০৯:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের এআরও গোলাম হাসনাইনের বিরুদ্ধে কোটি টাকার ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৫০:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০১

কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট ঢাকা (উত্তর)-এর সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) চৌধুরী গোলাম হাসনাইনের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন, বন্ড সুবিধার অপব্যবহারে সহযোগিতা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, সাবেক কমিশনার আবু ওবায়দা ও সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার দেলোয়ার হোসেনের দায়িত্বকালে কথিত এই চক্রের প্রভাব বিস্তার ঘটে। এ ঘটনায় প্রতি মাসে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও সামনে এসেছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট আর্থিক নথি, লেনদেনের প্রমাণ কিংবা তদন্তের ফলাফল পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ, কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা আদায়ের একটি বলয় গড়ে উঠেছে। বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির সঙ্গে জড়িত কিছু ব্যবসায়ী ও মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তার যোগাযোগ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকতে পারে। এ ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে শুল্ক-কর ফাঁকি এবং সরকারি রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের নাম, চালান নম্বর, শুল্ক নির্ধারণসংক্রান্ত নথি কিংবা রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ পাওয়া যায়নি। তাই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক নথি ও আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

কথিত সিন্ডিকেটে কয়েকজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সিপাহির সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার দেলোয়ার হোসেনের পৃষ্ঠপোষকতা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া কমিশনারের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) মজনু মিয়াসহ আরও কয়েকজনের নাম অভিযোগের সূত্রে এসেছে।

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, কথিত অনিয়মে তাঁদের ভূমিকা কিংবা অভিযোগের সমর্থনে কোনো নথি প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

সূত্রগুলোর দাবি, এর আগে বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালেও গোলাম হাসনাইনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছিল। তবে পূর্ববর্তী কর্মস্থলের নাম, বিভাগীয় তদন্তের ফলাফল কিংবা কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থার নথি পাওয়া যায়নি।

কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের কার্যক্রম নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের বাধা ও হুমকির মুখে পড়ার অভিযোগও উঠেছে।

একাধিক সংবাদকর্মীর দাবি, সংবাদ সংগ্রহের জন্য কার্যালয়ে গেলে তাঁদের প্রবেশপথের গেটে আটকে দেওয়া হয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য নিতে চাইলেও তাঁদের কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

কয়েকজন সাংবাদিকের ভাষ্য, সংবাদ প্রকাশ বন্ধ রাখার জন্য একটি কথিত ‘লাঠিয়াল বাহিনী’র মাধ্যমে হুমকি ও লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটেছে। তবে এসব ঘটনার তারিখ, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা লিখিত অভিযোগের অনুলিপি পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাগুলোর স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

এ বিষয়ে নতুন কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

### সম্পদের উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি

অভিযোগকারীদের দাবি, ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে অল্প সময়ের চাকরিজীবনে গোলাম হাসনাইন বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নজরে রয়েছে বলেও কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দাবি করেছেন।

তবে তাঁর সম্পদের পরিমাণ, বৈধ আয়ের উৎস, সম্পদ বিবরণী কিংবা দুদকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান বা তদন্ত শুরুর বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ অবস্থায় অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আয়-ব্যয়ের তথ্য, সম্পদ বিবরণী এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে দাপ্তরিক নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

### বক্তব্য জানতে ফোন, সম্পাদকের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ

চৌধুরী গোলাম হাসনাইনের বক্তব্য জানতে তাঁকে ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর তিনি নিজেই সম্পাদককে ফোন করেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ সময় তিনি বলেন, “আমরা সাত ভাই, আমাদের নামে কোনো সম্পত্তি নেই। আমার ওয়াইফ ভালো স্যালারির জব করে।”

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে সম্পাদককে উদ্দেশ করে বলেন, “তোর নামে মামলা করব, তুই কত বড় সাংবাদিক দেখছি আমি, বস্তির টোকাই তোরা।”

তবে কথোপকথনের কোনো অডিও রেকর্ড বা স্বতন্ত্র সাক্ষ্য প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য ও ঘটনার স্বাধীন যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।

সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট ঢাকা (উত্তর)-এর নতুন কমিশনার অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করবেন। প্রাথমিক যাচাইয়ে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

বিশেষ করে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্যের ব্যবহার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র, শুল্ক-কর পরিশোধের হিসাব এবং দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পরীক্ষা করা হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

একই সঙ্গে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের সুযোগ, সরকারি দপ্তরে প্রবেশসংক্রান্ত বিধি এবং অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নিশ্চিত করাও জরুরি।

অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রামাণ্য নথির বিকল্প নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নির্দোষ ব্যক্তির অধিকারও সুরক্ষিত রাখতে হবে। এতে বন্ড ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং সরকারি রাজস্ব সুরক্ষার পথ সুগম হতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত

কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের এআরও গোলাম হাসনাইনের বিরুদ্ধে কোটি টাকার ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ

কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের এআরও গোলাম হাসনাইনের বিরুদ্ধে কোটি টাকার ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট: ০৯:৫০:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট ঢাকা (উত্তর)-এর সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) চৌধুরী গোলাম হাসনাইনের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন, বন্ড সুবিধার অপব্যবহারে সহযোগিতা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, সাবেক কমিশনার আবু ওবায়দা ও সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার দেলোয়ার হোসেনের দায়িত্বকালে কথিত এই চক্রের প্রভাব বিস্তার ঘটে। এ ঘটনায় প্রতি মাসে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও সামনে এসেছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট আর্থিক নথি, লেনদেনের প্রমাণ কিংবা তদন্তের ফলাফল পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ, কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা আদায়ের একটি বলয় গড়ে উঠেছে। বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির সঙ্গে জড়িত কিছু ব্যবসায়ী ও মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তার যোগাযোগ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকতে পারে। এ ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে শুল্ক-কর ফাঁকি এবং সরকারি রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের নাম, চালান নম্বর, শুল্ক নির্ধারণসংক্রান্ত নথি কিংবা রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ পাওয়া যায়নি। তাই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক নথি ও আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

কথিত সিন্ডিকেটে কয়েকজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সিপাহির সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার দেলোয়ার হোসেনের পৃষ্ঠপোষকতা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া কমিশনারের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) মজনু মিয়াসহ আরও কয়েকজনের নাম অভিযোগের সূত্রে এসেছে।

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, কথিত অনিয়মে তাঁদের ভূমিকা কিংবা অভিযোগের সমর্থনে কোনো নথি প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

সূত্রগুলোর দাবি, এর আগে বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালেও গোলাম হাসনাইনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছিল। তবে পূর্ববর্তী কর্মস্থলের নাম, বিভাগীয় তদন্তের ফলাফল কিংবা কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থার নথি পাওয়া যায়নি।

কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের কার্যক্রম নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের বাধা ও হুমকির মুখে পড়ার অভিযোগও উঠেছে।

একাধিক সংবাদকর্মীর দাবি, সংবাদ সংগ্রহের জন্য কার্যালয়ে গেলে তাঁদের প্রবেশপথের গেটে আটকে দেওয়া হয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য নিতে চাইলেও তাঁদের কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

কয়েকজন সাংবাদিকের ভাষ্য, সংবাদ প্রকাশ বন্ধ রাখার জন্য একটি কথিত ‘লাঠিয়াল বাহিনী’র মাধ্যমে হুমকি ও লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটেছে। তবে এসব ঘটনার তারিখ, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা লিখিত অভিযোগের অনুলিপি পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাগুলোর স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

এ বিষয়ে নতুন কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

### সম্পদের উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি

অভিযোগকারীদের দাবি, ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে অল্প সময়ের চাকরিজীবনে গোলাম হাসনাইন বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নজরে রয়েছে বলেও কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দাবি করেছেন।

তবে তাঁর সম্পদের পরিমাণ, বৈধ আয়ের উৎস, সম্পদ বিবরণী কিংবা দুদকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান বা তদন্ত শুরুর বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ অবস্থায় অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আয়-ব্যয়ের তথ্য, সম্পদ বিবরণী এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে দাপ্তরিক নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

### বক্তব্য জানতে ফোন, সম্পাদকের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ

চৌধুরী গোলাম হাসনাইনের বক্তব্য জানতে তাঁকে ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর তিনি নিজেই সম্পাদককে ফোন করেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ সময় তিনি বলেন, “আমরা সাত ভাই, আমাদের নামে কোনো সম্পত্তি নেই। আমার ওয়াইফ ভালো স্যালারির জব করে।”

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে সম্পাদককে উদ্দেশ করে বলেন, “তোর নামে মামলা করব, তুই কত বড় সাংবাদিক দেখছি আমি, বস্তির টোকাই তোরা।”

তবে কথোপকথনের কোনো অডিও রেকর্ড বা স্বতন্ত্র সাক্ষ্য প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য ও ঘটনার স্বাধীন যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।

সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট ঢাকা (উত্তর)-এর নতুন কমিশনার অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করবেন। প্রাথমিক যাচাইয়ে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

বিশেষ করে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্যের ব্যবহার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র, শুল্ক-কর পরিশোধের হিসাব এবং দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পরীক্ষা করা হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

একই সঙ্গে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের সুযোগ, সরকারি দপ্তরে প্রবেশসংক্রান্ত বিধি এবং অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নিশ্চিত করাও জরুরি।

অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রামাণ্য নথির বিকল্প নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নির্দোষ ব্যক্তির অধিকারও সুরক্ষিত রাখতে হবে। এতে বন্ড ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং সরকারি রাজস্ব সুরক্ষার পথ সুগম হতে পারে।