১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই শিক্ষক পদে যোগদান, কেশবপুরে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:৪৫:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৬

যশোরের কেশবপুর উপজেলার গড়ভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদে যোগদানের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে নিয়োগের সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল কি না, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।

অভিযোগের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কৃষি) মোহাম্মদ শিহাব উদ্দীনের জন্ম ১৯৮৭ সালের ১৩ জানুয়ারি। তিনি ২০০৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর ওই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করেন। পরবর্তী সময়ে নিয়োগ বোর্ড গঠন, অনুমোদন ও নিয়োগপত্র প্রদানের প্রক্রিয়া শেষে ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।

জন্মতারিখ ও যোগদানের তারিখ হিসাব করলে, ওই সময় তাঁর বয়স ছিল ১৭ বছর ১১ মাস ১৪ দিন। অর্থাৎ ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার প্রায় ১৭ দিন আগেই তিনি শিক্ষক পদে যোগদান করেন।

শুধু বয়স নয়, নিয়োগের সময় প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

জমা দেওয়া শিক্ষাগত সনদের তথ্য অনুযায়ী, শিহাব উদ্দীন ২০০১ সালে আরুয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করেন। এরপর ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর গড়ভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদে যোগ দেন।

তবে নথিতে দেখা যায়, তিনি ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ২০০৬ সালে। ওই সনদে সনদ প্রদানের তারিখ হিসেবে ২০১২ সালের ১৬ জুন উল্লেখ রয়েছে।

এ কারণে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—২০০৪ সালে কৃষি বিষয়ের শিক্ষক পদে যোগদানের সময় তাঁর প্রয়োজনীয় পেশাগত ও শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন ছিল কি না।

সংশ্লিষ্ট নথিতে আরও দেখা যায়, শিহাব উদ্দীন পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অব আর্টস (বিএ) ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর বিএ পরীক্ষার ফলাফল ২০২২ সালের ২৫ এপ্রিল প্রকাশিত হয় বলে জমা দেওয়া সনদে উল্লেখ রয়েছে।

তবে পরবর্তী সময়ে অর্জিত শিক্ষাগত যোগ্যতা দিয়ে ২০০৪ সালে সম্পন্ন হওয়া নিয়োগের যোগ্যতা পূরণ হয়েছিল কি না—সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।

অভিযোগের বিষয়ে গড়ভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অঞ্জন কুন্ডু বলেন, তাঁর জানামতে শিহাব উদ্দীনের সব কাগজপত্র ঠিক রয়েছে।

তিনি বলেন, কাগজপত্রে কোনো সমস্যা থাকলে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এবং মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন তদন্তে বিষয়টি ধরা পড়ত।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্যের পাশাপাশি নিয়োগের সময়কার মূল নথি, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, প্রার্থীর বয়স, শিক্ষাগত সনদ এবং তৎকালীন নিয়োগবিধি পর্যালোচনা করলেই বিষয়টির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে যশোর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

তদন্তে বিশেষভাবে ২০০৩-০৪ সালে সংশ্লিষ্ট পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বয়সসীমা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত, নিয়োগ বোর্ডের কার্যবিবরণী, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের দাখিল করা মূল সনদ যাচাই করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার সনদের প্রকৃত অর্জনের তারিখ এবং নিয়োগের সময় ওই যোগ্যতা বাধ্যতামূলক ছিল কি না—এ বিষয়টিও যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারে।

একজন শিক্ষকের নিয়োগ প্রক্রিয়া যথাযথ ছিল কি না, তা নির্ধারণে শুধু বর্তমান শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবেচনা করলেই হবে না। নিয়োগের সময় প্রযোজ্য বিধিমালা এবং সেই সময় প্রার্থীর বয়স ও যোগ্যতা কী ছিল, সেটিই

সর্বাধিক পঠিত

‘তেলের দাম ৭০০ টাকা হতো’—ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ড নিয়ে যা বললেন যুবদল নেতা নয়ন

১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই শিক্ষক পদে যোগদান, কেশবপুরে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট: ০৪:৪৫:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যশোরের কেশবপুর উপজেলার গড়ভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদে যোগদানের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে নিয়োগের সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল কি না, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।

অভিযোগের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কৃষি) মোহাম্মদ শিহাব উদ্দীনের জন্ম ১৯৮৭ সালের ১৩ জানুয়ারি। তিনি ২০০৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর ওই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করেন। পরবর্তী সময়ে নিয়োগ বোর্ড গঠন, অনুমোদন ও নিয়োগপত্র প্রদানের প্রক্রিয়া শেষে ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।

জন্মতারিখ ও যোগদানের তারিখ হিসাব করলে, ওই সময় তাঁর বয়স ছিল ১৭ বছর ১১ মাস ১৪ দিন। অর্থাৎ ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার প্রায় ১৭ দিন আগেই তিনি শিক্ষক পদে যোগদান করেন।

শুধু বয়স নয়, নিয়োগের সময় প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

জমা দেওয়া শিক্ষাগত সনদের তথ্য অনুযায়ী, শিহাব উদ্দীন ২০০১ সালে আরুয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করেন। এরপর ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর গড়ভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদে যোগ দেন।

তবে নথিতে দেখা যায়, তিনি ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ২০০৬ সালে। ওই সনদে সনদ প্রদানের তারিখ হিসেবে ২০১২ সালের ১৬ জুন উল্লেখ রয়েছে।

এ কারণে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—২০০৪ সালে কৃষি বিষয়ের শিক্ষক পদে যোগদানের সময় তাঁর প্রয়োজনীয় পেশাগত ও শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন ছিল কি না।

সংশ্লিষ্ট নথিতে আরও দেখা যায়, শিহাব উদ্দীন পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অব আর্টস (বিএ) ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর বিএ পরীক্ষার ফলাফল ২০২২ সালের ২৫ এপ্রিল প্রকাশিত হয় বলে জমা দেওয়া সনদে উল্লেখ রয়েছে।

তবে পরবর্তী সময়ে অর্জিত শিক্ষাগত যোগ্যতা দিয়ে ২০০৪ সালে সম্পন্ন হওয়া নিয়োগের যোগ্যতা পূরণ হয়েছিল কি না—সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।

অভিযোগের বিষয়ে গড়ভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অঞ্জন কুন্ডু বলেন, তাঁর জানামতে শিহাব উদ্দীনের সব কাগজপত্র ঠিক রয়েছে।

তিনি বলেন, কাগজপত্রে কোনো সমস্যা থাকলে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এবং মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন তদন্তে বিষয়টি ধরা পড়ত।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্যের পাশাপাশি নিয়োগের সময়কার মূল নথি, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, প্রার্থীর বয়স, শিক্ষাগত সনদ এবং তৎকালীন নিয়োগবিধি পর্যালোচনা করলেই বিষয়টির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে যশোর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

তদন্তে বিশেষভাবে ২০০৩-০৪ সালে সংশ্লিষ্ট পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বয়সসীমা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত, নিয়োগ বোর্ডের কার্যবিবরণী, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের দাখিল করা মূল সনদ যাচাই করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার সনদের প্রকৃত অর্জনের তারিখ এবং নিয়োগের সময় ওই যোগ্যতা বাধ্যতামূলক ছিল কি না—এ বিষয়টিও যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারে।

একজন শিক্ষকের নিয়োগ প্রক্রিয়া যথাযথ ছিল কি না, তা নির্ধারণে শুধু বর্তমান শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবেচনা করলেই হবে না। নিয়োগের সময় প্রযোজ্য বিধিমালা এবং সেই সময় প্রার্থীর বয়স ও যোগ্যতা কী ছিল, সেটিই