০৫:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

বাবাকে আড়াই মিনিটে ১৭ কোপে হত্যা করল ছেলে

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:০৫:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৫৩

: স্ত্রীর সঙ্গে বাবার ‘অবৈধ সম্পর্ক’! এই অপমান, ক্ষোভ এবং প্রতিশোধের চরম পরিণতি ঘটল মাদারীপুরের শিবচরে। মাত্র আড়াই মিনিটে ১৭টি কোদালের কোপে ঘুমন্ত বাবাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছেন ছেলে ফারুক (২৭)। লোমহর্ষক এই ঘটনার পর তিনি নির্বিকারভাবে লাশের পাশে বসে ধূমপান করছিলেন।
রোববার (৯ নভেম্বর) দিবাগত রাতে শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের পঞ্চগ্রাম এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত মতিউর ইসলাম (৫০) চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট থানার হারিয়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় দিনমজুর ছিলেন।
১৭ কোপে বাবার মৃত্যু নিশ্চিত
পুলিশ জানায়, কাজ করার জন্য বাবা ও ছেলে দুজনই কয়েক দিন আগে মাদারীপুরে আসেন এবং বাঁশকান্দি এলাকায় রসুন বপনের কাজে যুক্ত ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ হিসেবে জানা যায়, রাত ১০টার দিকে ঘুমানোর আগে নিজের ছেলের স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন মতিউর ইসলাম (বাবা)। পাশের ঘরে বসে সেই কথোপকথন শুনছিলেন ছেলে ফারুক। তখনই তার মাথায় প্রতিশোধের চিন্তা ঘুরতে থাকে।
মধ্যরাত পেরিয়ে রাত সোয়া ১২টার দিকে বাবা ঘুমিয়ে পড়লে ফারুক পাশের ঘর থেকে কোদাল হাতে এসে প্রথমে বাবার মুখে কোপ দেন। এরপর মুখ, মাথা ও বুক লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি মোট ১৭টি কোপ মারেন। মাত্র আড়াই মিনিটের মধ্যেই মতিউর ইসলাম নিস্তেজ হয়ে পড়েন।
রক্তমাখা লাশের পাশে নির্বিকার
বাবাকে হত্যার পর ফারুক রক্তাক্ত লাশের পাশেই নির্বিকারভাবে বসে বিড়ি টানতে শুরু করেন। শব্দ পেয়ে বাড়ির মালিকের ছেলে ও আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে ভয়াবহ দৃশ্য দেখে সঙ্গে সঙ্গে শিবচর থানায় খবর দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ফারুককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে এবং হত্যায় ব্যবহৃত কোদাল ও রক্তমাখা জামাকাপড় জব্দ করে। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত মতিউর ইসলামের স্ত্রী (ফারুকের মা) কোহিনূর বেগম বাদী হয়ে নিজের ছেলের বিরুদ্ধে শিবচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আদালতে স্বীকারোক্তি
গ্রেপ্তারের পর সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকেলে ফারুককে আদালতে হাজির করা হলে বিচারকের কাছে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
সেখানে ফারুক জানান, তিনি যে মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন, তার বাবার সম্মতি ছিল না। পরে সেই স্ত্রীর সঙ্গেই তার বাবা ও ভাইয়ের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়িও হয় এবং এর পেছনে তিনি বাবাকেই দায়ী করেন।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বাবার বিশ্বাসঘাতকতা ও অপমান মেনে নিতে না পেরে ফারুক আগেই হত্যার পরিকল্পনা করেন। মাদারীপুরে এসে তিনি কোদাল লুকিয়ে রাখেন এবং সুযোগ বুঝে বাবাকে হত্যা করেন। হত্যার পরও তার মুখে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি।”
স্বীকারোক্তির পর আদালতের নির্দেশে ফারুককে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

সর্বাধিক পঠিত

লালমনিরহাট সীমান্তের তিন পয়েন্টে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির তৎপরতায় ব্যর্থ বিএসএফ

বাবাকে আড়াই মিনিটে ১৭ কোপে হত্যা করল ছেলে

আপডেট: ০৪:০৫:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

: স্ত্রীর সঙ্গে বাবার ‘অবৈধ সম্পর্ক’! এই অপমান, ক্ষোভ এবং প্রতিশোধের চরম পরিণতি ঘটল মাদারীপুরের শিবচরে। মাত্র আড়াই মিনিটে ১৭টি কোদালের কোপে ঘুমন্ত বাবাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছেন ছেলে ফারুক (২৭)। লোমহর্ষক এই ঘটনার পর তিনি নির্বিকারভাবে লাশের পাশে বসে ধূমপান করছিলেন।
রোববার (৯ নভেম্বর) দিবাগত রাতে শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের পঞ্চগ্রাম এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত মতিউর ইসলাম (৫০) চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট থানার হারিয়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় দিনমজুর ছিলেন।
১৭ কোপে বাবার মৃত্যু নিশ্চিত
পুলিশ জানায়, কাজ করার জন্য বাবা ও ছেলে দুজনই কয়েক দিন আগে মাদারীপুরে আসেন এবং বাঁশকান্দি এলাকায় রসুন বপনের কাজে যুক্ত ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ হিসেবে জানা যায়, রাত ১০টার দিকে ঘুমানোর আগে নিজের ছেলের স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন মতিউর ইসলাম (বাবা)। পাশের ঘরে বসে সেই কথোপকথন শুনছিলেন ছেলে ফারুক। তখনই তার মাথায় প্রতিশোধের চিন্তা ঘুরতে থাকে।
মধ্যরাত পেরিয়ে রাত সোয়া ১২টার দিকে বাবা ঘুমিয়ে পড়লে ফারুক পাশের ঘর থেকে কোদাল হাতে এসে প্রথমে বাবার মুখে কোপ দেন। এরপর মুখ, মাথা ও বুক লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি মোট ১৭টি কোপ মারেন। মাত্র আড়াই মিনিটের মধ্যেই মতিউর ইসলাম নিস্তেজ হয়ে পড়েন।
রক্তমাখা লাশের পাশে নির্বিকার
বাবাকে হত্যার পর ফারুক রক্তাক্ত লাশের পাশেই নির্বিকারভাবে বসে বিড়ি টানতে শুরু করেন। শব্দ পেয়ে বাড়ির মালিকের ছেলে ও আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে ভয়াবহ দৃশ্য দেখে সঙ্গে সঙ্গে শিবচর থানায় খবর দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ফারুককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে এবং হত্যায় ব্যবহৃত কোদাল ও রক্তমাখা জামাকাপড় জব্দ করে। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত মতিউর ইসলামের স্ত্রী (ফারুকের মা) কোহিনূর বেগম বাদী হয়ে নিজের ছেলের বিরুদ্ধে শিবচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আদালতে স্বীকারোক্তি
গ্রেপ্তারের পর সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকেলে ফারুককে আদালতে হাজির করা হলে বিচারকের কাছে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
সেখানে ফারুক জানান, তিনি যে মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন, তার বাবার সম্মতি ছিল না। পরে সেই স্ত্রীর সঙ্গেই তার বাবা ও ভাইয়ের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়িও হয় এবং এর পেছনে তিনি বাবাকেই দায়ী করেন।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বাবার বিশ্বাসঘাতকতা ও অপমান মেনে নিতে না পেরে ফারুক আগেই হত্যার পরিকল্পনা করেন। মাদারীপুরে এসে তিনি কোদাল লুকিয়ে রাখেন এবং সুযোগ বুঝে বাবাকে হত্যা করেন। হত্যার পরও তার মুখে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি।”
স্বীকারোক্তির পর আদালতের নির্দেশে ফারুককে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।