০৬:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৬৫ বছর বয়সেও অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে অবলার জীবনসংগ্রাম

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:০৫:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৭

বয়স ৬৫ বছর। এ বয়সে স্বজনদের সান্নিধ্যে কিছুটা নিশ্চিন্ত জীবন কাটানোর কথা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে প্রতিদিন জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন নড়াইল সদর উপজেলার সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামের অবলা বাগচী।

অবলা বাগচীর স্বামী সমীর বাগচী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। অর্থাভাবে তার নিয়মিত চিকিৎসাও করাতে পারছেন না স্ত্রী। সংসারের খরচ ও স্বামীর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে বয়সের ভার উপেক্ষা করে অন্যের জমিতে সবজি চাষ এবং ছাগল পালন করছেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, একসময় স্বামী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে অবলা বাগচীর সংসার ছিল। বর্তমানে সন্তানরা নিজেদের জীবন নিয়ে ব্যস্ত। অসুস্থ বাবা-মায়ের নিয়মিত খোঁজখবরও নেন না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অবলা ও সমীর বাগচীর নিজেদের তেমন জমিজমা নেই। অন্যের জায়গায় বসবাস করেই দিন কাটছে তাদের। স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়ার পর সংসারের পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে অবলার ওপর। কখনো অন্যের জমিতে সবজি চাষ, আবার কখনো ছাগল পালন করে সামান্য আয় করেন তিনি। সেই আয় দিয়েই কোনোভাবে সংসার চালিয়ে নিচ্ছেন।

অবলা বাগচী বলেন, “স্বামীর চিকিৎসা করানোর মতো টাকা নেই। যা আয় করি, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাই। ছেলেমেয়েরাও আমাদের খোঁজ নেয় না। অনেক কষ্টের মধ্যেও তাদের নিয়ে আমি কোনো অভিযোগ করতে চাই না।”

অভাব-অনটন ও বার্ধক্যের চাপের মধ্যেও অসুস্থ স্বামীর পাশে থেকে সংসারের হাল ধরে রেখেছেন অবলা। তার জীবনসংগ্রাম যেন গ্রামীণ অসহায় মানুষের নীরব বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি।

সর্বাধিক পঠিত

আড়াই হাজার কোটি টাকার সিটিসিআরপি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, বহাল পিডি সাজ্জাদ কবির

৬৫ বছর বয়সেও অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে অবলার জীবনসংগ্রাম

আপডেট: ০৫:০৫:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বয়স ৬৫ বছর। এ বয়সে স্বজনদের সান্নিধ্যে কিছুটা নিশ্চিন্ত জীবন কাটানোর কথা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে প্রতিদিন জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন নড়াইল সদর উপজেলার সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামের অবলা বাগচী।

অবলা বাগচীর স্বামী সমীর বাগচী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। অর্থাভাবে তার নিয়মিত চিকিৎসাও করাতে পারছেন না স্ত্রী। সংসারের খরচ ও স্বামীর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে বয়সের ভার উপেক্ষা করে অন্যের জমিতে সবজি চাষ এবং ছাগল পালন করছেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, একসময় স্বামী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে অবলা বাগচীর সংসার ছিল। বর্তমানে সন্তানরা নিজেদের জীবন নিয়ে ব্যস্ত। অসুস্থ বাবা-মায়ের নিয়মিত খোঁজখবরও নেন না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অবলা ও সমীর বাগচীর নিজেদের তেমন জমিজমা নেই। অন্যের জায়গায় বসবাস করেই দিন কাটছে তাদের। স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়ার পর সংসারের পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে অবলার ওপর। কখনো অন্যের জমিতে সবজি চাষ, আবার কখনো ছাগল পালন করে সামান্য আয় করেন তিনি। সেই আয় দিয়েই কোনোভাবে সংসার চালিয়ে নিচ্ছেন।

অবলা বাগচী বলেন, “স্বামীর চিকিৎসা করানোর মতো টাকা নেই। যা আয় করি, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাই। ছেলেমেয়েরাও আমাদের খোঁজ নেয় না। অনেক কষ্টের মধ্যেও তাদের নিয়ে আমি কোনো অভিযোগ করতে চাই না।”

অভাব-অনটন ও বার্ধক্যের চাপের মধ্যেও অসুস্থ স্বামীর পাশে থেকে সংসারের হাল ধরে রেখেছেন অবলা। তার জীবনসংগ্রাম যেন গ্রামীণ অসহায় মানুষের নীরব বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি।