সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, গাড়ির টায়ার ও ব্যাটারি বিক্রি, ক্যান্টিনের ভাড়া আদায়ে স্বচ্ছতার অভাব এবং বদলি-নিয়োগে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে মৎস্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক মো. মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখানো ও হয়রানির অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারীর অভিযোগ, মৎস্য অধিদপ্তরের কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তার আশ্রয়ে মোসলেম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম করে আসছেন। কেউ এসব বিষয়ে প্রশ্ন তুললে বদলির হুমকি, মানসিক চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলেও অভিযোগ তাদের।
অভিযোগ রয়েছে, মোসলেম উদ্দিন দপ্তরে যোগদানের পর কোনো নির্বাচন ছাড়াই গাড়িচালক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়া ছাড়া কীভাবে তিনি সংগঠনের নেতৃত্বে এলেন, তা নিয়েও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
এদিকে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের ৩৯ জন গাড়িচালক গণস্বাক্ষর করেছেন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁরা মোসলেম উদ্দিনের পদত্যাগের পাশাপাশি নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
গণস্বাক্ষরকারী কয়েকজন গাড়িচালক অভিযোগ করেন, স্বাক্ষর দেওয়ার পর তাঁদের বদলি, প্রশাসনিক চাপ এবং চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের আরেকটি অংশে সরকারি গাড়ির পুরোনো টায়ার ও ব্যাটারি বিক্রির অর্থের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি গাড়িচালকদের ক্যান্টিনের মাসিক প্রায় ৫ হাজার টাকা ভাড়া আদায় করা হলেও ওই অর্থের যথাযথ হিসাব ও সরকারি কোষাগারে জমার বিষয়ে স্বচ্ছতা নেই বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাঁদের দাবি, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে ক্যান্টিনের ভাড়া আদায়ের রশিদ ও রেজিস্টার, ব্যাংকে অর্থ জমার তথ্য, সরকারি গাড়ির টায়ার ও ব্যাটারি ক্রয়-বিক্রয়ের নথি, স্টক রেজিস্টার, গাড়ির লগবুক, মেরামতের বিল-ভাউচার এবং বদলি-নিয়োগসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি, একজন সাধারণ গাড়িচালকের পক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ছাড়া এত বড় ধরনের অনিয়ম করা সম্ভব কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা দরকার।
অভিযোগের বিষয়ে মোসলেম উদ্দিন বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সম্মানহানি করতেই একটি কুচক্রী মহল এসব অভিযোগ করেছে।
অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টরা এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।




















