নড়াইলের লোহাগড়ায় মিরচাঁন সরদার হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিপক্ষের লোকজন অন্তত ৫০টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে হত্যা মামলায় ঘটনার সময় এলাকায় না থাকা নিরীহ ব্যক্তিদেরও আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে গত ৮ সেপ্টেম্বর মিরচাঁন সরদার (৩৭) নিহত হওয়ার পর এসব ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে নারী ও শিশুসহ অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। পরিবারের শিক্ষার্থীরাও স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যেতে পারছে না। স্বজনেরা বাড়িতে গেলে তাঁদের হুমকি দিয়ে চলে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
এদিকে মিরচাঁন হত্যা মামলায় ঘটনার সময় ঢাকায় অবস্থানরত কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মো. শাহানশা মোল্লা নামে এক ভুক্তভোগী দাবি করেন, মিরচাঁন হত্যার দিন তিনি ঢাকায় নিজের কর্মস্থলে ছিলেন। ওই সময়ের সিসিটিভি ফুটেজে তাঁর ঢাকায় অবস্থানের প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এরপরও তাঁকে হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ শাহানশার।
স্থানীয়রা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের পর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাঁরা মিরচাঁন হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরবর্তী হামলা-ভাঙচুরের ঘটনাগুলো তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে লোহাগড়া থানায় একটি মামলাও করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরে গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রতিপক্ষের হামলায় মিরচাঁন সরদার নিহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। পেশায় ভ্যানচালক মিরচাঁন কোটাকোল ইউনিয়নের মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত লোকমান সরদারের ছেলে। এ ঘটনায় ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে লোহাগড়া থানায় হত্যা মামলা করা হয়।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, মিরচাঁন হত্যা মামলার কয়েকজন আসামিকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়েছে। বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে এলাকায় বিশেষ যৌথ অভিযানও পরিচালনা করা হচ্ছে।





















