খুলনায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ কর্মসূচি শেষে সাতক্ষীরায় ফেরার পথে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বহনকারী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের পুকুরে পড়ে গেছে। এ সময় বাসের চাপায় আব্দুল খালেক মোড়ল (৬৫) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় বাসের অন্তত ৩০ থেকে অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাটকেলঘাটা থানার কুমিরা চারাবটতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল খালেক মোড়ল সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিশখালী ইউনিয়নের কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের আফতাব মোড়লের ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনায় লংমার্চের কর্মসূচি শেষে জামায়াতের নেতাকর্মীদের নিয়ে বাসটি সাতক্ষীরার উদ্দেশে ফিরছিল। পথে পাটকেলঘাটার কুমিরা চারাবটতলা এলাকায় পৌঁছালে এক পথচারী হঠাৎ সড়কের মাঝখানে চলে আসেন। তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে চালক বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় বাসের চাপায় ওই পথচারী ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং বাসটি সড়কের পাশের পুকুরে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর বাসের ভেতরে থাকা অনেক যাত্রী আটকা পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। আহতদের অধিকাংশই সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এবং জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলসহ স্থানীয় নেতারা। তাঁরা উদ্ধার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।
সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিতে লংমার্চে অংশ নেওয়া অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ছিলেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাসের নিচে কেউ আটকা পড়েছেন কি না, উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জেল হোসেন দুর্ঘটনায় এক পথচারীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।
তবে দুর্ঘটনায় আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এবং ঘটনার বিস্তারিত কারণ উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।













