গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার সাবেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এস এম ওমর আলী ও তাঁর স্ত্রী হোসনে আরার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে মোট ২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৭ হাজার ৫৫৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ময়মনসিংহের দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. বলু মিয়া এজাহার দুটি দায়ের করেন।
দুদকের এজাহার সূত্রে জানা যায়, হোসনে আরা তাঁর দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৩ কোটি ৮৮ লাখ ৪৭ হাজার ৪৭৯ টাকার সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেন। যাচাই-বাছাই ও আয়কর নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৯-২০২০ করবর্ষ পর্যন্ত তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৯২ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৩ টাকা। একই সময়ে পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ছিল ৫২ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫৩ টাকা।
এজাহারের হিসাব অনুযায়ী, এসব তথ্য পর্যালোচনায় তাঁর অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ কোটি ৯৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। গ্রহণযোগ্য আয়ের সঙ্গে সম্পদের হিসাব বিশ্লেষণ করে ১ কোটি ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৫০৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পেয়েছে দুদক।
মামলায় হোসনে আরার স্বামী এস এম ওমর আলীকেও আসামি করা হয়েছে। দুদকের অভিযোগ, অসৎ উপায়ে অর্জিত অর্থ বৈধ করার উদ্দেশ্যে স্ত্রীর নামে সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেন তিনি।
অন্যদিকে, এস এম ওমর আলীর বিরুদ্ধে পৃথক মামলায় ১ কোটি ৬২ লাখ ৭৯ হাজার ৪৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপন এবং ২৭(১) ধারায় জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক এই সরকারি কর্মকর্তা ও তাঁর স্ত্রীর সম্পদের উৎস এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে তদন্তের মাধ্যমে অনিয়মের বিষয়গুলো যাচাই করা হবে। তবে মামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের দোষী বলা যাবে না।





















