১১:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

একরামুল হক হত্যা মামলা শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৫২:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৪

কক্সবাজারের টেকনাফে কথিত বন্দুকযুদ্ধে পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর)।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে ট্রাইব্যুনালের পূর্ণ বেঞ্চ না থাকায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়। আজ ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি করবে রাষ্ট্রপক্ষ।

এ মামলায় বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন চারজন। তাঁরা হলেন কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম এবং র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান।

অন্যদিকে, শেখ হাসিনাসহ সাত আসামি পলাতক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ।

এর আগে, গত ৭ সেপ্টেম্বর মামলার পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে ২৫ আগস্ট তাঁদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

৭ সেপ্টেম্বর মামলার নির্ধারিত হাজিরার দিনে গ্রেপ্তার চার আসামি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হলেও পলাতক সাত আসামি আত্মসমর্পণ করেননি। পরে ২৬ জুলাই ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফের কিরণতলীতে হোটেল নেটংয়ের সামনের সড়ক থেকে একরামুল হককে তুলে নেওয়া হয়। পরে রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়াপাড়ায় মেরিন ড্রাইভের সাগরতীরে র‍্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন।

একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে আটক, অপহরণ, বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে গুলি করে হত্যা, অপরাধ সংঘটনে সংশ্লিষ্টতা, প্ররোচনা, সহায়তা এবং হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আজকের শুনানিতে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপনের কথা রয়েছে। অভিযোগ গঠন হলে মামলাটির পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে অভিযোগ গঠন বা অভিযোগ আমলে নেওয়া নিজে থেকেই আসামিদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়া বোঝায় না।

সর্বাধিক পঠিত

ভৈরবের ওসির বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

একরামুল হক হত্যা মামলা শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ

আপডেট: ০৯:৫২:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফে কথিত বন্দুকযুদ্ধে পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর)।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে ট্রাইব্যুনালের পূর্ণ বেঞ্চ না থাকায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়। আজ ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি করবে রাষ্ট্রপক্ষ।

এ মামলায় বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন চারজন। তাঁরা হলেন কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম এবং র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান।

অন্যদিকে, শেখ হাসিনাসহ সাত আসামি পলাতক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ।

এর আগে, গত ৭ সেপ্টেম্বর মামলার পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে ২৫ আগস্ট তাঁদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

৭ সেপ্টেম্বর মামলার নির্ধারিত হাজিরার দিনে গ্রেপ্তার চার আসামি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হলেও পলাতক সাত আসামি আত্মসমর্পণ করেননি। পরে ২৬ জুলাই ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফের কিরণতলীতে হোটেল নেটংয়ের সামনের সড়ক থেকে একরামুল হককে তুলে নেওয়া হয়। পরে রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়াপাড়ায় মেরিন ড্রাইভের সাগরতীরে র‍্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন।

একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে আটক, অপহরণ, বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে গুলি করে হত্যা, অপরাধ সংঘটনে সংশ্লিষ্টতা, প্ররোচনা, সহায়তা এবং হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আজকের শুনানিতে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপনের কথা রয়েছে। অভিযোগ গঠন হলে মামলাটির পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে অভিযোগ গঠন বা অভিযোগ আমলে নেওয়া নিজে থেকেই আসামিদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়া বোঝায় না।