০৯:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর ও কার্যালয়ের ছাদে ককটেল বিস্ফোরণ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৫৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৫

কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের গাড়ি ভাঙচুর এবং দলীয় কার্যালয়ের ছাদে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর মোগলটুলীতে মহানগর জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মহানগর জামায়াতের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। বুধবার সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে কমিটি গঠন নিয়ে বৈঠক চলাকালে সেই বিরোধ প্রকাশ্যে আসে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, নতুন কমিটিতে বর্তমান সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান আমির হতে পারেন—এমন আলোচনা থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ উঠেছে, মাহবুবুর রহমানের বিরোধী পক্ষের কয়েকজন দলীয় কার্যালয়ের সামনে তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করেন। একই সময় কার্যালয়ের ছাদে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।

জানা গেছে, ঘটনার আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মাহবুবুর রহমান কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ফোন করেন। সহসাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন ও দাওয়াহ ও তথ্য সম্পাদক হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সহসাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

দলীয় সূত্রের দাবি, বুধবার রাতেই মহানগর জামায়াতের নতুন কমিটি গঠনের জন্য ভোট গ্রহণের সম্ভাবনা ছিল। এ নিয়ে চলমান বৈঠকে সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান তাঁর অনুসারীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর বিরোধী পক্ষের কয়েকজন দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা এতে জড়িত, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার বিষয়ে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোশাররফ হোসেন বলেন, “এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা মিডিয়ায় ব্রিফিং দেব। আমাদের মিটিং চলছে।”

অন্যদিকে, মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, “ঘটনাটি আমি শুনেছি। সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ পাঠিয়েছি। এই মুহূর্তে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ভেতরে জামায়াতের ঊর্ধ্বতন নেতারা আছেন।”

ঘটনার পর দলীয় কার্যালয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ কিংবা পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

সর্বাধিক পঠিত

নোয়াখালী পাসপোর্ট অফিসে দালাল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস ডিডি মেহেদীর

কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর ও কার্যালয়ের ছাদে ককটেল বিস্ফোরণ

আপডেট: ০৯:৫৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের গাড়ি ভাঙচুর এবং দলীয় কার্যালয়ের ছাদে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর মোগলটুলীতে মহানগর জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মহানগর জামায়াতের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। বুধবার সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে কমিটি গঠন নিয়ে বৈঠক চলাকালে সেই বিরোধ প্রকাশ্যে আসে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, নতুন কমিটিতে বর্তমান সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান আমির হতে পারেন—এমন আলোচনা থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ উঠেছে, মাহবুবুর রহমানের বিরোধী পক্ষের কয়েকজন দলীয় কার্যালয়ের সামনে তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করেন। একই সময় কার্যালয়ের ছাদে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।

জানা গেছে, ঘটনার আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মাহবুবুর রহমান কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ফোন করেন। সহসাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন ও দাওয়াহ ও তথ্য সম্পাদক হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সহসাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

দলীয় সূত্রের দাবি, বুধবার রাতেই মহানগর জামায়াতের নতুন কমিটি গঠনের জন্য ভোট গ্রহণের সম্ভাবনা ছিল। এ নিয়ে চলমান বৈঠকে সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান তাঁর অনুসারীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর বিরোধী পক্ষের কয়েকজন দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা এতে জড়িত, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার বিষয়ে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোশাররফ হোসেন বলেন, “এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা মিডিয়ায় ব্রিফিং দেব। আমাদের মিটিং চলছে।”

অন্যদিকে, মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, “ঘটনাটি আমি শুনেছি। সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ পাঠিয়েছি। এই মুহূর্তে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ভেতরে জামায়াতের ঊর্ধ্বতন নেতারা আছেন।”

ঘটনার পর দলীয় কার্যালয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ কিংবা পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।