০১:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পিডিবিএফে মাহমুদ হাসানকে ঘিরে নিয়োগ-কমিশন ও গাড়ি ব্যবহারে নানা অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:৪০:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৮

:
পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) ঘিরে প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সরকারি এ প্রতিষ্ঠানের সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও যুগ্ম সচিব মো. মাহমুদ হাসানের বিরুদ্ধে জমি কেনায় কমিশন গ্রহণ, অনুমোদিত কাঠামোর বাইরে জনবল নিয়োগ, বদলি-পদায়নে অর্থ লেনদেন এবং সরকারি গাড়ি ব্যবহারে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত নয়; বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় নথিপত্র পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ১৭ অক্টোবর প্রেষণে পিডিবিএফের পরিচালক হিসেবে যোগ দেন মাহমুদ হাসান। মাত্র পাঁচ দিনের মাথায়, ২২ অক্টোবর তাঁকে ভারপ্রাপ্ত এমডির অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে বদলি করা হয় এবং ৩ মার্চ তিনি পিডিবিএফ থেকে অবমুক্ত হন।

তাঁর দায়িত্ব পালনকালে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে ঘিরেই পরবর্তী সময়ে অভিযোগ সামনে আসে। পিডিবিএফের জামালপুর অঞ্চলের তৎকালীন জ্যেষ্ঠ মাঠ কর্মকর্তা গণেশ চন্দ্র সরকার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিডিবিএফের ১০০তম পর্ষদ সভায় ১৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে জমি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। নিবন্ধন ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের জন্য আরও ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অনুমোদনের কথা উল্লেখ রয়েছে।

তদন্ত-সংক্রান্ত অভিযোগে দাবি করা হয়, জমি কেনার প্রক্রিয়া অনুমোদন ও দ্রুত সম্পন্ন করার বিনিময়ে মাহমুদ হাসান ৬০ লাখ টাকা কমিশন নিয়েছিলেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

পিডিবিএফের অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামোয় ১ হাজার ৬৬৫টি পদ থাকার কথা উল্লেখ করে অভিযোগে বলা হয়েছে, মাহমুদ হাসানের দায়িত্বকালে এর বাইরে আরও ২ হাজার ৯৫২ জনকে অনিয়মিতভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এসব অতিরিক্ত জনবলের কারণে প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় বেড়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নিয়োগগুলো কী প্রক্রিয়ায় এবং কার অনুমোদনে হয়েছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের বিষয়।

এ ছাড়া প্রায় ৪০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অর্থের বিনিময়ে পছন্দের কর্মস্থলে বদলি বা পদায়ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মাহমুদ হাসানের বিরুদ্ধে সরকারি যানবাহন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা মূল্যের ২ হাজার ৭০০ সিসির একটি গাড়ি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত থাকলেও তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান সেটি ব্যবহার করেছেন।

এ ছাড়া দাপ্তরিক ও ব্যক্তিগত কাজে মোট তিনটি সরকারি গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের ক্ষেত্রেও অনুমোদন ও বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা যাচাইয়ের বিষয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ নিয়েও অভিযোগ

মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ পাওয়া আলহাজ্ব আবুল খালেক বিশ্বাসকে ঘিরেও অভিযোগের কথা প্রতিবেদনে এসেছে। অভিযোগে তাঁর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃথক তদন্ত চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি গঠন

অভিযোগগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় বিভাগের অতিরিক্ত সচিব প্রদীপ কুমার মহোত্তমকে।

প্রথমে ২০২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হলেও পরে তা পরিবর্তন করে ৪ মার্চ করা হয়। শুনানিতে মাহমুদ হাসনাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, তথ্য-প্রমাণ ও লিখিত বক্তব্যসহ উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগ অস্বীকার মাহমুদ হাসানের

তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মো. মাহমুদ হাসান। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

মাহমুদ হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, পিডিবিএফে আগে থেকেই একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় ছিল। ওই চক্র নিয়োগ ও পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে প্রভাব বিস্তার করেছিল। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর কথিত নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আগেও পিডিবিএফের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

পিডিবিএফে অনিয়মের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, পদোন্নতি ও প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে।

২০১৪ সালে তৎকালীন এমডি মাহবুবুর রহমানকে সৌর প্রকল্পের অর্থসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২০ সালেও কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ সামনে আসে।

এ ছাড়া ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তৎকালীন এমডি মউদুদুর রশীদ সফদারের বিরুদ্ধেও পদোন্নতি, সরকারি অর্থের ব্যবহার ও চাকরিচ্যুতি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে।

সব মিলিয়ে পিডিবিএফের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। মাহমুদ হাসানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা তদন্তে নির্ধারিত হবে। একই সঙ্গে তাঁর দাবি করা কথিত ‘সিন্ডিকেট’ আদৌ ছিল কি না, থাকলে এর সঙ্গে কারা জড়িত—সেটিও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তার দায়মুক্তি—দুই ক্ষেত্রেই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত

