১১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে হত্যার অভিযোগ, ধানক্ষেতে মিলল ধস্তাধস্তির চিহ্ন

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৪০:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫২১

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, কিশোরীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশের একাধিক দল।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলের কাছেই পড়ে থাকতে দেখা যায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। পরে সেটি জব্দ করে পুলিশ।

সরেজমিনে দেখা যায়, নির্জন সড়কের পাশের ফসলি মাঠের কয়েকটি ধানক্ষেতে গাছপালা এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে ওই কিশোরী ধানক্ষেতের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তি করেছিল। অটোরিকশা থেকে কিছুটা দূরে একটি ভ্যানিটি ব্যাগও পাওয়া যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন জানান, সকালে ধানক্ষেতে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে থাকার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। গাড়ি থেকে ২০ থেকে ৩০ গজ দূরে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ দেখতে পান। পরে আশপাশের ধানক্ষেতে এলোমেলো গাছপালা ও ধস্তাধস্তির চিহ্ন অনুসরণ করে সামনে এগিয়ে কিশোরীর মরদেহ দেখতে পান।

তিনি বলেন, মরদেহের মাথা কাদায় ডোবানো ছিল এবং গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, ধানক্ষেতের অবস্থা দেখে মনে হয়েছে, ওই কিশোরী বাঁচার জন্য অনেক চেষ্টা করেছিল। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

পুলিশের অনুসন্ধান অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পরও ওই কিশোরী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে কুমিল্লায় আসার পর সে কক্সবাজারে যায়।

পুলিশ জানায়, বুধবার দুপুরের পর কক্সবাজার থেকে বাসে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেয় কিশোরীটি। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে পাওয়া অটোরিকশার ভেতরে কিছু পোশাক ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া গেছে। তবে সেগুলো নিহত কিশোরীর কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং কিশোরীটি কীভাবে ওই স্থানে পৌঁছেছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

সর্বাধিক পঠিত

ডেঙ্গু আক্রান্ত সবুজ হোসেনকে দেখতে গেলেন বেনাপোল পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী ইমদাদুল হক ইমদাদ ও তাঁর সহকর্মীরা

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে হত্যার অভিযোগ, ধানক্ষেতে মিলল ধস্তাধস্তির চিহ্ন

আপডেট: ১১:৪০:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, কিশোরীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশের একাধিক দল।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলের কাছেই পড়ে থাকতে দেখা যায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। পরে সেটি জব্দ করে পুলিশ।

সরেজমিনে দেখা যায়, নির্জন সড়কের পাশের ফসলি মাঠের কয়েকটি ধানক্ষেতে গাছপালা এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে ওই কিশোরী ধানক্ষেতের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তি করেছিল। অটোরিকশা থেকে কিছুটা দূরে একটি ভ্যানিটি ব্যাগও পাওয়া যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন জানান, সকালে ধানক্ষেতে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে থাকার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। গাড়ি থেকে ২০ থেকে ৩০ গজ দূরে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ দেখতে পান। পরে আশপাশের ধানক্ষেতে এলোমেলো গাছপালা ও ধস্তাধস্তির চিহ্ন অনুসরণ করে সামনে এগিয়ে কিশোরীর মরদেহ দেখতে পান।

তিনি বলেন, মরদেহের মাথা কাদায় ডোবানো ছিল এবং গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, ধানক্ষেতের অবস্থা দেখে মনে হয়েছে, ওই কিশোরী বাঁচার জন্য অনেক চেষ্টা করেছিল। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

পুলিশের অনুসন্ধান অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পরও ওই কিশোরী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে কুমিল্লায় আসার পর সে কক্সবাজারে যায়।

পুলিশ জানায়, বুধবার দুপুরের পর কক্সবাজার থেকে বাসে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেয় কিশোরীটি। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে পাওয়া অটোরিকশার ভেতরে কিছু পোশাক ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া গেছে। তবে সেগুলো নিহত কিশোরীর কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং কিশোরীটি কীভাবে ওই স্থানে পৌঁছেছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।