১১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

নোয়াখালীতে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে,

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৩৪:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫১৮

নোয়াখালীর কবিরহাটে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের এক ইউনিয়ন সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই কর্মকর্তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি, আরেক নারীকে ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তিন হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়।

অভিযুক্ত সমাজকর্মীর নাম মফিজুর রহমান। তিনি কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নবগ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অধীনে নরোত্তমপুর, চাপরাশিরহাট, বাটইয়া ইউনিয়ন ও কবিরহাট পৌরসভা এলাকায় সমাজকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে কবিরহাট উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে মফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলা হলে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নিজেই বলে স্বীকার করেন। তবে ভিডিওতে থাকা ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

মফিজুর রহমানের দাবি, ওই নারী তাঁর পূর্বপরিচিত। একদিন ওই নারী তাঁকে একটি কক্ষে নিয়ে শরবতের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে খাওয়ান। এরপর কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪ মিনিট ৪১ সেকেন্ডের ভিডিওতে মফিজুর রহমানকে এক নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায় বলে জানা গেছে। ওই নারী বাটইয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন ওই সমাজকর্মী। তবে অভিযোগটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে আরেক নারীকে ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তিন হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ-সংক্রান্ত একটি অডিও কথোপকথনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কথোপকথনে বিকাশের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার প্রসঙ্গ উঠলে তাঁকে নগদে টাকা পরিশোধের কথা বলতে শোনা যায়। তবে অডিওটির সত্যতা ও কথোপকথনের প্রেক্ষাপট আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কবিরহাট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অভিযোগ ও ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

নোয়াখালী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক জেড এম মিজানুর রহমান খান বলেন, অভিযোগ ও ভিডিওর বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। ঘটনাটি তদন্তের জন্য জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন, অর্থ ও প্রতিষ্ঠান শাখা) মোহাম্মদ আবুল কাশেমকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য ও সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই অভিযোগগুলোর সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দায় সম্পর্কে নিশ্চহওয়া যাবে।

সর্বাধিক পঠিত

ডেঙ্গু আক্রান্ত সবুজ হোসেনকে দেখতে গেলেন বেনাপোল পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী ইমদাদুল হক ইমদাদ ও তাঁর সহকর্মীরা

নোয়াখালীতে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে,

আপডেট: ১১:৩৪:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

নোয়াখালীর কবিরহাটে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের এক ইউনিয়ন সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই কর্মকর্তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি, আরেক নারীকে ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তিন হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়।

অভিযুক্ত সমাজকর্মীর নাম মফিজুর রহমান। তিনি কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নবগ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অধীনে নরোত্তমপুর, চাপরাশিরহাট, বাটইয়া ইউনিয়ন ও কবিরহাট পৌরসভা এলাকায় সমাজকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে কবিরহাট উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে মফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলা হলে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নিজেই বলে স্বীকার করেন। তবে ভিডিওতে থাকা ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

মফিজুর রহমানের দাবি, ওই নারী তাঁর পূর্বপরিচিত। একদিন ওই নারী তাঁকে একটি কক্ষে নিয়ে শরবতের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে খাওয়ান। এরপর কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪ মিনিট ৪১ সেকেন্ডের ভিডিওতে মফিজুর রহমানকে এক নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায় বলে জানা গেছে। ওই নারী বাটইয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন ওই সমাজকর্মী। তবে অভিযোগটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে আরেক নারীকে ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তিন হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ-সংক্রান্ত একটি অডিও কথোপকথনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কথোপকথনে বিকাশের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার প্রসঙ্গ উঠলে তাঁকে নগদে টাকা পরিশোধের কথা বলতে শোনা যায়। তবে অডিওটির সত্যতা ও কথোপকথনের প্রেক্ষাপট আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কবিরহাট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অভিযোগ ও ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

নোয়াখালী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক জেড এম মিজানুর রহমান খান বলেন, অভিযোগ ও ভিডিওর বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। ঘটনাটি তদন্তের জন্য জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন, অর্থ ও প্রতিষ্ঠান শাখা) মোহাম্মদ আবুল কাশেমকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য ও সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই অভিযোগগুলোর সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দায় সম্পর্কে নিশ্চহওয়া যাবে।