পাবনা গণপূর্তের রাশেদ কবীরকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ

পিডিবিএফে মাহমুদ হাসানকে ঘিরে নিয়োগ-কমিশন ও গাড়ি ব্যবহারে নানা অভিযোগ

আপডেট: ১২:৪০:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

:
পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) ঘিরে প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সরকারি এ প্রতিষ্ঠানের সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও যুগ্ম সচিব মো. মাহমুদ হাসানের বিরুদ্ধে জমি কেনায় কমিশন গ্রহণ, অনুমোদিত কাঠামোর বাইরে জনবল নিয়োগ, বদলি-পদায়নে অর্থ লেনদেন এবং সরকারি গাড়ি ব্যবহারে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত নয়; বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় নথিপত্র পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ১৭ অক্টোবর প্রেষণে পিডিবিএফের পরিচালক হিসেবে যোগ দেন মাহমুদ হাসান। মাত্র পাঁচ দিনের মাথায়, ২২ অক্টোবর তাঁকে ভারপ্রাপ্ত এমডির অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে বদলি করা হয় এবং ৩ মার্চ তিনি পিডিবিএফ থেকে অবমুক্ত হন।

তাঁর দায়িত্ব পালনকালে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে ঘিরেই পরবর্তী সময়ে অভিযোগ সামনে আসে। পিডিবিএফের জামালপুর অঞ্চলের তৎকালীন জ্যেষ্ঠ মাঠ কর্মকর্তা গণেশ চন্দ্র সরকার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিডিবিএফের ১০০তম পর্ষদ সভায় ১৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে জমি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। নিবন্ধন ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের জন্য আরও ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অনুমোদনের কথা উল্লেখ রয়েছে।

তদন্ত-সংক্রান্ত অভিযোগে দাবি করা হয়, জমি কেনার প্রক্রিয়া অনুমোদন ও দ্রুত সম্পন্ন করার বিনিময়ে মাহমুদ হাসান ৬০ লাখ টাকা কমিশন নিয়েছিলেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

পিডিবিএফের অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামোয় ১ হাজার ৬৬৫টি পদ থাকার কথা উল্লেখ করে অভিযোগে বলা হয়েছে, মাহমুদ হাসানের দায়িত্বকালে এর বাইরে আরও ২ হাজার ৯৫২ জনকে অনিয়মিতভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এসব অতিরিক্ত জনবলের কারণে প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় বেড়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নিয়োগগুলো কী প্রক্রিয়ায় এবং কার অনুমোদনে হয়েছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের বিষয়।

এ ছাড়া প্রায় ৪০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অর্থের বিনিময়ে পছন্দের কর্মস্থলে বদলি বা পদায়ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মাহমুদ হাসানের বিরুদ্ধে সরকারি যানবাহন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা মূল্যের ২ হাজার ৭০০ সিসির একটি গাড়ি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত থাকলেও তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান সেটি ব্যবহার করেছেন।

এ ছাড়া দাপ্তরিক ও ব্যক্তিগত কাজে মোট তিনটি সরকারি গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের ক্ষেত্রেও অনুমোদন ও বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা যাচাইয়ের বিষয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ নিয়েও অভিযোগ

মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ পাওয়া আলহাজ্ব আবুল খালেক বিশ্বাসকে ঘিরেও অভিযোগের কথা প্রতিবেদনে এসেছে। অভিযোগে তাঁর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃথক তদন্ত চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি গঠন

অভিযোগগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় বিভাগের অতিরিক্ত সচিব প্রদীপ কুমার মহোত্তমকে।

প্রথমে ২০২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হলেও পরে তা পরিবর্তন করে ৪ মার্চ করা হয়। শুনানিতে মাহমুদ হাসনাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, তথ্য-প্রমাণ ও লিখিত বক্তব্যসহ উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগ অস্বীকার মাহমুদ হাসানের

তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মো. মাহমুদ হাসান। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

মাহমুদ হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, পিডিবিএফে আগে থেকেই একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় ছিল। ওই চক্র নিয়োগ ও পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে প্রভাব বিস্তার করেছিল। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর কথিত নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আগেও পিডিবিএফের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

পিডিবিএফে অনিয়মের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, পদোন্নতি ও প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে।

২০১৪ সালে তৎকালীন এমডি মাহবুবুর রহমানকে সৌর প্রকল্পের অর্থসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২০ সালেও কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ সামনে আসে।

এ ছাড়া ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তৎকালীন এমডি মউদুদুর রশীদ সফদারের বিরুদ্ধেও পদোন্নতি, সরকারি অর্থের ব্যবহার ও চাকরিচ্যুতি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে।

সব মিলিয়ে পিডিবিএফের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। মাহমুদ হাসানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা তদন্তে নির্ধারিত হবে। একই সঙ্গে তাঁর দাবি করা কথিত ‘সিন্ডিকেট’ আদৌ ছিল কি না, থাকলে এর সঙ্গে কারা জড়িত—সেটিও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তার দায়মুক্তি—দুই ক্ষেত্রেই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।