বিধবা বোনকে কুপ্রস্তাব দেওয়ায় প্রতিবাদ করায় যশোরের সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের পাগলাদাহ গ্রামে রিকশাচালক শহিদকে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
শনিবার (সময় উল্লেখ করা নেই, ধরে নিলাম গতকাল) মধ্যরাতে চৌগাছা উপজেলার কালিয়া কুন্ডু গ্রাম থেকে আটক হওয়া দুই আসামি হলেন:
* ইয়াসিন হোসেন ওরফে ইরান (পিতা: মানিক জমাদ্দার, পাগলাদাহ গ্রাম)
* রিয়াজ হোসেন (পিতা: আনোয়ারুল ইসলাম, পাগলাদাহ গ্রাম)
নিহত শহিদের বাবা, বশির আহম্মেদ, কোতোয়ালি থানায় মোট সাতজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ ছিল:
* কুপ্রস্তাব ও প্রতিবাদ: মামলার প্রধান আসামি মিরাজ (পিতা: জাহাঙ্গির) দীর্ঘদিন ধরে শহিদের বিধবা বোন শাহিদা বেগমকে খারাপ ও অশালীন কথাবার্তা বলে আসছিল। শহিদ এর তীব্র প্রতিবাদ করলে তাদের মধ্যে শত্রুতা শুরু হয়।
* ইজিবাইক ভাড়ায় অস্বীকৃতি: সম্প্রতি শাহিদা একটি ইজিবাইক কিনলে মিরাজ সেটি ভাড়ায় নিতে যায়। পূর্বের কুপ্রস্তাব ও খারাপ আচরণের কারণে শাহিদা তাকে ইজিবাইক ভাড়া দিতে সরাসরি অস্বীকার করেন। এই প্রতিবাদ এবং ভাড়া না দেওয়াই শহিদ হত্যার মূল কারণ বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, শনিবার (সময় উল্লেখ করা নেই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পূর্বশত্রুতার জেরে পাগলাদাহ এলাকার ‘রহমানের দোকানের মোড়’ নামক স্থানে শহিদের সঙ্গে একই গ্রামের কয়েকজন যুবকের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আসামিরা শহিদকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়দের সহায়তায় শহিদের বাবা বশির আহম্মেদ তাকে দ্রুত যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলেও, কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শহিদকে মৃত ঘোষণা করেন।
মামলার বাকি পলাতক আসামিরা হলেন:
* মিরাজ (পিতা: জাহাঙ্গির)
* আলিফ (মিরাজের ভাই)
* রিয়াজ
* পিয়াস
* আমিনুল
* এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজন।





















