সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্ক ও প্রলোভন দেখানোর অভিযোগ তুলেছেন তার সাবেক গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান। শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্র্যাব) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
ওবায়দুর রহমানের দাবি, এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর তিনি এর প্রতিবাদ করেন। এরপর গাজী নজরুল প্রথমে তাকে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি তাকে প্রলোভন দেখানো হয়।
ওবায়দুর বলেন, তাকে বলা হয়েছিল—পাঁচ বছর সঙ্গে থাকলে তার জীবন বদলে যাবে। তবে তিনি অর্থ নেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তরুণীর নিরাপত্তা এবং অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহের বিষয়টি বিবেচনা করে তিনি গাড়িচালকের কাজ নেন বলে দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর রহমান বলেন, গত ১৮ জুন তিনি প্রথম ওই তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুলের সম্পর্কের বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরদিন তরুণীর সঙ্গে কথা বললে সে সম্পর্কের কথা স্বীকার করে।
এরপর ২০ জুন তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এমপি হোস্টেলে গিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। সেখানে গাজী নজরুল ওই সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেন বলে দাবি করেন ওবায়দুর।
তার ভাষ্য, ওই সময় গাজী নজরুল তরুণীর মাধ্যমে তাকে কিছু টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়। তবে তিনি টাকা নেননি বলে জানান।
ওবায়দুর রহমান আরও দাবি করেন, গত ২২ জুন মেট্রোরেলের পল্লবী স্টেশনের একটি কফি শপে এবং ৯ জুলাই মিরপুর-১২ এলাকার একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গাজী নজরুল ও ওই তরুণীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেছেন। এসব ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন তিনি।
তার দাবি, ১৩ জুলাই মগবাজারের একটি রেস্টহাউসে গাজী নজরুল ও ওই তরুণীর অবস্থানের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন তিনি। পরে ওই রাতে তরুণীকে নিয়ে ঢাকার বাইরে চলে যান।
পরদিন ঢাকায় ফেরার পথে গাজী নজরুলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার কথামতো খিলক্ষেত এলাকায় তরুণীর বাবা ও আমিনুর নামের একজনের সঙ্গে দেখা করেন বলে জানান ওবায়দুর।
গলা টিপে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
ওবায়দুর রহমানের দাবি, ওই রাতে বাসায় ফেরার পর তরুণীর বাবা ও আমিনুর তার ওপর হামলা চালান এবং তাকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে তিনি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।
এ ঘটনায় গত ২১ জুলাই পল্লবী থানায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন বলে জানান তিনি। পরে মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়। কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলেও তারা পরবর্তী সময়ে আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন বলে দাবি করেন ওবায়দুর।
এবার ওবায়দুরের বিরুদ্ধেই মামলা
ওবায়দুর রহমান জানান, এর মধ্যে গত ২ আগস্ট তার বিরুদ্ধে নারী অপহরণ, নারী পাচার ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে মামলা করা হয়। তার বোন ও ওই তরুণীর মা বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন রয়েছে।
তার অভিযোগ, মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি তার মা ও পরিবারের সদস্যদেরও বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকতে হচ্ছে। এ বিষয়ে গত ২০ আগস্ট পল্লবী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।
ওবায়দুর রহমান এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে আলোচনায়
সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। ভিডিওতে তাকে এক তরুণীর সঙ্গে দেখা যায়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর গাজী নজরুল দাবি করেন, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ১৩ জুলাই ওই তরুণীর বাবার অফিসে তাকে জিম্মি করে ওবায়দুর রহমান এক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। ভিডিওটি ফাঁসের সঙ্গেও ওবায়দুর জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে ওবায়দুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, হামলা ও হুমকির ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তবে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর রহমানের করা অভিযোগগুলোর বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলামের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা রয়েছে।




















