০৪:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

ভুয়া দলিলে ১২ শতাংশ জমি দখলের অভিযোগ এপিপি শাহানা সুলতানা ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:৩০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • ৫১০

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় ভুয়া দলিলের মাধ্যমে ১২ শতাংশ জমি দখল এবং দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি, হুমকি ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা জজ কোর্টের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) শাহানা সুলতানা ও তাঁর স্বামী মনোয়ারুল ইসলাম নাসিমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রবাসী মো. মাকসুদুল ইসলাম নাঈম প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেছেন।

অভিযোগকারী নাঈমের দাবি, তাঁর সৎ ভাই মনোয়ারুল ইসলাম নাসিম ও তাঁর স্ত্রী শাহানা সুলতানা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পারিবারিক সম্পত্তি নিজেদের দখলে রাখার চেষ্টা করছেন। নাসিম আগে ঘোড়াশাল উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

নাঈম জানান, তাঁর বাবা প্রয়াত চিকিৎসক ডা. নজরুল ইসলাম মৃত্যুর আগে বেশ কিছু সম্পত্তি রেখে যান। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করায় এসব সম্পত্তি দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন তাঁর সৎ ভাই নাসিম। দেশে ফিরে নিজের সম্পত্তির অংশ বুঝে নিতে চাইলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। একপর্যায়ে সম্পত্তির ভাগ চাইলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ২০২১ সালের ১৬ অক্টোবর শাহানা সুলতানা তাঁর মা বেগম রেহেনা ইসলামকে মুঠোফোনে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর পলাশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১০৩২) করা হয়।

পরবর্তীতে ২০২২ সালের ২০ মার্চ নাসিমের নেতৃত্বে শাহানা সুলতানাসহ কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের জমি দখল করতে যান বলে অভিযোগ করেন নাঈম। এ সময় বাধা দিলে তাঁদের ওপর হামলা করা হয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে জমি দখলের চেষ্টা ব্যর্থ হয় বলে তাঁর দাবি।

নাঈমের অভিযোগ, স্বপন চন্দ্র দাসকে বিক্রেতা সাজিয়ে ভুয়া দলিলের মাধ্যমে ১২ শতাংশ জমি কেনা হয়েছে বলে দাবি করছেন শাহানা সুলতানা। অথচ ওই জমির প্রকৃত মালিক তিনি নিজে। এ-সংক্রান্ত রেজিস্ট্রি তথ্য হিসেবে ৫৩৬/২০১৮ নম্বরের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। বর্তমানে জমিটি শাহানা সুলতানার দখলে রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নাঈম।

এ ছাড়া জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মামলায় তাঁকে ও তাঁর পরিচিত ব্যক্তিদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন এই প্রবাসী। তাঁর ভাষ্য, ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি তাঁর বিরুদ্ধে কয়েকটি ধারায় মামলা করা হয়। পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-সংক্রান্ত হত্যা মামলাগুলোতেও কয়েকজন প্রবাসী ও নিরপরাধ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

২০২৩ সালের ১৬ মার্চ জমি দখল, প্রাণনাশের হুমকি ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে পুলিশ মহাপরিদর্শক বরাবর আবেদন করেন নাঈম। একই বছরের ৬ জুন পলাশ থানায় আরও একটি সাধারণ ডায়েরি করেন (জিডি নং-৩৩২)। তবে এসব অভিযোগের পরও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত আইনি প্রতিকার পাননি বলে দাবি তাঁর।

নাঈম আরও বলেন, দেশে ফিরলে তাঁকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে শাহানা সুলতানা হুমকি দিচ্ছেন। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে দেশে ফিরতে পারছেন না তিনি। অসুস্থ মাকে দেখতে না পারার কষ্টের পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই প্রবাসী।

তিনি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, জমির প্রকৃত মালিকানা যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এপিপি শাহানা সুলতানা ও তাঁর স্বামী মনোয়ারুল ইসলাম নাসিমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং তাঁদের বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।

