বেনাপোল প্রতিনিধি: বেনাপোল চেকপোস্টে কর্মরত কাস্টমস ও শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি অনলাইন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। চোরাচালান প্রতিরোধে নিরাপত্তা জোরদার এবং স্বর্ণসহ অবৈধ পণ্য আটকে তৎপরতা বাড়ানোর কারণে স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি মহল এ ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, চেকপোস্টকেন্দ্রিক একটি চক্র নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সুবিধা না পেয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। কাস্টমস, বন্দর ও প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার নামে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে চক্রটির বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, লিটন নামে এক ব্যক্তি ও তাঁর আত্মীয় সুমন নামের আরেক ব্যক্তি ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে এসব প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য জানা যায়নি।
বেনাপোল স্থলবন্দরে আমদানি পণ্যের শুল্ক আদায় যথাযথ হচ্ছে কি না এবং পাসপোর্টধারী যাত্রীদের মাধ্যমে চোরাচালান হচ্ছে কি না, তা তদারকি করে কাস্টমস ও শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি চেকপোস্টে যাত্রীদের ব্যাগ ও শরীর তল্লাশি করে স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সূত্রটির দাবি, গত সপ্তাহেও স্বর্ণের বারসহ এক পাসপোর্টধারী যাত্রীকে আটক করা হয়েছে। চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সম্প্রতি চেকপোস্ট এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এতে স্বর্ণ, বৈদেশিক মুদ্রা ও অবৈধ পণ্য আটকের ক্ষেত্রে সাফল্য এসেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
আমদানিকারক আতিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বিভিন্ন পেশার পরিচয় ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি ভুয়া ফেসবুক পেজ তৈরি করছেন। পরে তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সম্মানহানিকর বক্তব্য প্রকাশ করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, আর্থিক সুবিধা নেওয়ার পর কোনো কোনো পোস্ট সরিয়ে ফেলা হয়।
তিনি ‘অবিচল সত্যের পথে’, ‘প্রজন্ম ৭১’ ও ‘সত্যবাদী’ নামের কয়েকটি ফেসবুক পেজের কথা উল্লেখ করে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। তবে পেজগুলোর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে চেকপোস্টে শুল্ক গোয়েন্দা সদস্যদের দায়িত্ব পালন না থাকায় এ ধরনের স্বর্ণের চালান আটকের ঘটনা ঘটত না বলে তাঁদের অভিজ্ঞতা। বর্তমানে দায়িত্ব পালনের পর থেকে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের তল্লাশি করে একাধিক স্বর্ণের চালান আটক করা হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হলে একটি শ্রেণির মানুষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত হয় বলে তাঁরা মনে করেন। এসব প্রচারণায় তাঁরা বিচলিত নন। তবে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সবাইকে পেশাদারত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি জানান, চোরাচালান প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাস্টমসের পাশাপাশি শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।




















