০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সাভার সেটেলমেন্ট অফিসে বহিরাগত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৭

সাভার উপজেলা সেটেলমেন্ট কার্যালয়ে সরকারি পদে নিয়োগপ্রাপ্ত না হয়েও পেশকারের দায়িত্ব পালনের অভিযোগ উঠেছে শাহজাহান কবির নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। জমির নথি সংশোধন ও শুনানির নামে অর্থ আদায় এবং ব্যক্তিগত কার্যালয়ে লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী জমির মালিকেরা। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শাহজাহান কবির সরকারি চাকরিজীবী নন এবং সেটেলমেন্ট অফিসের মাস্টাররোলভুক্ত কর্মচারীও নন। তা সত্ত্বেও তিনি নিয়মিত কার্যালয়ে পেশকারের ভূমিকা পালন করছেন বলে দাবি তাঁদের।

তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহজাহান কবিরের পোশাক-পরিচ্ছদ ও চলাফেরার ধরন দেখে অনেকেই তাঁকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলে মনে করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি আদালতের নথিপত্র পরিচালনা করেন এবং মামলার শুনানির কার্যক্রমেও যুক্ত থাকেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, জমিসংক্রান্ত মামলার ফাইল আটকে রাখা থেকে শুরু করে মামলার কার্যক্রম প্রভাবিত করার ক্ষেত্রেও শাহজাহান কবিরের ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে জমির মালিকদের আলমনগর হাউজিং এলাকার একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে জমির নথি সংশোধনের কথা বলে দরকষাকষির মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করা হয়।

কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগ, জমিসংক্রান্ত আইনি জটিলতায় পড়া ব্যক্তিদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাঁদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ, নির্দিষ্ট লেনদেনের নথি কিংবা ভুক্তভোগীর সুনির্দিষ্ট সংখ্যা পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীদের দাবি, শাহজাহান কবির সাভার উপজেলা সেটেলমেন্ট কার্যালয়ের বড় বরদেশী আদালতের সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা সেলিনা পারভীনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেন।

তবে তাঁদের মধ্যে কী ধরনের পেশাগত বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে এবং অভিযোগে উল্লেখিত কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তার ভূমিকা আছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সরকারি নিয়োগ ছাড়াই একজন ব্যক্তি কীভাবে একটি সংবেদনশীল সরকারি কার্যালয়ে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সেবাপ্রার্থীরা। তাঁদের মতে, জমির রেকর্ড ও নথি সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শাহজাহান কবিরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা সেলিনা পারভীন, সাভার উপজেলা সেটেলমেন্ট কার্যালয়ের কর্তৃপক্ষ কিংবা ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের বক্তব্যও প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে কি না কিংবা শাহজাহান কবিরের কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে কোনো সরকারি নথি রয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া জরুরি। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তবে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে গণ্য করা যায় না।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে অস্ত্র-গুলিসহ আটক কাদেরের ১৭ বছরের কারাদণ্ড

সাভার সেটেলমেন্ট অফিসে বহিরাগত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ

আপডেট: ১০:০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

সাভার উপজেলা সেটেলমেন্ট কার্যালয়ে সরকারি পদে নিয়োগপ্রাপ্ত না হয়েও পেশকারের দায়িত্ব পালনের অভিযোগ উঠেছে শাহজাহান কবির নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। জমির নথি সংশোধন ও শুনানির নামে অর্থ আদায় এবং ব্যক্তিগত কার্যালয়ে লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী জমির মালিকেরা। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শাহজাহান কবির সরকারি চাকরিজীবী নন এবং সেটেলমেন্ট অফিসের মাস্টাররোলভুক্ত কর্মচারীও নন। তা সত্ত্বেও তিনি নিয়মিত কার্যালয়ে পেশকারের ভূমিকা পালন করছেন বলে দাবি তাঁদের।

তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহজাহান কবিরের পোশাক-পরিচ্ছদ ও চলাফেরার ধরন দেখে অনেকেই তাঁকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলে মনে করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি আদালতের নথিপত্র পরিচালনা করেন এবং মামলার শুনানির কার্যক্রমেও যুক্ত থাকেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, জমিসংক্রান্ত মামলার ফাইল আটকে রাখা থেকে শুরু করে মামলার কার্যক্রম প্রভাবিত করার ক্ষেত্রেও শাহজাহান কবিরের ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে জমির মালিকদের আলমনগর হাউজিং এলাকার একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে জমির নথি সংশোধনের কথা বলে দরকষাকষির মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করা হয়।

কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগ, জমিসংক্রান্ত আইনি জটিলতায় পড়া ব্যক্তিদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাঁদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ, নির্দিষ্ট লেনদেনের নথি কিংবা ভুক্তভোগীর সুনির্দিষ্ট সংখ্যা পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীদের দাবি, শাহজাহান কবির সাভার উপজেলা সেটেলমেন্ট কার্যালয়ের বড় বরদেশী আদালতের সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা সেলিনা পারভীনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেন।

তবে তাঁদের মধ্যে কী ধরনের পেশাগত বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে এবং অভিযোগে উল্লেখিত কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তার ভূমিকা আছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সরকারি নিয়োগ ছাড়াই একজন ব্যক্তি কীভাবে একটি সংবেদনশীল সরকারি কার্যালয়ে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সেবাপ্রার্থীরা। তাঁদের মতে, জমির রেকর্ড ও নথি সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শাহজাহান কবিরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা সেলিনা পারভীন, সাভার উপজেলা সেটেলমেন্ট কার্যালয়ের কর্তৃপক্ষ কিংবা ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের বক্তব্যও প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে কি না কিংবা শাহজাহান কবিরের কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে কোনো সরকারি নথি রয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া জরুরি। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তবে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে গণ্য করা যায় না।