আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪৭ কোটি টাকা) মূল্যের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বিক্রি ও হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন দেশটির হাইকোর্ট।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থের উৎস ও সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) আদালতের এই পদক্ষেপ চেয়েছিল।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, ফ্ল্যাটটির প্রকৃত মালিকানা আড়াল করার উদ্দেশ্যে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার মাত্র এক পাউন্ডের বিনিময়ে তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। সম্পত্তি কেনার অর্থের বৈধ উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এনসিএ।
আদালতের নথি অনুযায়ী, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিদেশে গড়ে তোলা সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের বৃহত্তর তদন্তের অংশ হিসেবে ফ্ল্যাটটি নিয়ে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের বিদেশি সম্পদের উৎস নিয়ে তদন্ত জোরদার হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৯২ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত সময়ে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তির মালিকানা গড়ে তোলেন।
এর আগে ২০২৫ সালের জুনে সাবেক ভূমমন্ত্রীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড মূল্যের সম্পদ নিয়ে যুক্তরাজ্যে আইনি পদক্ষেপের খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
আদালতের শুনানিতে বিচারপতি ক্যারেন স্টেইন সম্পত্তিটি অপরাধলব্ধ অর্থে কেনা হয়ে থাকতে পারে—এমন সন্দেহের পক্ষে যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সম্পত্তিটির চূড়ান্ত মালিকানা ও অর্থের উৎস নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে, আনিসুজ্জামান চৌধুরী তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাজ্যের অর্থ পাচারবিরোধী আইন অনুযায়ী, সন্দেহজনক সম্পদের মালিকানা ও অর্থের উৎস অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আদালতের সহায়তা নিতে পারে। লন্ডনের এই মামলায় ফ্ল্যাট বিক্রি ও হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও এটিকে সম্পত্তির অবৈধ উৎস সম্পর্কে চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।




















