১১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

চুনারুঘাট থানার ওসির বিরুদ্ধে মাদক বাণিজ্য, ঘুষ ও সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৫৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫১৭

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদক কারবারে পৃষ্ঠপোষকতা, ঘুষ বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং থানার প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, সাংবাদিক ও সচেতন মহল।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানাকে ঘিরে একের পর এক অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। অভিযোগকারীদের দাবি, থানায় সাধারণ মানুষের সেবা গ্রহণে হয়রানি, অর্থ আদায় এবং মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা না থাকার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে দুই রোগীর মৃত্যু হয়। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ ছিল, নার্সদের অবহেলা ও সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে এক সাংবাদিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ফেসবুক লাইভে সরাসরি সম্প্রচার করেন।

অভিযোগ রয়েছে, লাইভটি সরিয়ে নিতে প্রথমে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হুমকি দেওয়া হয়। পরে সাংবাদিক মাসুদ আলম সম্প্রচার চালিয়ে গেলে ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তাঁর সঙ্গে অসদাচরণ করেন, হাতে মোচড় দেন এবং জোরপূর্বক মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

এ ছাড়া সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করতে বিভিন্ন মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি, মামলার ভয় দেখানো এবং অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও স্বাধীন তদন্তের ফলাফল জানা প্রয়োজন।

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, ওসি সাইফুল ইসলামের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে চুনারুঘাটের বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবার ও চোরাচালান কার্যক্রম চলছে। বিশেষ করে চিমটিবিল সীমান্ত দিয়ে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা, মদ ও ভারতীয় গরু চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ক্ষেত্রে থানার সেকেন্ড অফিসার সজল দাসের নামও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, রাতের বেলায় থানার ভেতরে অবৈধ লেনদেন ও অর্থ ভাগ-বাঁটোয়ারা হয়। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণ যাচাই জরুরি।

চুনারুঘাট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও অভিযোগ দায়ের করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, কম্পিউটার অপারেটর আকবরের মাধ্যমে জনপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।

এ ছাড়া বিদেশগামী ব্যক্তিদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট দেওয়ার ক্ষেত্রেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এ প্রক্রিয়ায় নিয়মবহির্ভূতভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হচ্ছে।

পাশাপাশি বিভিন্ন মামলার আসামিদের সুবিধা দেওয়া, নিরপরাধ ব্যক্তিকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগও উঠেছে থানার কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে বাহুবল মডেল থানায় দায়িত্ব পালনকালে ওসি সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার হাতিরঝিল থানায় দায়িত্ব পালনকালে দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে তাঁকে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে ক্লোজড করা হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। এসব ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট ও প্রশাসনিক নথি যাচাই করে দেখা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, থানার বিভিন্ন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ওসি সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

চুনারুঘাটের সচেতন নাগরিক, সাংবাদিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং থানার প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।

তাঁদের প্রত্যাশা, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে দোষী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে এবং থানায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও হয়রানিমুক্ত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিষয়গুলো অভিযোগনির্ভর। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য, স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এবং তদন্তের ফলাফল ছাড়া অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা, অভিযুক্ত সদস্য এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন।

সর্বাধিক পঠিত

ডেঙ্গু আক্রান্ত সবুজ হোসেনকে দেখতে গেলেন বেনাপোল পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী ইমদাদুল হক ইমদাদ ও তাঁর সহকর্মীরা

চুনারুঘাট থানার ওসির বিরুদ্ধে মাদক বাণিজ্য, ঘুষ ও সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

আপডেট: ১০:৫৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদক কারবারে পৃষ্ঠপোষকতা, ঘুষ বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং থানার প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, সাংবাদিক ও সচেতন মহল।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানাকে ঘিরে একের পর এক অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। অভিযোগকারীদের দাবি, থানায় সাধারণ মানুষের সেবা গ্রহণে হয়রানি, অর্থ আদায় এবং মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা না থাকার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে দুই রোগীর মৃত্যু হয়। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ ছিল, নার্সদের অবহেলা ও সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে এক সাংবাদিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ফেসবুক লাইভে সরাসরি সম্প্রচার করেন।

অভিযোগ রয়েছে, লাইভটি সরিয়ে নিতে প্রথমে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হুমকি দেওয়া হয়। পরে সাংবাদিক মাসুদ আলম সম্প্রচার চালিয়ে গেলে ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তাঁর সঙ্গে অসদাচরণ করেন, হাতে মোচড় দেন এবং জোরপূর্বক মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

এ ছাড়া সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করতে বিভিন্ন মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি, মামলার ভয় দেখানো এবং অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও স্বাধীন তদন্তের ফলাফল জানা প্রয়োজন।

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, ওসি সাইফুল ইসলামের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে চুনারুঘাটের বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবার ও চোরাচালান কার্যক্রম চলছে। বিশেষ করে চিমটিবিল সীমান্ত দিয়ে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা, মদ ও ভারতীয় গরু চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ক্ষেত্রে থানার সেকেন্ড অফিসার সজল দাসের নামও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, রাতের বেলায় থানার ভেতরে অবৈধ লেনদেন ও অর্থ ভাগ-বাঁটোয়ারা হয়। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণ যাচাই জরুরি।

চুনারুঘাট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও অভিযোগ দায়ের করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, কম্পিউটার অপারেটর আকবরের মাধ্যমে জনপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।

এ ছাড়া বিদেশগামী ব্যক্তিদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট দেওয়ার ক্ষেত্রেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এ প্রক্রিয়ায় নিয়মবহির্ভূতভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হচ্ছে।

পাশাপাশি বিভিন্ন মামলার আসামিদের সুবিধা দেওয়া, নিরপরাধ ব্যক্তিকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগও উঠেছে থানার কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে বাহুবল মডেল থানায় দায়িত্ব পালনকালে ওসি সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার হাতিরঝিল থানায় দায়িত্ব পালনকালে দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে তাঁকে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে ক্লোজড করা হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। এসব ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট ও প্রশাসনিক নথি যাচাই করে দেখা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, থানার বিভিন্ন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ওসি সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

চুনারুঘাটের সচেতন নাগরিক, সাংবাদিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং থানার প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।

তাঁদের প্রত্যাশা, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে দোষী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে এবং থানায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও হয়রানিমুক্ত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিষয়গুলো অভিযোগনির্ভর। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য, স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এবং তদন্তের ফলাফল ছাড়া অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা, অভিযুক্ত সদস্য এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন।