০৮:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এমপি গাজী নজরুল ৪ দিন, প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ১ দিনের রিমান্ডে

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:০০:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১০

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিন এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার গাজী নজরুল ইসলামকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিলেন। পরে শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই ফ্ল্যাটে গাজী নজরুল ইসলাম তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে নিয়ে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গাজী নজরুল ও মাকসুদা বেগমকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে মরিয়মের বাবার দায়ের করা মামলায় তাঁদের গ্রেফতার দেখানো হয়।

মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, চলতি বছরের জুনে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ করেন তাঁর বাবা।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের কাছে এসব বিষয় জানিয়েছিলেন।

তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, রোববার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল ইসলাম মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত ন্যাম ভবনের বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি লোকজনের উপস্থিতি দেখতে পান এবং পরে জানতে পারেন, একটি কক্ষে মরিয়ম গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছেন।

পুলিশের সহায়তায় কক্ষের দরজা খুলে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর বিছানার ওপর একটি চিরকুট পাওয়া গেছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি চিরকুট ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তবে চিরকুটগুলো সত্যিই মরিয়মের লেখা কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। হাতের লেখা ও ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের রিমান্ড আবেদনে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—মরিয়ম আত্মহত্যার সময় একই বাসায় থাকা আসামিদের ভূমিকা যাচাই, তাঁকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা বা মানসিক চাপ দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধান, মামলার পলাতক আসামি ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা ও অবস্থান শনাক্ত এবং ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন।

আদালত এসব বিষয় তদন্তের স্বার্থে গাজী নজরুলকে চার দিন এবং মাকসুদা বেগমকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।

মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও গত জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে সাংগঠনিক তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।

এর আগে ২১ জুলাই মরিয়মের মামা ও গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরে ওই মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জামিন পান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে গাজী নজরুল ইসলামের গ্রেফতারের বিষয়টি জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে পুলিশ চিঠি দেবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ ইবনে মিজান।

তিনি জানিয়েছেন, মরিয়মের মৃত্যু এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুটসহ বিভিন্ন আলামত তদন্ত করা হচ্ছে। চিরকুটের লেখক সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে।

মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগের সত্যতা এবং মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত শেষে স্পষ্ট হবে। বর্তমানে বিষয়টি বিচারাধীন হওয়ায় অভিযোগগুলোকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সর্বাধিক পঠিত

‘তেলের দাম ৭০০ টাকা হতো’—ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ড নিয়ে যা বললেন যুবদল নেতা নয়ন

এমপি গাজী নজরুল ৪ দিন, প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ১ দিনের রিমান্ডে

আপডেট: ০৫:০০:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিন এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার গাজী নজরুল ইসলামকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিলেন। পরে শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই ফ্ল্যাটে গাজী নজরুল ইসলাম তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে নিয়ে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গাজী নজরুল ও মাকসুদা বেগমকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে মরিয়মের বাবার দায়ের করা মামলায় তাঁদের গ্রেফতার দেখানো হয়।

মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, চলতি বছরের জুনে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ করেন তাঁর বাবা।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের কাছে এসব বিষয় জানিয়েছিলেন।

তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, রোববার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল ইসলাম মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত ন্যাম ভবনের বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি লোকজনের উপস্থিতি দেখতে পান এবং পরে জানতে পারেন, একটি কক্ষে মরিয়ম গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছেন।

পুলিশের সহায়তায় কক্ষের দরজা খুলে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর বিছানার ওপর একটি চিরকুট পাওয়া গেছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি চিরকুট ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তবে চিরকুটগুলো সত্যিই মরিয়মের লেখা কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। হাতের লেখা ও ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের রিমান্ড আবেদনে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—মরিয়ম আত্মহত্যার সময় একই বাসায় থাকা আসামিদের ভূমিকা যাচাই, তাঁকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা বা মানসিক চাপ দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধান, মামলার পলাতক আসামি ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা ও অবস্থান শনাক্ত এবং ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন।

আদালত এসব বিষয় তদন্তের স্বার্থে গাজী নজরুলকে চার দিন এবং মাকসুদা বেগমকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।

মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও গত জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে সাংগঠনিক তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।

এর আগে ২১ জুলাই মরিয়মের মামা ও গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরে ওই মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জামিন পান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে গাজী নজরুল ইসলামের গ্রেফতারের বিষয়টি জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে পুলিশ চিঠি দেবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ ইবনে মিজান।

তিনি জানিয়েছেন, মরিয়মের মৃত্যু এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুটসহ বিভিন্ন আলামত তদন্ত করা হচ্ছে। চিরকুটের লেখক সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে।

মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগের সত্যতা এবং মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত শেষে স্পষ্ট হবে। বর্তমানে বিষয়টি বিচারাধীন হওয়ায় অভিযোগগুলোকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।