১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বদলি বাণিজ্য ও ঘুষের অভিযোগ, ডিপিএইচইর দুই কর্মকর্তাকে ঘিরে তদন্তের দাবি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:১৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৭

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) চট্টগ্রাম সার্কেল, কুমিল্লা কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফিরোজ আলম চৌধুরী ও স্টেনোগ্রাফার মো. শহীদুল ইসলামকে ঘিরে বদলি বাণিজ্য, ঘুষ লেনদেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শহীদুল ইসলাম একই কর্মস্থলে থাকায় কার্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে তার প্রভাব তৈরি হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি, পেনশন, জিপিএফের অর্থ উত্তোলন এবং পিআরএলসংক্রান্ত কাজে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সার্কেলের আওতাধীন চাঁদপুর থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বদলি করিয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ নেওয়া হতো। শহীদুল ইসলাম তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফিরোজ আলম চৌধুরীর নাম ব্যবহার করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। সরাসরি অর্থ না দিলে একটি বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানোর জন্য বলা হতো—এমন দাবিও রয়েছে অভিযোগে।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, পেনশনসংক্রান্ত কাজে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা, জিপিএফের চূড়ান্ত উত্তোলনে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা এবং পিআরএল মঞ্জুরের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন পদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও বেশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার পাশাপাশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে বরিশাল সদর এলাকায় জমি ও বাড়ি, কুমিল্লার কান্দিরপাড়ে নির্মাণাধীন বহুতল ভবন, ঢাকার আফতাবনগরে ফ্ল্যাট এবং বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, এফডিআর ও সঞ্চয়পত্রে অর্থ থাকার দাবি করা হয়েছে। এসব সম্পদের অর্থের উৎস তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর এবং ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি পৃথকভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে অভিযোগ দেওয়া হয়। এসব অভিযোগে বদলি বাণিজ্য, ঘুষ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সম্পদ অর্জনের বিষয় তদন্তের দাবি জানানো হয়।

এদিকে ২০২৬ সালের আগস্টে চট্টগ্রাম সার্কেল, কুমিল্লা কার্যালয় থেকে একাধিক বদলি আদেশ জারি হয়েছে। ১৫ আগস্ট, ১৭ আগস্ট ও ৩০ আগস্ট জারি করা এসব আদেশে বিভিন্ন উপজেলার অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ও মেকানিকদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বদলি করা হয়। অভিযোগকারীরা এসব বদলি আদেশের সঙ্গে তাদের উত্থাপিত অভিযোগের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগকারীদের মতে, শহীদুল ইসলামের একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন থাকার বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে পর্যালোচনার পাশাপাশি তার চাকরির নথি, পদায়ন, বদলি-সংক্রান্ত নথি, কথিত আর্থিক লেনদেন এবং সম্পদের হিসাব তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফিরোজ আলম চৌধুরী ও শহীদুল ইসলামের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফিরোজ আলম চৌধুরী ও স্টেনোগ্রাফার মো. শহীদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগকারীরা সংশ্লিষ্ট নথি, ফোনকলের তথ্য, ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার লেনদেন, বদলি-সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

সর্বাধিক পঠিত

মনোহরদী ভূমি অফিসে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি ও ঘুষের অভিযোগ

বদলি বাণিজ্য ও ঘুষের অভিযোগ, ডিপিএইচইর দুই কর্মকর্তাকে ঘিরে তদন্তের দাবি

আপডেট: ১১:১৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) চট্টগ্রাম সার্কেল, কুমিল্লা কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফিরোজ আলম চৌধুরী ও স্টেনোগ্রাফার মো. শহীদুল ইসলামকে ঘিরে বদলি বাণিজ্য, ঘুষ লেনদেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শহীদুল ইসলাম একই কর্মস্থলে থাকায় কার্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে তার প্রভাব তৈরি হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি, পেনশন, জিপিএফের অর্থ উত্তোলন এবং পিআরএলসংক্রান্ত কাজে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সার্কেলের আওতাধীন চাঁদপুর থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বদলি করিয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ নেওয়া হতো। শহীদুল ইসলাম তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফিরোজ আলম চৌধুরীর নাম ব্যবহার করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। সরাসরি অর্থ না দিলে একটি বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানোর জন্য বলা হতো—এমন দাবিও রয়েছে অভিযোগে।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, পেনশনসংক্রান্ত কাজে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা, জিপিএফের চূড়ান্ত উত্তোলনে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা এবং পিআরএল মঞ্জুরের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন পদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও বেশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার পাশাপাশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে বরিশাল সদর এলাকায় জমি ও বাড়ি, কুমিল্লার কান্দিরপাড়ে নির্মাণাধীন বহুতল ভবন, ঢাকার আফতাবনগরে ফ্ল্যাট এবং বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, এফডিআর ও সঞ্চয়পত্রে অর্থ থাকার দাবি করা হয়েছে। এসব সম্পদের অর্থের উৎস তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর এবং ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি পৃথকভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে অভিযোগ দেওয়া হয়। এসব অভিযোগে বদলি বাণিজ্য, ঘুষ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সম্পদ অর্জনের বিষয় তদন্তের দাবি জানানো হয়।

এদিকে ২০২৬ সালের আগস্টে চট্টগ্রাম সার্কেল, কুমিল্লা কার্যালয় থেকে একাধিক বদলি আদেশ জারি হয়েছে। ১৫ আগস্ট, ১৭ আগস্ট ও ৩০ আগস্ট জারি করা এসব আদেশে বিভিন্ন উপজেলার অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ও মেকানিকদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বদলি করা হয়। অভিযোগকারীরা এসব বদলি আদেশের সঙ্গে তাদের উত্থাপিত অভিযোগের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগকারীদের মতে, শহীদুল ইসলামের একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন থাকার বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে পর্যালোচনার পাশাপাশি তার চাকরির নথি, পদায়ন, বদলি-সংক্রান্ত নথি, কথিত আর্থিক লেনদেন এবং সম্পদের হিসাব তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফিরোজ আলম চৌধুরী ও শহীদুল ইসলামের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফিরোজ আলম চৌধুরী ও স্টেনোগ্রাফার মো. শহীদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগকারীরা সংশ্লিষ্ট নথি, ফোনকলের তথ্য, ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার লেনদেন, বদলি-সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।