১০:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিক্ষকদের পদযাত্রায় পুলিশের হামলা: লাঠিচার্জ, কাঁদানি গ্যাস; আহত শতাধিক

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৫৮:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৯৩

বেতন গ্রেড বাড়ানোসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদযাত্রায় হামলা চালিয়েছে পুলিশ। শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে শিক্ষকদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড এবং জলকামান ব্যবহার করে। এই ঘটনায় শতাধিক শিক্ষক আহত হয়েছেন বলে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন।
আন্দোলন ও পুলিশের বাধা
‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ নামের চারটি শিক্ষক সংগঠনের মোর্চার ব্যানারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা আজ সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
* দশম গ্রেডে বেতন প্রদান।
* চাকরির ১০ ও ১৬ বছরে উচ্চতর গ্রেড পাওয়া নিয়ে জটিলতা নিরসন।
* শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা।
শিক্ষকদের অভিযোগ, বিনা উসকানিতে পুলিশ তাঁদের ওপর হামলা চালায়। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, শিক্ষকেরা বাধা উপেক্ষা করে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনার’ দিকে এগোতে চাইলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া
প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাছুদ অভিযোগ করেন, “শাহবাগে পুলিশের হামলায় অনেক শিক্ষক আহত হয়েছেন। কলম সমর্পণ কর্মসূচি শেষে আমাদের শহীদ মিনারে ফিরে আসার কথা ছিল।”
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর বলেন, “শিক্ষকেরা যমুনার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আহত হওয়ার বিষয়ে আমরা কোনো তথ্য এখনো পাইনি।”
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (শাহিন-লিপি) সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি জানান, ২০ হাজারেরও বেশি শিক্ষক এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই কর্মসূচি চলবে।
অন্যান্য সংগঠনের হুঁশিয়ারি
এদিকে, প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের আরেক অংশ—’প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’—একাদশ গ্রেডে বেতনসহ অন্যান্য দাবি পূরণে সরকারকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে। দাবি মানা না হলে তারা ২৩ ও ২৪ নভেম্বর অর্ধদিবস কর্মবিরতি, ২৫ ও ২৬ নভেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি এবং ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। এরপরেও দাবি পূরণ না হলে পরীক্ষা বর্জন এবং ১১ ডিসেম্বর থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে এই মোর্চা।
বর্তমানে দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার শিক্ষক কর্মরত আছেন।

সর্বাধিক পঠিত

ভারতে কারাভোগ শেষে বেনাপোল বর্ডার দিয়ে দেশে ফিরলেন ৯ বাংলাদেশি

শিক্ষকদের পদযাত্রায় পুলিশের হামলা: লাঠিচার্জ, কাঁদানি গ্যাস; আহত শতাধিক

আপডেট: ১১:৫৮:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

বেতন গ্রেড বাড়ানোসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদযাত্রায় হামলা চালিয়েছে পুলিশ। শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে শিক্ষকদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড এবং জলকামান ব্যবহার করে। এই ঘটনায় শতাধিক শিক্ষক আহত হয়েছেন বলে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন।
আন্দোলন ও পুলিশের বাধা
‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ নামের চারটি শিক্ষক সংগঠনের মোর্চার ব্যানারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা আজ সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
* দশম গ্রেডে বেতন প্রদান।
* চাকরির ১০ ও ১৬ বছরে উচ্চতর গ্রেড পাওয়া নিয়ে জটিলতা নিরসন।
* শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা।
শিক্ষকদের অভিযোগ, বিনা উসকানিতে পুলিশ তাঁদের ওপর হামলা চালায়। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, শিক্ষকেরা বাধা উপেক্ষা করে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনার’ দিকে এগোতে চাইলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া
প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাছুদ অভিযোগ করেন, “শাহবাগে পুলিশের হামলায় অনেক শিক্ষক আহত হয়েছেন। কলম সমর্পণ কর্মসূচি শেষে আমাদের শহীদ মিনারে ফিরে আসার কথা ছিল।”
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর বলেন, “শিক্ষকেরা যমুনার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আহত হওয়ার বিষয়ে আমরা কোনো তথ্য এখনো পাইনি।”
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (শাহিন-লিপি) সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি জানান, ২০ হাজারেরও বেশি শিক্ষক এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই কর্মসূচি চলবে।
অন্যান্য সংগঠনের হুঁশিয়ারি
এদিকে, প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের আরেক অংশ—’প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’—একাদশ গ্রেডে বেতনসহ অন্যান্য দাবি পূরণে সরকারকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে। দাবি মানা না হলে তারা ২৩ ও ২৪ নভেম্বর অর্ধদিবস কর্মবিরতি, ২৫ ও ২৬ নভেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি এবং ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। এরপরেও দাবি পূরণ না হলে পরীক্ষা বর্জন এবং ১১ ডিসেম্বর থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে এই মোর্চা।
বর্তমানে দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার শিক্ষক কর্মরত আছেন।