১১:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

যুদ্ধবিরতির পরেও থামছে না মৃত্যু: গাজায় নিহত অন্তত ৬৭ ফিলিস্তিনি শিশু

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:১৯:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৪৯

গাজায় নিহত অন্তত ৬৭ ফিলিস্তিনি শিশু, জানাল ইউনিসেফ
জেরুজালেম/জেনেভা: গাজায় যুদ্ধবিরতির সময় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬৭ জন ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে বর্ণনা করেছে সংস্থাটি। শনিবার (২২ নভেম্বর, ২০২৫) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
শুক্রবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে ইউনিসেফের মুখপাত্র রিকার্ডো পিরেস জানান, নিহতদের মধ্যে রয়েছে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত এক নবজাতক শিশু। এর আগের দিনও হামলায় আরও সাত শিশু নিহত হয়।”এরা কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক তথ্য নয়”
পিরেস জোর দিয়ে বলেন, “এটি যুদ্ধবিরতির সময় ঘটছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এরা কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক তথ্য নয়—প্রতিটি ছিল একটি শিশু, যার পরিবার, স্বপ্ন ও জীবন ছিল—যা হঠাৎ করেই সহিংসতায় থেমে গেছে।”
ইউনিসেফের পূর্ববর্তী হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৪,০০০ ফিলিস্তিনি শিশু নিহত ও আহত হয়েছে।
‘আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিশু অঙ্গহানি-বহুল অঞ্চল’
মানবাধিকার সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন এক ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করে বলেছে, ২০২৪ সালে প্রতি মাসে গড়ে ৪৭৫ জন ফিলিস্তিনি শিশু আজীবন পঙ্গুত্ব বয়ে আনবে এমন আঘাত পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরি, পোড়া ক্ষতসহ অন্যান্য গুরুতর শারীরিক ক্ষতি। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, গাজা এখন ‘আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিশু অঙ্গহানি-বহুল অঞ্চলে’ পরিণত হয়েছে।
খাদ্য সংকটও শিশুদের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে। মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বহু শিশু অপুষ্টি ও ক্ষুধাজনিত জটিলতায় মারা যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সংস্থা অভিযোগ করেছে।
চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজাজুড়ে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এলাকায় তাদের সেনাদের ওপর হামলার জবাবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। অন্যদিকে হামাস এই পদক্ষেপকে ‘গণহত্যা পুনরায় শুরু করার স্পষ্ট ইঙ্গিত’ বলে অভিহিত করেছে।
ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ) জানিয়েছে, তাদের চিকিৎসকরা সাম্প্রতিক হামলায় গুলিবিদ্ধ ও খোলা হাড় ভাঙাসহ গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত বহু নারী ও শিশুকে চিকিৎসা দিয়েছে।
আলজাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েলের অব্যাহত অবরোধের কারণে গাজায় শীতের মৌসুমে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী—বিশেষ করে তাঁবু, কম্বল, ওষুধ—মারাত্মক সংকটে পড়েছে। ইউনিসেফের মুখপাত্র রিকার্ডো পিরেস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “গাজার শিশুদের জন্য বাস্তবতা নির্মম ও স্পষ্ট: তাদের জন্য কোনো নিরাপদ স্থান নেই। শীতের আগমন তাদের জন্য নতুন হুমকি। হিটার নেই, পর্যাপ্ত কম্বল নেই—শিশুরা রাতভর কাঁপছে ঠান্ডায়।”

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে সোনা, ডলার ও ওষুধ চোরাচালানের ‘ডন’ ইকরামুলের বিরুদ্ধে বিজিবির মামলা

যুদ্ধবিরতির পরেও থামছে না মৃত্যু: গাজায় নিহত অন্তত ৬৭ ফিলিস্তিনি শিশু

আপডেট: ১০:১৯:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

গাজায় নিহত অন্তত ৬৭ ফিলিস্তিনি শিশু, জানাল ইউনিসেফ
জেরুজালেম/জেনেভা: গাজায় যুদ্ধবিরতির সময় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬৭ জন ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে বর্ণনা করেছে সংস্থাটি। শনিবার (২২ নভেম্বর, ২০২৫) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
শুক্রবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে ইউনিসেফের মুখপাত্র রিকার্ডো পিরেস জানান, নিহতদের মধ্যে রয়েছে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত এক নবজাতক শিশু। এর আগের দিনও হামলায় আরও সাত শিশু নিহত হয়।”এরা কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক তথ্য নয়”
পিরেস জোর দিয়ে বলেন, “এটি যুদ্ধবিরতির সময় ঘটছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এরা কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক তথ্য নয়—প্রতিটি ছিল একটি শিশু, যার পরিবার, স্বপ্ন ও জীবন ছিল—যা হঠাৎ করেই সহিংসতায় থেমে গেছে।”
ইউনিসেফের পূর্ববর্তী হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৪,০০০ ফিলিস্তিনি শিশু নিহত ও আহত হয়েছে।
‘আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিশু অঙ্গহানি-বহুল অঞ্চল’
মানবাধিকার সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন এক ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করে বলেছে, ২০২৪ সালে প্রতি মাসে গড়ে ৪৭৫ জন ফিলিস্তিনি শিশু আজীবন পঙ্গুত্ব বয়ে আনবে এমন আঘাত পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরি, পোড়া ক্ষতসহ অন্যান্য গুরুতর শারীরিক ক্ষতি। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, গাজা এখন ‘আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিশু অঙ্গহানি-বহুল অঞ্চলে’ পরিণত হয়েছে।
খাদ্য সংকটও শিশুদের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে। মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বহু শিশু অপুষ্টি ও ক্ষুধাজনিত জটিলতায় মারা যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সংস্থা অভিযোগ করেছে।
চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজাজুড়ে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এলাকায় তাদের সেনাদের ওপর হামলার জবাবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। অন্যদিকে হামাস এই পদক্ষেপকে ‘গণহত্যা পুনরায় শুরু করার স্পষ্ট ইঙ্গিত’ বলে অভিহিত করেছে।
ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ) জানিয়েছে, তাদের চিকিৎসকরা সাম্প্রতিক হামলায় গুলিবিদ্ধ ও খোলা হাড় ভাঙাসহ গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত বহু নারী ও শিশুকে চিকিৎসা দিয়েছে।
আলজাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েলের অব্যাহত অবরোধের কারণে গাজায় শীতের মৌসুমে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী—বিশেষ করে তাঁবু, কম্বল, ওষুধ—মারাত্মক সংকটে পড়েছে। ইউনিসেফের মুখপাত্র রিকার্ডো পিরেস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “গাজার শিশুদের জন্য বাস্তবতা নির্মম ও স্পষ্ট: তাদের জন্য কোনো নিরাপদ স্থান নেই। শীতের আগমন তাদের জন্য নতুন হুমকি। হিটার নেই, পর্যাপ্ত কম্বল নেই—শিশুরা রাতভর কাঁপছে ঠান্ডায়।”