০৬:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইমপোর্ট পারমিট না পাওয়ায় পাঁচ দিন ধরে বেনাপোলে আটকে রেলপণ্যবাহী ট্রেন

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:৪৭:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১২

বেনাপোল প্রতিনিধি:
ঢাকার Chief Controller of Imports & Exports (CCI&E) কার্যালয় থেকে ইমপোর্ট পারমিট (IP) ইস্যু না হওয়ায় ভারত থেকে রেলপথে আসা একটি পণ্যবাহী ট্রেন গত পাঁচ দিন ধরে বেনাপোল রেলস্টেশনে আটকে রয়েছে। ট্রেনটিতে আনা মালামাল ঢাকা–টঙ্গী–জয়দেবপুর রেলওয়ে প্রকল্পের কাজে ব্যবহারের জন্য আমদানি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বেনাপোল রেলস্টেশন সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে পণ্যবাহী ট্রেনটি ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে বেনাপোল রেলস্টেশনে পৌঁছায়। কিন্তু CCI&E, ঢাকা থেকে প্রয়োজনীয় ইমপোর্ট পারমিট এখনো না পাওয়ায় কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ট্রেনটিকে নির্ধারিত আনলোডিং পয়েন্টে নেওয়াও যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ৯ সেপ্টেম্বর ইমপোর্ট পারমিটের জন্য আবেদন করা হয়। সাধারণত এ ধরনের ইমপোর্ট পারমিট পেতে ১ থেকে ২ কার্যদিবস সময় লাগলেও ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পারমিটটি ইস্যু হয়নি। ফলে ট্রেনটি বেনাপোল রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকায় প্রতিদিন রেলওয়ে ডিটেনশনসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক খরচ বাড়ছে।

দীর্ঘসূত্রতার কারণে একদিকে আমদানিকারক ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের আর্থিক ব্যয় প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন না হওয়ায় আমদানি শুল্কও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সরকার সময়মতো রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে প্রকল্পের মালামাল নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানোও বিলম্বিত হচ্ছে।

এদিকে বেনাপোল রেলস্টেশনে জায়গার সীমাবদ্ধতার মধ্যে দীর্ঘ সময় একটি সম্পূর্ণ পণ্যবাহী ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকায় স্টেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ভারত থেকে পরবর্তী পণ্যবাহী ট্রেন এলে সেগুলো গ্রহণ ও অবস্থানের জন্য জায়গার সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আমদানির সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যান্য প্রক্রিয়া প্রস্তুত থাকলেও শুধু ইমপোর্ট পারমিট ইস্যু না হওয়ার কারণে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে। প্রতিদিনের বিলম্বের সঙ্গে ডিটেনশন ও অন্যান্য খরচও বাড়ছে।

আমদানিকারক ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা সরকারি গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে প্রকল্পের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইমপোর্ট পারমিট পাওয়া গেলে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করে ট্রেনটি আনলোডিং পয়েন্টে নেওয়া সম্ভব হবে। এতে অতিরিক্ত ডিটেনশন ও আর্থিক ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আদায় এবং বেনাপোল রেলস্টেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব হবে।

সর্বাধিক পঠিত

আড়াই হাজার কোটি টাকার সিটিসিআরপি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, বহাল পিডি সাজ্জাদ কবির

ইমপোর্ট পারমিট না পাওয়ায় পাঁচ দিন ধরে বেনাপোলে আটকে রেলপণ্যবাহী ট্রেন

আপডেট: ০৪:৪৭:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বেনাপোল প্রতিনিধি:
ঢাকার Chief Controller of Imports & Exports (CCI&E) কার্যালয় থেকে ইমপোর্ট পারমিট (IP) ইস্যু না হওয়ায় ভারত থেকে রেলপথে আসা একটি পণ্যবাহী ট্রেন গত পাঁচ দিন ধরে বেনাপোল রেলস্টেশনে আটকে রয়েছে। ট্রেনটিতে আনা মালামাল ঢাকা–টঙ্গী–জয়দেবপুর রেলওয়ে প্রকল্পের কাজে ব্যবহারের জন্য আমদানি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বেনাপোল রেলস্টেশন সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে পণ্যবাহী ট্রেনটি ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে বেনাপোল রেলস্টেশনে পৌঁছায়। কিন্তু CCI&E, ঢাকা থেকে প্রয়োজনীয় ইমপোর্ট পারমিট এখনো না পাওয়ায় কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ট্রেনটিকে নির্ধারিত আনলোডিং পয়েন্টে নেওয়াও যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ৯ সেপ্টেম্বর ইমপোর্ট পারমিটের জন্য আবেদন করা হয়। সাধারণত এ ধরনের ইমপোর্ট পারমিট পেতে ১ থেকে ২ কার্যদিবস সময় লাগলেও ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পারমিটটি ইস্যু হয়নি। ফলে ট্রেনটি বেনাপোল রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকায় প্রতিদিন রেলওয়ে ডিটেনশনসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক খরচ বাড়ছে।

দীর্ঘসূত্রতার কারণে একদিকে আমদানিকারক ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের আর্থিক ব্যয় প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন না হওয়ায় আমদানি শুল্কও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সরকার সময়মতো রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে প্রকল্পের মালামাল নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানোও বিলম্বিত হচ্ছে।

এদিকে বেনাপোল রেলস্টেশনে জায়গার সীমাবদ্ধতার মধ্যে দীর্ঘ সময় একটি সম্পূর্ণ পণ্যবাহী ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকায় স্টেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ভারত থেকে পরবর্তী পণ্যবাহী ট্রেন এলে সেগুলো গ্রহণ ও অবস্থানের জন্য জায়গার সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আমদানির সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যান্য প্রক্রিয়া প্রস্তুত থাকলেও শুধু ইমপোর্ট পারমিট ইস্যু না হওয়ার কারণে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে। প্রতিদিনের বিলম্বের সঙ্গে ডিটেনশন ও অন্যান্য খরচও বাড়ছে।

আমদানিকারক ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা সরকারি গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে প্রকল্পের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইমপোর্ট পারমিট পাওয়া গেলে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করে ট্রেনটি আনলোডিং পয়েন্টে নেওয়া সম্ভব হবে। এতে অতিরিক্ত ডিটেনশন ও আর্থিক ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আদায় এবং বেনাপোল রেলস্টেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব হবে।