সর্বাধিক পঠিত

শার্শায় নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত, যুব ঋণের চেক ও সম্মাননা স্মারক বিতরণ

ভুয়া দলিলে ১২ শতাংশ জমি দখলের অভিযোগ এপিপি শাহানা সুলতানা ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে

আপডেট: ১২:৩০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় ভুয়া দলিলের মাধ্যমে ১২ শতাংশ জমি দখল এবং দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি, হুমকি ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা জজ কোর্টের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) শাহানা সুলতানা ও তাঁর স্বামী মনোয়ারুল ইসলাম নাসিমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রবাসী মো. মাকসুদুল ইসলাম নাঈম প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেছেন।

অভিযোগকারী নাঈমের দাবি, তাঁর সৎ ভাই মনোয়ারুল ইসলাম নাসিম ও তাঁর স্ত্রী শাহানা সুলতানা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পারিবারিক সম্পত্তি নিজেদের দখলে রাখার চেষ্টা করছেন। নাসিম আগে ঘোড়াশাল উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

নাঈম জানান, তাঁর বাবা প্রয়াত চিকিৎসক ডা. নজরুল ইসলাম মৃত্যুর আগে বেশ কিছু সম্পত্তি রেখে যান। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করায় এসব সম্পত্তি দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন তাঁর সৎ ভাই নাসিম। দেশে ফিরে নিজের সম্পত্তির অংশ বুঝে নিতে চাইলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। একপর্যায়ে সম্পত্তির ভাগ চাইলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ২০২১ সালের ১৬ অক্টোবর শাহানা সুলতানা তাঁর মা বেগম রেহেনা ইসলামকে মুঠোফোনে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর পলাশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১০৩২) করা হয়।

পরবর্তীতে ২০২২ সালের ২০ মার্চ নাসিমের নেতৃত্বে শাহানা সুলতানাসহ কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের জমি দখল করতে যান বলে অভিযোগ করেন নাঈম। এ সময় বাধা দিলে তাঁদের ওপর হামলা করা হয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে জমি দখলের চেষ্টা ব্যর্থ হয় বলে তাঁর দাবি।

নাঈমের অভিযোগ, স্বপন চন্দ্র দাসকে বিক্রেতা সাজিয়ে ভুয়া দলিলের মাধ্যমে ১২ শতাংশ জমি কেনা হয়েছে বলে দাবি করছেন শাহানা সুলতানা। অথচ ওই জমির প্রকৃত মালিক তিনি নিজে। এ-সংক্রান্ত রেজিস্ট্রি তথ্য হিসেবে ৫৩৬/২০১৮ নম্বরের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। বর্তমানে জমিটি শাহানা সুলতানার দখলে রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নাঈম।

এ ছাড়া জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মামলায় তাঁকে ও তাঁর পরিচিত ব্যক্তিদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন এই প্রবাসী। তাঁর ভাষ্য, ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি তাঁর বিরুদ্ধে কয়েকটি ধারায় মামলা করা হয়। পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-সংক্রান্ত হত্যা মামলাগুলোতেও কয়েকজন প্রবাসী ও নিরপরাধ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

২০২৩ সালের ১৬ মার্চ জমি দখল, প্রাণনাশের হুমকি ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে পুলিশ মহাপরিদর্শক বরাবর আবেদন করেন নাঈম। একই বছরের ৬ জুন পলাশ থানায় আরও একটি সাধারণ ডায়েরি করেন (জিডি নং-৩৩২)। তবে এসব অভিযোগের পরও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত আইনি প্রতিকার পাননি বলে দাবি তাঁর।

নাঈম আরও বলেন, দেশে ফিরলে তাঁকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে শাহানা সুলতানা হুমকি দিচ্ছেন। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে দেশে ফিরতে পারছেন না তিনি। অসুস্থ মাকে দেখতে না পারার কষ্টের পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই প্রবাসী।

তিনি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, জমির প্রকৃত মালিকানা যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এপিপি শাহানা সুলতানা ও তাঁর স্বামী মনোয়ারুল ইসলাম নাসিমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং তাঁদের বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।