০৭:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

কর কমিশনার মুরাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৪৩:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • ৫১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কিছু অসাধু কর্মকর্তার অনিয়ম, দুর্নীতি ও করদাতাদের সঙ্গে যোগসাজশের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা কর অঞ্চল-৩-এর অতিরিক্ত কর কমিশনার মো. মুরাদ আহমেদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সুবিধাজনক পদে পদায়ন, করদাতাদের হয়রানি এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকালে তিনি করদাতাদের হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইল করে ঘুষ গ্রহণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর মরহুম মমতাজ উদ্দিনের ছেলে মুরাদ আহমেদ ২০০৫ সালে ২৪তম বিসিএস (কর) ক্যাডারে যোগ দেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব ও তদবিরের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে দায়িত্ব পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, যুগ্ম কর কমিশনার হিসেবে পরিদর্শী রেঞ্জ-৪, কর অঞ্চল-১৪ এবং পরবর্তী সময়ে কর অঞ্চল-১৫-এ দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে করদাতাদের হয়রানি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে তাঁকে পরিদর্শী রেঞ্জ-৩, কর অঞ্চল-৪-এ বদলি করা হলেও সেটি কার্যকর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে এনবিআরের অভ্যন্তরীণ আন্দোলনের সময় বদলি আদেশ ছিঁড়ে ফেলা ও অসদাচরণের অভিযোগে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তী বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর বেতন গ্রেড তিন ধাপ অবনমিত করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে বিশেষ প্রশাসনিক নির্দেশনায় এনবিআরের ২০ কর্মকর্তার পূর্ববর্তী দণ্ড ও শাস্তি মওকুফ করা হয়। এর আগে আগস্টে যশোর কর অঞ্চলে কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি পুনরায় ঢাকা কর অঞ্চল-৩-এ বদলি হন।

এদিকে, মুরাদ আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে তাঁর একাধিক প্লট, ফ্ল্যাট ও বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের ৩/২১ নম্বর ভবনের সপ্তম তলার এ ব্লকের একটি ফ্ল্যাটের প্রকৃত মালিকানা তাঁর বলে দাবি করা হয়েছে। ওই ভবনের ফ্ল্যাট মালিকদের তালিকায়ও তাঁর নাম রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রায় কোটি টাকা মূল্যের একটি ব্যক্তিগত গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-ঘ ১৮-৪০১১) নিজের নামে নিবন্ধন না করে ছোট ভাই মুনতাসির আহমেদের নামে নিবন্ধন করিয়ে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ছোট ভাইয়ের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, স্ত্রী মাহমুদা রশীদ, দুই ছেলে মাশরুর আহমেদ ও মাহফুজ আহমেদ এবং অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের নামে বিভিন্ন স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন তিনি। তাঁর জীবনযাপন, ব্যক্তিগত গাড়ি, চালক নিয়োগ এবং নিয়মিত ব্যয়বহুল ভ্রমণের ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি চাকরি থেকে প্রাপ্ত বৈধ আয়ের সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে অনুসন্ধানের অগ্রগতি বা এ বিষয়ে দুদকের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

রাজস্ব প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় কর আদায় ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে মুরাদ আহমেদের বক্তব্য জানতে টানা ১৫ দিন ধরে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। সরাসরি সাক্ষাতের অনুরোধেও সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

সর্বাধিক পঠিত

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শার্শায় বিএনপির সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য র‍্যালি

কর কমিশনার মুরাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

আপডেট: ১১:৪৩:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কিছু অসাধু কর্মকর্তার অনিয়ম, দুর্নীতি ও করদাতাদের সঙ্গে যোগসাজশের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা কর অঞ্চল-৩-এর অতিরিক্ত কর কমিশনার মো. মুরাদ আহমেদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সুবিধাজনক পদে পদায়ন, করদাতাদের হয়রানি এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকালে তিনি করদাতাদের হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইল করে ঘুষ গ্রহণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর মরহুম মমতাজ উদ্দিনের ছেলে মুরাদ আহমেদ ২০০৫ সালে ২৪তম বিসিএস (কর) ক্যাডারে যোগ দেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব ও তদবিরের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে দায়িত্ব পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, যুগ্ম কর কমিশনার হিসেবে পরিদর্শী রেঞ্জ-৪, কর অঞ্চল-১৪ এবং পরবর্তী সময়ে কর অঞ্চল-১৫-এ দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে করদাতাদের হয়রানি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে তাঁকে পরিদর্শী রেঞ্জ-৩, কর অঞ্চল-৪-এ বদলি করা হলেও সেটি কার্যকর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে এনবিআরের অভ্যন্তরীণ আন্দোলনের সময় বদলি আদেশ ছিঁড়ে ফেলা ও অসদাচরণের অভিযোগে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তী বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর বেতন গ্রেড তিন ধাপ অবনমিত করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে বিশেষ প্রশাসনিক নির্দেশনায় এনবিআরের ২০ কর্মকর্তার পূর্ববর্তী দণ্ড ও শাস্তি মওকুফ করা হয়। এর আগে আগস্টে যশোর কর অঞ্চলে কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি পুনরায় ঢাকা কর অঞ্চল-৩-এ বদলি হন।

এদিকে, মুরাদ আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে তাঁর একাধিক প্লট, ফ্ল্যাট ও বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের ৩/২১ নম্বর ভবনের সপ্তম তলার এ ব্লকের একটি ফ্ল্যাটের প্রকৃত মালিকানা তাঁর বলে দাবি করা হয়েছে। ওই ভবনের ফ্ল্যাট মালিকদের তালিকায়ও তাঁর নাম রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রায় কোটি টাকা মূল্যের একটি ব্যক্তিগত গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-ঘ ১৮-৪০১১) নিজের নামে নিবন্ধন না করে ছোট ভাই মুনতাসির আহমেদের নামে নিবন্ধন করিয়ে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ছোট ভাইয়ের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, স্ত্রী মাহমুদা রশীদ, দুই ছেলে মাশরুর আহমেদ ও মাহফুজ আহমেদ এবং অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের নামে বিভিন্ন স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন তিনি। তাঁর জীবনযাপন, ব্যক্তিগত গাড়ি, চালক নিয়োগ এবং নিয়মিত ব্যয়বহুল ভ্রমণের ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি চাকরি থেকে প্রাপ্ত বৈধ আয়ের সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে অনুসন্ধানের অগ্রগতি বা এ বিষয়ে দুদকের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

রাজস্ব প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় কর আদায় ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে মুরাদ আহমেদের বক্তব্য জানতে টানা ১৫ দিন ধরে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। সরাসরি সাক্ষাতের অনুরোধেও সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।