নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে কারাগারে রেখেই ভার্চুয়ালি বিচারকাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থেকে এ পদ্ধতিতে তার মামলার কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম।
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের জেরা আজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এ জেরায় অংশ নেবেন।
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম জানান, গত শুনানিতে জিয়াউল আহসান নিজের জীবননাশের আশঙ্কা উল্লেখ করে একটি আবেদন করেন। আবেদনে অন্য আসামিদের সঙ্গে একই প্রিজন ভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে আসার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
তবে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ওই আবেদনে আপত্তি জানায় প্রসিকিউশন। তামীম বলেন, একই প্রিজন ভ্যানে একাধিক আসামিকে আনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হলে জিয়াউল আহসানসহ অন্য বন্দিদের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে তাকে ট্রাইব্যুনালে আনার পরিবর্তে কারাগারে রেখেই ভার্চুয়ালি হাজির করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রসিকিউশনের সেই আবেদন মঞ্জুর করে ট্রাইব্যুনাল এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রসিকিউটর আরও জানান, কারাগার ও ট্রাইব্যুনালে ভার্চুয়াল শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় অডিও-ভিজ্যুয়াল ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে জিয়াউল আহসান বিচারকের বক্তব্য, আইনজীবীদের যুক্তি ও প্রসিকিউশনের বক্তব্য শুনতে পারবেন। একইভাবে কারাগার থেকে তার বক্তব্যও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।
করোনাকালীন সময়ে আদালতের কার্যক্রমে ভার্চুয়াল উপস্থিতির নজির তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রচলিত আইনের আওতায় সে সময় আসামি, সাক্ষী ও বিচারকেরাও ভার্চুয়ালি আদালতের কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।
এদিকে, গত ৮ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের জবানবন্দি গ্রহণ শেষ হয়। জবানবন্দিতে তিনি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ তুলে ধরেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পর সেগুলো ধামাচাপা দিতে নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনিক তদন্ত এবং মিথ্যা ময়নাতদন্ত ও পুলিশ প্রতিবেদন তৈরির অভিযোগও করেন তিনি। এসব অভিযোগ এখনো বিচারাধীন।
মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন। প্রথম অভিযোগে ২০১১ সালের ১১ জুলাই গাজীপুরের পুবাইলে সজলসহ তিনজনকে হত্যার কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটা এলাকায় বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তৃতীয় অভিযোগে একই সময়ে তথাকথিত বনদস্যু দমনের নামে আরও ৫০ জনকে হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নেন। একই দিন তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে ২৩ ডিসেম্বর তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।




















