০৪:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

এলজিইডির রিভার প্রকল্পের পিডির বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:২৩:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • ৫০৪

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ‘রিভার’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ বাণিজ্য, প্রকল্পে অনিয়ম এবং অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ডে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এলজিইডির সদর দপ্তরে কর্মরত সহকারী প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম (নিরাপত্তার স্বার্থে ছদ্মনাম) সম্প্রতি বিএফআইইউর নির্বাহী পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগের অনুলিপি দুদকের মানিলন্ডারিং অনুবিভাগের মহাপরিচালক এবং সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগের প্রধানের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, মো. আতিকুল ইসলামের স্ত্রী ও সন্তান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ হুন্ডিসহ বিভিন্ন অবৈধ মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করে সেখানে বাড়ি কেনা, পরিবারের বসবাসের ব্যবস্থা করা এবং ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে থাইল্যান্ডে নিয়মিত যাতায়াত এবং দেশটিতেও অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, বরিশাল জেলায় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন আতিকুল ইসলাম। ওই সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করে ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

বর্তমানে এলজিইডির গুরুত্বপূর্ণ ‘রেসিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফর অ্যাডাপটেশন অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি রিডাকশন (রিভার)’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর একই ধরনের দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয় করার অভিযোগ উঠেছে।

দাখিল করা অভিযোগে মো. আতিকুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী-সন্তান এবং সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের সদস্যদের নামে দেশে ও বিদেশে থাকা ব্যাংক হিসাব, সম্পদ এবং আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য অনুসন্ধানের দাবি জানানো হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ডে অর্থ স্থানান্তর এবং সম্পদ অর্জনের বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব জরুরি ভিত্তিতে ফ্রিজ বা জব্দ করার দাবিও জানানো হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ, অর্থ পাচার প্রতিরোধ এবং এলজিইডিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি।

এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে মো. আতিকুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগপত্রের বিষয়বস্তু জানিয়ে তাঁর বক্তব্য চাওয়া হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে অভিযোগগুলো এখনো তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।

সর্বাধিক পঠিত

শার্শায় নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত, যুব ঋণের চেক ও সম্মাননা স্মারক বিতরণ

এলজিইডির রিভার প্রকল্পের পিডির বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ

আপডেট: ১২:২৩:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ‘রিভার’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ বাণিজ্য, প্রকল্পে অনিয়ম এবং অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ডে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এলজিইডির সদর দপ্তরে কর্মরত সহকারী প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম (নিরাপত্তার স্বার্থে ছদ্মনাম) সম্প্রতি বিএফআইইউর নির্বাহী পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগের অনুলিপি দুদকের মানিলন্ডারিং অনুবিভাগের মহাপরিচালক এবং সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগের প্রধানের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, মো. আতিকুল ইসলামের স্ত্রী ও সন্তান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ হুন্ডিসহ বিভিন্ন অবৈধ মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করে সেখানে বাড়ি কেনা, পরিবারের বসবাসের ব্যবস্থা করা এবং ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে থাইল্যান্ডে নিয়মিত যাতায়াত এবং দেশটিতেও অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, বরিশাল জেলায় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন আতিকুল ইসলাম। ওই সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করে ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

বর্তমানে এলজিইডির গুরুত্বপূর্ণ ‘রেসিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফর অ্যাডাপটেশন অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি রিডাকশন (রিভার)’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর একই ধরনের দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয় করার অভিযোগ উঠেছে।

দাখিল করা অভিযোগে মো. আতিকুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী-সন্তান এবং সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের সদস্যদের নামে দেশে ও বিদেশে থাকা ব্যাংক হিসাব, সম্পদ এবং আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য অনুসন্ধানের দাবি জানানো হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ডে অর্থ স্থানান্তর এবং সম্পদ অর্জনের বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব জরুরি ভিত্তিতে ফ্রিজ বা জব্দ করার দাবিও জানানো হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ, অর্থ পাচার প্রতিরোধ এবং এলজিইডিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি।

এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে মো. আতিকুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগপত্রের বিষয়বস্তু জানিয়ে তাঁর বক্তব্য চাওয়া হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে অভিযোগগুলো এখনো তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।