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত সম্পদ ক্রোকের আদেশ দেন।

যুক্তরাষ্ট্রে সম্পদের খোঁজ

বাংলাদেশে থাকা সম্পদের পাশাপাশি নজরুল ইসলামের বিদেশে পাচার করা অর্থ ও সম্পদের বিষয়েও অনুসন্ধান করছে দুদক। সংস্থাটির অনুসন্ধানে ২০১৫ সালে ৫ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় তিন কোটি টাকার বেশি, যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করে ওয়েলিংটনে একটি বাড়ি কেনার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে।

নজরুলের বিরুদ্ধে সাত মামলা, তদন্ত চলছে

গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রতিষ্ঠানের সম্পদ কেনাকাটায় অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগে নজরুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় (সজেকা), ঢাকা-১ বিভিন্ন সময়ে সাতটি মামলা করেছে।

মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০২২ সালের ৮ মার্চের ১ ও ২ নম্বর মামলা, একই বছরের ৮ মার্চের ১৮ নম্বর মামলা, ১২ আগস্টের ৪ নম্বর মামলা, ২০২৩ সালের ৭ এপ্রিল ও ৯ মে করা ৪ নম্বর মামলা এবং ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই করা ৩৫ নম্বর মামলা।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর ঢাকা-১ কার্যালয়ের ৩৫ নম্বর মামলায় নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের অনুমতিতে তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওই জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর নামে থাকা বিভিন্ন স্থাবর সম্পদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে দুদক।

দুদক সূত্রের দাবি, এসব মামলায় আত্মসাতের অর্থের পরিমাণ হাজার কোটি টাকার বেশি। মামলাগুলোর তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি মামলা করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে নাশকতা মামলায় আওয়ামী লীগ কর্মী টিপু সুলতান আটক

ফারইস্ট লাইফের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ও স্ত্রীর ৫৭ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক

আপডেট: ০৮:৩৬:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে থাকা ৫৭ কোটি ৬১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব সম্পদের মধ্যে রয়েছে বাড়ি, ফ্ল্যাট, আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্লট এবং বিভিন্ন এলাকায় জমি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে ক্রোক করা সম্পদ বিক্রি, হস্তান্তর বা বিনিময় বন্ধে সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিস্ট্রারদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গ্রাহকদের সঞ্চয়ের অর্থ বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর করে আত্মসাৎ এবং প্রতিষ্ঠানের নামে অতিরিক্ত দামে জমি কেনার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলার তদন্তে এসব সম্পদের তথ্য পায় দুদক। সম্পদ হস্তান্তর বা অন্যত্র সরিয়ে ফেলার আশঙ্কায় সেগুলো ক্রোকের আবেদন করে সংস্থাটি।

দুদক সূত্র জানায়, নজরুল ইসলামের নামে ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুন্সিগঞ্জ, পটুয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ২০টি দলিলে স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সম্পদের সরকারি দলিলমূল্য ৩৮ কোটি ৩৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা।

নজরুল ইসলামের সম্পদের মধ্যে রাজধানীর গুলশান-বারিধারা এলাকায় ৮ কাঠা বা ১৩ দশমিক ২২২ শতাংশ জমির ওপর বাড়ি ও জমি রয়েছে, যার দলিলমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। এ ছাড়া উত্তরা ও যাত্রাবাড়ীসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জমি ও প্লট রয়েছে। ময়মনসিংহের ভালুকার হবিরবাড়ী মৌজা, মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী এবং পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটায়ও তাঁর জমি রয়েছে। কুয়াকাটায় জমির পরিমাণ প্রায় ৬ দশমিক ১৬ একর। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, বন্দর ও সদর এলাকায় একাধিক আবাসিক প্লট ও জমির তথ্য পেয়েছে দুদক।

অন্যদিকে, নজরুল ইসলামের স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ২২টি দলিলে স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সম্পদের সরকারি দলিলমূল্য ১৯ কোটি ২২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।

তাসলিমার সম্পদের মধ্যে মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পাইকপাড়া ও সলিমাবাদ এলাকায় প্রায় শতাধিক শতাংশ নাল জমি, রাজধানীর গুলশান আবাসিক এলাকায় বাড়ি এবং প্রায় ৩ হাজার বর্গফুটের একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। এ ছাড়া খিলক্ষেত, ক্যান্টনমেন্ট, বাড্ডা ও সূত্রাপুর এলাকায় জমি, প্লট ও ভবনের তথ্য পেয়েছে দুদক।

দুদকের নথি অনুযায়ী, স্বামী-স্ত্রীর নামে থাকা এসব স্থাবর সম্পদের সরকারি দলিলমূল্য ৫৭ কোটি ৬১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। তবে সম্পদগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য সরকারি দলিলমূল্যের চেয়ে অনেক বেশি বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ও উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান দুদক বিধিমালা, ২০০৭-এর সংশোধিত ২০১৯ সালের বিধিমালার ১৮ বিধি অনুযায়ী সম্পদ ক্রোকের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, সম্পদগুলো ক্রোক করা না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তা হস্তান্তর বা অন্যত্র সরিয়ে ফেলতে পারেন। নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত সম্পদ ক্রোকের আদেশ দেন।

যুক্তরাষ্ট্রে সম্পদের খোঁজ

বাংলাদেশে থাকা সম্পদের পাশাপাশি নজরুল ইসলামের বিদেশে পাচার করা অর্থ ও সম্পদের বিষয়েও অনুসন্ধান করছে দুদক। সংস্থাটির অনুসন্ধানে ২০১৫ সালে ৫ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় তিন কোটি টাকার বেশি, যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করে ওয়েলিংটনে একটি বাড়ি কেনার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে।

নজরুলের বিরুদ্ধে সাত মামলা, তদন্ত চলছে

গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রতিষ্ঠানের সম্পদ কেনাকাটায় অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগে নজরুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় (সজেকা), ঢাকা-১ বিভিন্ন সময়ে সাতটি মামলা করেছে।

মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০২২ সালের ৮ মার্চের ১ ও ২ নম্বর মামলা, একই বছরের ৮ মার্চের ১৮ নম্বর মামলা, ১২ আগস্টের ৪ নম্বর মামলা, ২০২৩ সালের ৭ এপ্রিল ও ৯ মে করা ৪ নম্বর মামলা এবং ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই করা ৩৫ নম্বর মামলা।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর ঢাকা-১ কার্যালয়ের ৩৫ নম্বর মামলায় নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের অনুমতিতে তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওই জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর নামে থাকা বিভিন্ন স্থাবর সম্পদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে দুদক।

দুদক সূত্রের দাবি, এসব মামলায় আত্মসাতের অর্থের পরিমাণ হাজার কোটি টাকার বেশি। মামলাগুলোর তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি মামলা করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।