০২:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাস্টমস কর্মকর্তা শারমিনের বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০২:১৭:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৫

সরকারি চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা শারমিন হেলালের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তাঁর ও তাঁর স্বামী মো. মাহমুদুল ওয়াহিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শারমিন হেলালের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ।

দুদকে দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, কাস্টমসে কর্মরত থাকা অবস্থায় শারমিন হেলাল একাধিক পাসপোর্ট ব্যবহার করে গত কয়েক বছরে অন্তত চারবার থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া ভ্রমণ করেছেন। সরকারি চাকরিজীবীদের বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, সরকারি আদেশ (জিও) অথবা অনাপত্তিপত্র (NOC) প্রয়োজন হলেও এসব অনুমোদন ছাড়াই তিনি বিদেশ ভ্রমণ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে দুটি পাসপোর্টের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় ভ্রমণ করেছেন শারমিন। এর মধ্যে ২০১৭ সালের ২০ ডিসেম্বর ও ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি থাইল্যান্ড, ২০১৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর মালয়েশিয়া এবং ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর পুনরায় থাইল্যান্ড সফরের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকে করা আবেদনে শারমিন হেলাল ও তাঁর স্বামী মো. মাহমুদুল ওয়াহিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সেই অর্থ মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় ‘সেকেন্ড হোম’ গড়ে তোলার অভিযোগও করা হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা ও ময়মনসিংহ জেলায় তাঁদের নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, শারমিন হেলাল ও তাঁর স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে থাকা ব্যাংক হিসাব, সম্পদ ও আর্থিক লেনদেন অনুসন্ধান করা হলে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তাঁদের আয়কর নথিতে প্রকৃত সম্পদের তথ্য গোপন করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগে শারমিন হেলাল ও তাঁর স্বামীর আয়কর সংক্রান্ত তথ্যও যাচাইয়ের অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশ ভ্রমণ, সম্পদ অর্জন ও সম্ভাব্য অর্থ পাচারের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে।

সরকারি চাকরি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া বিদেশ গমন ও কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শারমিন হেলালের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সর্বাধিক পঠিত

কাস্টমস কর্মকর্তা শারমিনের বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ

কাস্টমস কর্মকর্তা শারমিনের বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ

আপডেট: ০২:১৭:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা শারমিন হেলালের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তাঁর ও তাঁর স্বামী মো. মাহমুদুল ওয়াহিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শারমিন হেলালের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ।

দুদকে দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, কাস্টমসে কর্মরত থাকা অবস্থায় শারমিন হেলাল একাধিক পাসপোর্ট ব্যবহার করে গত কয়েক বছরে অন্তত চারবার থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া ভ্রমণ করেছেন। সরকারি চাকরিজীবীদের বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, সরকারি আদেশ (জিও) অথবা অনাপত্তিপত্র (NOC) প্রয়োজন হলেও এসব অনুমোদন ছাড়াই তিনি বিদেশ ভ্রমণ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে দুটি পাসপোর্টের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় ভ্রমণ করেছেন শারমিন। এর মধ্যে ২০১৭ সালের ২০ ডিসেম্বর ও ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি থাইল্যান্ড, ২০১৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর মালয়েশিয়া এবং ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর পুনরায় থাইল্যান্ড সফরের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকে করা আবেদনে শারমিন হেলাল ও তাঁর স্বামী মো. মাহমুদুল ওয়াহিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সেই অর্থ মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় ‘সেকেন্ড হোম’ গড়ে তোলার অভিযোগও করা হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা ও ময়মনসিংহ জেলায় তাঁদের নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, শারমিন হেলাল ও তাঁর স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে থাকা ব্যাংক হিসাব, সম্পদ ও আর্থিক লেনদেন অনুসন্ধান করা হলে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তাঁদের আয়কর নথিতে প্রকৃত সম্পদের তথ্য গোপন করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগে শারমিন হেলাল ও তাঁর স্বামীর আয়কর সংক্রান্ত তথ্যও যাচাইয়ের অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশ ভ্রমণ, সম্পদ অর্জন ও সম্ভাব্য অর্থ পাচারের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে।

সরকারি চাকরি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া বিদেশ গমন ও কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শারমিন হেলালের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।