তুরস্কের রাজধানী আংকারার কাছে এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় লিবিয়ার সেনাপ্রধান জেনারেল মোহাম্মদ আলী আহমেদ আল-হাদ্দাদসহ আটজন নিহত হওয়ার ঘটনায় জোরদার তদন্ত শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তুরস্ক ও লিবিয়া একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আল জাজিরা ও এপি-র প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) লিবিয়ার অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান মেজর জেনারেল মাহমুদ আশুরের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সামরিক প্রতিনিধিদল আংকারার প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় পরিদর্শন করেন। তারা তুর্কি তদন্তকারী ও কৌঁসুলিদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। তুরস্কের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার রহস্য উন্মোচনে তারা লিবিয়ার সঙ্গে সকল তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বিনিময় করবে।
গত মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে আংকারার এসেনবোগা বিমানবন্দর থেকে লিবিয়ার উদ্দেশে উড্ডয়ন করে একটি ব্যক্তিগত জেট বিমান (ফ্যালকন ৫০)। বিমানে লিবিয়ার সেনাপ্রধান জেনারেল মোহাম্মদ আলী ছাড়াও দেশটির আরও চারজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও তিনজন ক্রু সদস্য ছিলেন।
উড্ডয়ন ও সংকেত: উড্ডয়নের প্রায় ১৬ মিনিট পর পাইলট বিমানে বৈদ্যুতিক ত্রুটির কথা জানিয়ে জরুরি অবতরণের অনুমতি চান।
রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন: এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বিমানটিকে পুনরায় বিমানবন্দরের দিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও মাত্র তিন মিনিট পরেই রাডারের সঙ্গে বিমানটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ধ্বংসাবশেষ: পরবর্তীতে আংকারার হাইমানা জেলার কেসিক্কাভাক গ্রামের কাছে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়।
জেনারেল আল-হাদ্দাদকে লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের সামরিক কাঠামোর প্রধান এবং দেশটির বিভক্ত সামরিক বাহিনীকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টায় একজন কারিগর হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তার আকস্মিক মৃত্যুতে লিবিয়ার সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
নিহতদের মরদেহ শনাক্তে বর্তমানে ডিএনএ পরীক্ষার কাজ চলছে। শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শেষ হলে এবং প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে জেনারেল আল-হাদ্দাদসহ অন্যদের মরদেহ লিবিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে। লিবিয়ায় ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।





















