০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা এনসিপির জন্য ‘কঠিন মূল্য’ হতে পারে: সামান্তা শারমিন

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:৩৬:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৬৬৩

ঢাকা ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতা বা রাজনৈতিক জোট গড়া নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর ভেতরে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন এ ধরনের সমঝোতাকে এনসিপির জন্য “কঠিন মূল্য” বহনকারী এক ঝুঁকি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কড়া সতর্কবার্তা দেন।
জামায়াতের সঙ্গে জোটের গুঞ্জনের প্রেক্ষাপটে গত শনিবার এনসিপির ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে নেতারা জামায়াতের সঙ্গে কোনো প্রকার নির্বাচনী সমঝোতায় না যাওয়ার দাবি জানান। এই ঘটনার পরদিনই সামান্তা শারমিন প্রকাশ্যে তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করলেন।
সামান্তা শারমিন তাঁর পোস্টে জামায়াতে ইসলামীকে “নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক মিত্র নয়” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর প্রধান যুক্তিগুলো হলো:
নীতিগত ভিন্নতা: জাস্টিস (ন্যায়বিচার), রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও গণপরিষদ নির্বাচনের ওপর ভিত্তি করেই এনসিপির জন্ম। জামায়াতের রাষ্ট্রকল্প ও রাজনৈতিক নীতি এনসিপির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সংসদীয় সংস্কারে বাধা: তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতির আওয়াজ তুলে সংসদীয় সংস্কার বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে। সংস্কারের প্রশ্নে একমত নয় এমন দলের সঙ্গে জোট সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপি-জামায়াত বলয় থেকে দূরত্ব: সামান্তা স্পষ্ট করেন যে, জামায়াতের সমালোচনা করার অর্থ এই নয় যে তাঁরা বিএনপির পক্ষ নিচ্ছেন। বরং বিএনপি বা জামায়াত—উভয় শিবিরের সঙ্গেই জোট গড়া এনসিপির প্রতিষ্ঠাকালীন নীতি থেকে বিচ্যুত হওয়ার শামিল।
সামান্তা শারমিন তাঁর পোস্টে দলের আহ্বায়কের পূর্ববর্তী এক বক্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, যারা সংস্কারের পক্ষে নয়, তাদের সঙ্গে জোট না করার ব্যাপারে দলে আগে থেকেই একটি নৈতিক অবস্থান ছিল। এখন সেই অবস্থান থেকে সরে আসা দলের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে পরিচিত এনসিপির ভেতরে আদর্শিক লড়াই এবং জোট গঠনের সমীকরণ ততটাই জটিল হয়ে উঠছে।

সর্বাধিক পঠিত

আজ বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তে রুপির দর বাড়ল, ১০০ টাকায় মিলছে ৭৯.২০ রুপি

জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা এনসিপির জন্য ‘কঠিন মূল্য’ হতে পারে: সামান্তা শারমিন

আপডেট: ০৩:৩৬:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

ঢাকা ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতা বা রাজনৈতিক জোট গড়া নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর ভেতরে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন এ ধরনের সমঝোতাকে এনসিপির জন্য “কঠিন মূল্য” বহনকারী এক ঝুঁকি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কড়া সতর্কবার্তা দেন।
জামায়াতের সঙ্গে জোটের গুঞ্জনের প্রেক্ষাপটে গত শনিবার এনসিপির ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে নেতারা জামায়াতের সঙ্গে কোনো প্রকার নির্বাচনী সমঝোতায় না যাওয়ার দাবি জানান। এই ঘটনার পরদিনই সামান্তা শারমিন প্রকাশ্যে তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করলেন।
সামান্তা শারমিন তাঁর পোস্টে জামায়াতে ইসলামীকে “নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক মিত্র নয়” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর প্রধান যুক্তিগুলো হলো:
নীতিগত ভিন্নতা: জাস্টিস (ন্যায়বিচার), রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও গণপরিষদ নির্বাচনের ওপর ভিত্তি করেই এনসিপির জন্ম। জামায়াতের রাষ্ট্রকল্প ও রাজনৈতিক নীতি এনসিপির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সংসদীয় সংস্কারে বাধা: তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতির আওয়াজ তুলে সংসদীয় সংস্কার বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে। সংস্কারের প্রশ্নে একমত নয় এমন দলের সঙ্গে জোট সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপি-জামায়াত বলয় থেকে দূরত্ব: সামান্তা স্পষ্ট করেন যে, জামায়াতের সমালোচনা করার অর্থ এই নয় যে তাঁরা বিএনপির পক্ষ নিচ্ছেন। বরং বিএনপি বা জামায়াত—উভয় শিবিরের সঙ্গেই জোট গড়া এনসিপির প্রতিষ্ঠাকালীন নীতি থেকে বিচ্যুত হওয়ার শামিল।
সামান্তা শারমিন তাঁর পোস্টে দলের আহ্বায়কের পূর্ববর্তী এক বক্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, যারা সংস্কারের পক্ষে নয়, তাদের সঙ্গে জোট না করার ব্যাপারে দলে আগে থেকেই একটি নৈতিক অবস্থান ছিল। এখন সেই অবস্থান থেকে সরে আসা দলের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে পরিচিত এনসিপির ভেতরে আদর্শিক লড়াই এবং জোট গঠনের সমীকরণ ততটাই জটিল হয়ে উঠছে।