ঢাকার সাভারে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের আটকের পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত দুই মাসে বিভিন্ন ঘটনায় প্রায় ৩৮ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মাদকসহ ব্যক্তিদের আটকের পর তাঁদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে উদ্ধার করা মাদকের প্রকৃত পরিমাণ গোপন করে কম পরিমাণ মাদক দেখিয়ে মামলা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগের একটি ঘটনা আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার। সেখানে এক নারীকে আটকের পর পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং পরে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ওই নারীর দাবি, আটকের সময় তাঁর হাতে জোরপূর্বক হেরোইন দিয়ে ছবি তোলা হয় এবং টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৩০ আগস্ট আশুলিয়ার কাইচাবাড়ি এলাকা থেকে এক হাজার পিস ইয়াবা ও চার কেজি গাঁজাসহ দুই ব্যক্তিকে আটকের পর অর্থের বিনিময়ে তাঁদের একজনকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অন্যজনের ক্ষেত্রেও অর্থ লেনদেন এবং উদ্ধার করা মাদকের পরিমাণ কম দেখিয়ে মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া আমিনবাজার, কাউন্দিয়া, মজিতপুর, ভাদাইল ও শ্রীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদকসহ ব্যক্তিদের আটকের পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এসব ঘটনার ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন, মামলা ও জব্দতালিকার তথ্য যাচাই করা জরুরি।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে স্থানীয় সোর্স নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মাদক কারবারিদের আটক ও পরে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি, অভিযানসংক্রান্ত তথ্য এবং আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই মতিউর রহমান অভিযোগগুলো মিথ্যা বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, এসব বিষয় নিয়ে তাঁকে ফোন করা হচ্ছে এবং অভিযোগগুলো সত্য নয়।
তবে অভিযোগের প্রতিটি ঘটনার বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উঠে আসে
ঢাকা জেলা উত্তর ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
এদিকে, পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) জাহিদুল ইসলাম খানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ-সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে সংবাদটি সরানোর কারণ সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
অভিযোগে উল্লিখিত অর্থের কোনো অংশ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছিল কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ, আর্থিক লেনদেন যাচাই এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।




















