০৫:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

যশোরের এড়েন্দা বাজারে বিএনপি নেতাসহ একই পরিবারের ৫ জনকে কুপিয়ে জখম, ৩ জনের অবস্থা গুরুতর

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:৩৯:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৫৪

যশোরের এড়েন্দা বাজারে একই পরিবারের পাঁচজন সদস্যকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করার প্রস্তুতি চলছে।
আহতদের পরিচয়:
আহতদের মধ্যে রয়েছেন:
* ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জামান হোসেন (ভাই)
* সদর উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক কামাল হোসেন (ভাই)
* রবিউল (ভাই)
* শিহাব (জামান হোসেনের ছেলে)
* সোহান (জামান হোসেনের ছেলে)
হামলার সূত্রপাত:
স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জামান ও কামালের ভাইজি রিতুর শাশুড়ি সম্প্রতি মারা যান। রিতু তার শ্বশুরের সঙ্গে এড়েন্দা গ্রামের শিমুল নামের এক নারীর বিয়ে দেন। এই বিয়ে দেওয়া নিয়েই মূলত ঘটনার সূত্রপাত।
বিয়ের পর থেকেই চৌগাছায় শ্বশুর, নতুন শাশুড়ি শিমুল এবং রিতুর মধ্যে পারিবারিক গোলযোগ শুরু হয়। একদিন আগে শাশুড়ি শিমুলের সঙ্গে রিতুর হাতাহাতি হলে রিতু এড়েন্দার গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। অন্যদিকে শাশুড়ি শিমুল তার ভাই মানিক, নাসিম, সাজ্জাদ সহ কয়েকজনকে বিষয়টি জানিয়ে তাদের শায়েস্তা করার নির্দেশ দেন।
হামলার বিবরণ:
নির্দেশ পেয়ে সোমবার দুপুরে শিমুলের ভাই মানিকসহ কয়েকজন রিতুদের বাড়িতে এসে হুমকি দেন। তারা রিতু ও তার মাকে মারধর করে এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর ও লুটপাট করে চলে যায়।
পরে কামাল ও তার ভাই জামান বাড়িতে এসে বিষয়টি জানতে পারেন। তারা মানিকের কাছে ঘটনাটি জানতে যাওয়ার পথে মানিক, নাসিম, সাজ্জাদসহ প্রায় ১০-১২ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীরা কামাল হোসেনের পিঠে ও কপালে একাধিক ছুরিকাঘাত করে। জামান হোসেনের পেট ও বুকে গুরুতর জখম করা হয়। জামান-পুত্র শিহাবের পেটেও একাধিক ছুরিকাঘাত করা হয়। এ সময় পরিবারের বাকি সদস্যরাও আঘাতপ্রাপ্ত হন। হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে গেলে আহতদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকের বক্তব্য:
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক খন্দকার মাশহুরুল হক জুয়েল জানান, আহতদের মধ্যে শিহাবের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ এবং জামানের ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কামালের শরীরেও একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গুরুতর এই তিনজনকে রেফারের প্রক্রিয়া চলছে। বাকি দুজন আশঙ্কামুক্ত।
পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া:
কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল হাসনাত জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিএনপি নেতা আশরাফুজ্জামান মিঠু ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক দ্রুত হামলাকারীদের আটকের দাবি জানিয়ে বলেন, জামান ও কামাল দুজনই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত।

সর্বাধিক পঠিত

লালমনিরহাট সীমান্তের তিন পয়েন্টে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির তৎপরতায় ব্যর্থ বিএসএফ

যশোরের এড়েন্দা বাজারে বিএনপি নেতাসহ একই পরিবারের ৫ জনকে কুপিয়ে জখম, ৩ জনের অবস্থা গুরুতর

আপডেট: ০৩:৩৯:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

যশোরের এড়েন্দা বাজারে একই পরিবারের পাঁচজন সদস্যকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করার প্রস্তুতি চলছে।
আহতদের পরিচয়:
আহতদের মধ্যে রয়েছেন:
* ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জামান হোসেন (ভাই)
* সদর উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক কামাল হোসেন (ভাই)
* রবিউল (ভাই)
* শিহাব (জামান হোসেনের ছেলে)
* সোহান (জামান হোসেনের ছেলে)
হামলার সূত্রপাত:
স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জামান ও কামালের ভাইজি রিতুর শাশুড়ি সম্প্রতি মারা যান। রিতু তার শ্বশুরের সঙ্গে এড়েন্দা গ্রামের শিমুল নামের এক নারীর বিয়ে দেন। এই বিয়ে দেওয়া নিয়েই মূলত ঘটনার সূত্রপাত।
বিয়ের পর থেকেই চৌগাছায় শ্বশুর, নতুন শাশুড়ি শিমুল এবং রিতুর মধ্যে পারিবারিক গোলযোগ শুরু হয়। একদিন আগে শাশুড়ি শিমুলের সঙ্গে রিতুর হাতাহাতি হলে রিতু এড়েন্দার গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। অন্যদিকে শাশুড়ি শিমুল তার ভাই মানিক, নাসিম, সাজ্জাদ সহ কয়েকজনকে বিষয়টি জানিয়ে তাদের শায়েস্তা করার নির্দেশ দেন।
হামলার বিবরণ:
নির্দেশ পেয়ে সোমবার দুপুরে শিমুলের ভাই মানিকসহ কয়েকজন রিতুদের বাড়িতে এসে হুমকি দেন। তারা রিতু ও তার মাকে মারধর করে এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর ও লুটপাট করে চলে যায়।
পরে কামাল ও তার ভাই জামান বাড়িতে এসে বিষয়টি জানতে পারেন। তারা মানিকের কাছে ঘটনাটি জানতে যাওয়ার পথে মানিক, নাসিম, সাজ্জাদসহ প্রায় ১০-১২ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীরা কামাল হোসেনের পিঠে ও কপালে একাধিক ছুরিকাঘাত করে। জামান হোসেনের পেট ও বুকে গুরুতর জখম করা হয়। জামান-পুত্র শিহাবের পেটেও একাধিক ছুরিকাঘাত করা হয়। এ সময় পরিবারের বাকি সদস্যরাও আঘাতপ্রাপ্ত হন। হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে গেলে আহতদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকের বক্তব্য:
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক খন্দকার মাশহুরুল হক জুয়েল জানান, আহতদের মধ্যে শিহাবের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ এবং জামানের ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কামালের শরীরেও একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গুরুতর এই তিনজনকে রেফারের প্রক্রিয়া চলছে। বাকি দুজন আশঙ্কামুক্ত।
পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া:
কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল হাসনাত জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিএনপি নেতা আশরাফুজ্জামান মিঠু ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক দ্রুত হামলাকারীদের আটকের দাবি জানিয়ে বলেন, জামান ও কামাল দুজনই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত।