সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বাসের ছবি সংবলিত একটি পোস্টে ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্য করার অভিযোগে আবু বকর সিদ্দিকের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক রমনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় এ আদেশ দেন। সিএমএম আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ২৩ অক্টোবর এ মামলায় আবু বকর সিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। একই দিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াছিন পাইক তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, মন্তব্যের নেপথ্যে কোনো সুসংগঠিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা অস্ত্র সরবরাহকারী চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। পাশাপাশি গ্রেপ্তার ব্যক্তি কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, চক্র বা নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি, চক্র বা পরিকল্পনাকারীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা, জব্দ করা আলামতের বাইরে অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইস বা তথ্যপ্রমাণ উদ্ধার এবং মামলার এজাহারে উল্লেখ করা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার জন্য আসামিকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য রোববার আবু বকর সিদ্দিককে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক তাঁর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর ফেসবুকে ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি গ্রুপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী একটি বাসের তিনটি ছবি পোস্ট করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য লাল-সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসের পরিবর্তে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) বাস ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।
ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে বিতর্কিত মন্তব্যটি করা হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই ফেসবুক আইডির ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করার পর রাজশাহী মহানগরীর পবা থানার ঘোলহাড়িয়া দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় রমনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির তদন্ত চলছে।





















