০৪:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর জ্যাস অ্যাকসেসরিজে ১৩ লাখ কেজির বেশি কাঁচামালের ঘাটতি, রাজস্ব ঝুঁকিতে ৯ কোটি টাকা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:০৭:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৮

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে বন্ডেড এক্সেসরিজ প্রতিষ্ঠান জ্যাস অ্যাকসেসরিজ (বিডি) লিমিটেডে অভিযান চালিয়ে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৫ দশমিক ৮ কেজি কাঁচামালের ঘাটতি পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ঘাটতি পাওয়া এসব কাঁচামালের শুল্ক-কর বাবদ প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ ৪৭ হাজার ১৫৪ টাকা রাজস্ব ঝুঁকিতে পড়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ চট্টগ্রামের উত্তর কাট্টলীর কর্নেল জোন্স রোডে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির কারখানা ও বন্ডেড গুদামে পরিদর্শন ও যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটি বন্ড সুবিধার আওতায় এলডিপিই, এইচডিপিই, এলএলডিপিই, পিপি, জিপিপিএস, এইচআইপিএস, বিপিওপিপি, ডুপ্লেক্স বোর্ড ও রাবার থ্রেড ইয়ার্নসহ বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করে থাকে।

পরিদর্শনের সময় প্রতিষ্ঠানের অনলাইন ব্যবহার অনুমোদনের তথ্যের সঙ্গে বন্ডেড গুদামে থাকা কাঁচামালের প্রকৃত মজুত মিলিয়ে দেখা হয়। এতে বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়ে।

কাস্টমসের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের বন্ডেড গুদামে ১৯ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ কেজি কাঁচামাল থাকার কথা ছিল। তবে সরেজমিনে পাওয়া যায় মাত্র ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮১ দশমিক ২ কেজি।

ফলে হিসাব অনুযায়ী গুদামে থাকার কথা থাকলেও ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৫ দশমিক ৮ কেজি কাঁচামাল পাওয়া যায়নি।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানায়, সর্বশেষ আমদানির বিল অব এন্ট্রিতে ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী নিখোঁজ এসব কাঁচামালের মোট শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ২৪ কোটি ৯৬ লাখ ৬৭ হাজার ৬৪১ টাকা। এর বিপরীতে প্রযোজ্য শুল্ক-কর বাবদ পাওনা দাঁড়ায় প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ ৪৭ হাজার ১৫৪ টাকা।

বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা বিপুল পরিমাণ কাঁচামালের এই ঘাটতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এসব কাঁচামাল অনুমোদিত উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, নাকি বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিস্তারিত তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই শেষে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

সর্বাধিক পঠিত

শার্শায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে পিকআপের ধাক্কা, হেলপার নিহত

চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর জ্যাস অ্যাকসেসরিজে ১৩ লাখ কেজির বেশি কাঁচামালের ঘাটতি, রাজস্ব ঝুঁকিতে ৯ কোটি টাকা

আপডেট: ০৩:০৭:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে বন্ডেড এক্সেসরিজ প্রতিষ্ঠান জ্যাস অ্যাকসেসরিজ (বিডি) লিমিটেডে অভিযান চালিয়ে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৫ দশমিক ৮ কেজি কাঁচামালের ঘাটতি পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ঘাটতি পাওয়া এসব কাঁচামালের শুল্ক-কর বাবদ প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ ৪৭ হাজার ১৫৪ টাকা রাজস্ব ঝুঁকিতে পড়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ চট্টগ্রামের উত্তর কাট্টলীর কর্নেল জোন্স রোডে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির কারখানা ও বন্ডেড গুদামে পরিদর্শন ও যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটি বন্ড সুবিধার আওতায় এলডিপিই, এইচডিপিই, এলএলডিপিই, পিপি, জিপিপিএস, এইচআইপিএস, বিপিওপিপি, ডুপ্লেক্স বোর্ড ও রাবার থ্রেড ইয়ার্নসহ বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করে থাকে।

পরিদর্শনের সময় প্রতিষ্ঠানের অনলাইন ব্যবহার অনুমোদনের তথ্যের সঙ্গে বন্ডেড গুদামে থাকা কাঁচামালের প্রকৃত মজুত মিলিয়ে দেখা হয়। এতে বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়ে।

কাস্টমসের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের বন্ডেড গুদামে ১৯ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ কেজি কাঁচামাল থাকার কথা ছিল। তবে সরেজমিনে পাওয়া যায় মাত্র ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮১ দশমিক ২ কেজি।

ফলে হিসাব অনুযায়ী গুদামে থাকার কথা থাকলেও ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৫ দশমিক ৮ কেজি কাঁচামাল পাওয়া যায়নি।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানায়, সর্বশেষ আমদানির বিল অব এন্ট্রিতে ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী নিখোঁজ এসব কাঁচামালের মোট শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ২৪ কোটি ৯৬ লাখ ৬৭ হাজার ৬৪১ টাকা। এর বিপরীতে প্রযোজ্য শুল্ক-কর বাবদ পাওনা দাঁড়ায় প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ ৪৭ হাজার ১৫৪ টাকা।

বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা বিপুল পরিমাণ কাঁচামালের এই ঘাটতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এসব কাঁচামাল অনুমোদিত উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, নাকি বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিস্তারিত তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই শেষে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।