সাতক্ষীরা সদর ভূমি অফিসের পিয়ন শফিউর রহমান শফির বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, জাল দলিলের মাধ্যমে নামজারি করানো এবং ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে তার প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়ার দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, টাকা দিলে নামজারি ও খাজনা দাখিলার রিপোর্টে অনিয়ম থেকে শুরু করে জাল দলিলের বিপরীতেও নামজারি অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হয়। গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চে দুই লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে দুটি জাল দলিলের বিপরীতে নামজারি অনুমোদনের অভিযোগও রয়েছে।
অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ধুলিহরের কালাম ও দেবহাটার করিম মুহুরী নামে দুই ব্যক্তিকে নিয়ে শফি একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, ভূমি অফিসের এক নায়েবের ব্যক্তিগত ও গোপনীয় তথ্য ব্যবহার করে তাকে চাপের মধ্যে রেখে বিভিন্ন কাজে প্রভাব বিস্তার করতেন শফি।
সম্প্রতি একটি ভিডিও ফুটেজে ভূমি অফিসের সিঁড়ির নিচে বসে শফিকে ঘুষের টাকা গুনতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
১৬ হাজার টাকা বেতনে কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ
শফিউর রহমানের মাসিক বেতন প্রায় ১৬ থেকে ১৭ হাজার টাকা হলেও তার নামে ও পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা শহরের পারকুকরালী এলাকায় তিনটি এসি সংবলিত দোতলা বাড়ি, সাতক্ষীরা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে কয়েক একর কৃষিজমি এবং খুলনায় শ্বশুরবাড়ি এলাকায় মূল্যবান প্লট থাকার অভিযোগ রয়েছে। ঢাকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা ছেলের থাকা-খাওয়াসহ পড়াশোনার জন্য প্রতি মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সম্প্রতি দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার সময় সাত লাখ টাকা দেনমোহর পরিশোধের তথ্যও উঠে এসেছে।
সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরাসরি আবেদন করলে কিংবা ঘুষ না দিলে ফাইল আটকে রাখা অথবা সার্ভার থেকে আবেদন বাতিল করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। আমীন রহমান ও আবুল হোসেন নামে দুই সেবাগ্রহীতার দাবি, নায়েবের নাম ব্যবহার করে শফি বিভিন্ন ফাইল থেকে হাজার হাজার টাকা নিতেন।
অভিযোগের বিষয়ে শফিউর রহমান শফি অবশ্য তা অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তার সম্পদ বৈধ আয়ের মাধ্যমে অর্জিত এবং ভূমি অফিসের কাজের সিংহভাগ অর্থ সংশ্লিষ্ট নায়েব নিজেই নিতেন।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সেবাগ্রহীতারা। একই সঙ্গে কথিত জাল দলিল, নামজারি প্রক্রিয়া, ঘুষ লেনদেন এবং শফির সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখতে প্রশাসনিক ও আইনগত তদন্তের দাবি উঠেছে।




















