মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় ব্যাটারি চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সিদ্দিক আলী (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে লাথি মেরে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর মেয়ের জামাই রাসেলের (২৭) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রাসেলকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের সাকরাইল ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সিদ্দিক আলী ওই এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় অটোচালক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক ২টার দিকে সিদ্দিক আলীর বাড়িতে হ্যালো বাইকের ব্যাটারি চুরি করতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের হাতে রাসেল ধরা পড়েন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় ব্যাটারি চুরির বিষয়টি নিয়ে সিদ্দিক আলীর সঙ্গে তাঁর জামাই রাসেলের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রাসেল তাঁর শ্বশুরকে লাথি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হন বলে স্থানীয়দের দাবি।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা সিদ্দিক আলীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বাবুল মিয়া বলেন, চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে তিনি বাইরে এসে সিদ্দিক আলী ও রাসেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি দেখতে পান।
তাঁর ভাষ্য, একপর্যায়ে রাসেল সিদ্দিক আলীকে লাথি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী রুনা বেগম অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলে চিৎকার করে জানায়, হ্যালো বাইকের ব্যাটারি চুরি করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে ওই ব্যক্তিকে আটক করেন। তখন তাঁরা দেখতে পান, ওই ব্যক্তি তাঁদের মেয়ের জামাই রাসেল।
রুনা বেগমের অভিযোগ, এ সময় রাসেল তাঁর স্বামীকে লাথি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান।
তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার সময় রাসেলের সঙ্গে আরও দুজন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজনের নাম শাওন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।
এ ঘটনায় রাসেলসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন, রাসেলকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয়রা তাঁকে মারধর করায় তিনি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















