যশোরের বাঘারপাড়ায় কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনা ও সরকারি অর্থ ব্যয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময়ে ক্লাবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম, শিক্ষকদের অনিয়মিত অংশগ্রহণ এবং নাশতার বরাদ্দের অর্থ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে তদারকির দায়িত্বে থাকা দুটি জেন্ডার প্রমোটারের পদ শূন্য থাকায় প্রকল্পের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, বাঘারপাড়া উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১০টি কিশোর-কিশোরী ক্লাব রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি শুক্রবার ও শনিবার বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ক্লাবগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার কথা।
তবে অভিযোগ রয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে কয়েকটি ক্লাব সরেজমিনে পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সন্তোষজনক পাওয়া যায়নি। কোনো কোনো ক্লাবে মাত্র দু-একজন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকলেও কোথাও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাউকেই পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ ওঠা ক্লাবগুলোর মধ্যে রয়েছে জামদিয়ার ভিটাবল্যা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দোহাকুলার এনবিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ধলগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দরাজহাটের ছাতিয়ানতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বেতেলপাড়া সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বন্দবিলা বিসি রায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রায়পুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নারিকেলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাহমুদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বাঘারপাড়া পাইলট স্কুলের ক্লাব।
এদিকে, ক্লাবের সদস্যদের নাশতার জন্য বরাদ্দ অর্থের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি ক্লাবে ৩০ জন সদস্যের জন্য জনপ্রতি ২৪ টাকা হিসাবে নাশতার বরাদ্দ ধরা হয়। সে হিসাবে প্রতি কার্যদিবসে একটি ক্লাবের জন্য বরাদ্দ দাঁড়ায় ৭২০ টাকা। তবে প্রকৃত বরাদ্দ, অর্থ ছাড় ও ব্যয়ের হিসাব সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, কোনো কোনো ক্লাবে মাত্র দুই থেকে চারজন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকলেও তাঁদের নাশতার পেছনে জনপ্রতি ১০ টাকার বেশি ব্যয় করা হয় না। ফলে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের বিপরীতে বরাদ্দ অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে এবং অব্যয়িত অর্থের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া বন্দবিলা বিসি রায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্লাবের আবৃত্তি শিক্ষক ফারজানা আক্তার লিজার নিয়মিত উপস্থিতি নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি কয়েক মাস পরপর ক্লাবে উপস্থিত হন। অন্য কয়েকটি ক্লাবেও শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদান কার্যক্রমে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, উপজেলার ১০টি ক্লাবের কার্যক্রম তদারকির জন্য নির্ধারিত দুটি জেন্ডার প্রমোটারের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ফিল্ড সুপারভাইজারের নিয়মিত পরিদর্শন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাঘারপাড়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সালমা খাতুন অভিযোগকারীদের পরিচয় জানতে চান। পরে তিনি উত্থাপিত অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
তবে প্রকল্পের কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ক্লাবগুলোর উপস্থিতি খাতা, নাশতা বিতরণের রেজিস্টার, বিল-ভাউচার, বরাদ্দ ও অর্থ উত্তোলনের নথি এবং পরিদর্শন প্রতিবেদন পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কিশোর-কিশোরীদের মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিচালিত এ প্রকল্পের কার্যক্রম স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।













