শার্শা প্রতিনিধি:
যশোরের শার্শা উপজেলায় ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষায় পাসের হার ৪৫ দশমিক ৬০ শতাংশ। উপজেলার ১২টি মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২৫০ শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১৪ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ১৩৬ জন। পুরো উপজেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী।
শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য জানা গেছে। কার্যালয়ের একাডেমিক সুপারভাইজার এ কে এম নুরুজ্জামান ফলাফলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, উপজেলায় সর্বোচ্চ পাসের হার বেনাপোল মহিলা আলিম মাদ্রাসায়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১২ জন। পাসের হার ৭০ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এ ছাড়া বাগআঁচড়া ছিদ্দিকীয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় ৪০ জনের মধ্যে ২৮ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭০ শতাংশ। এখান থেকেও একজন জিপিএ-৫ পেয়েছে। নাভারণ মহিলা আলিম মাদ্রাসায় ১২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে আটজন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
বুরুজবাগান ফাজিল মাদ্রাসায় ২৮ জনের মধ্যে ১৩ জন পাস করেছে। পাসের হার ৪৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ। মহিষা পীর আব্দুস ছোবহান আলিম মাদ্রাসায় ১৮ জনের মধ্যে আটজন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
ধান্যখোলা ডিএস ফাজিল মাদ্রাসায় ১৪ জনের মধ্যে ছয়জন পাস করেছে। পাসের হার ৪২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। বেনাপোল মদিনাতুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসায় ৩০ জনের মধ্যে ১২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪০ শতাংশ।
রহিমপুর ফাজিল মাদ্রাসায় ২৯ জনের মধ্যে ১১ জন পাস করেছে। পাসের হার ৩৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। গোগা কালিয়ানি আলিম মাদ্রাসায় ২১ জনের মধ্যে সাতজন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
অন্যদিকে, বসতপুর ফাজিল মাদ্রাসায় ১২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র তিনজন। পাসের হার ২৫ শতাংশ। সামটা ছিদ্দিকীয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ১৪ জনের মধ্যে তিনজন পাস করেছে। পাসের হার ২১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
উপজেলায় সর্বনিম্ন পাসের হার বাগআঁচড়া মহিলা আলিম মাদ্রাসায়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র তিনজন। পাসের হার ২০ শতাংশ।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপজেলার ১২টি মাদ্রাসার মধ্যে নয়টিতে পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে। এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৩০ শতাংশেরও কম। জিপিএ-৫ পাওয়া তিন শিক্ষার্থী হলো বেনাপোল মহিলা আলিম মাদ্রাসা, বাগআঁচড়া ছিদ্দিকীয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা ও ধান্যখোলা ডিএস ফাজিল মাদ্রাসার।
সার্বিক ফলাফলে অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় উপজেলার মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষার মান ও পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল পর্যালোচনা করে দুর্বলতার কারণ চিহ্নিত করা জরুরি। একই সঙ্গে পাঠদানের মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মূল্যায়ন এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন।













