০৫:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

বেগমগঞ্জের বন কর্মকর্তা ‘বন সামছু’র বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ,

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৫০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৫

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা বন কর্মকর্তা এ এস এম সামছুদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, দায়িত্বে অনিয়ম, সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার ঘটনায় ব্যবস্থা না নেওয়া, সরকারি খাল দখলসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে গত ৮ আগস্ট নোয়াখালী দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত আবেদন করেছেন বেগমগঞ্জ উপজেলার বেতুয়া বাজার গোপালপুর ইউনিয়নের মমিনুল ইসলাম পিজন।

অভিযোগকারী আবেদনে উল্লেখ করেন, গত প্রায় ১৭ বছরে বন অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায় থেকে সামছুদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ চিহ্নিত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি ২০১৯ সালেও তার বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে বন কর্মকর্তা সামছুদ্দিনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অনিয়ম নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসব সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তৎকালীন নোয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু ইউসুফ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বন অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। তবে সরকার পরিবর্তনের পর বিষয়টি আর এগোয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয়ভাবে ‘বন সামছু’ নামে পরিচিত সামছুদ্দিনের পৈতৃক বাড়ি নোয়াখালীর কালিকাপুর বাজার এলাকায়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ১৯৯০ সাল থেকে নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলায় বন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তিনি বেগমগঞ্জ উপজেলা বন কর্মকর্তার পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত হিসেবে সেনবাগের বন কর্মকর্তার দায়িত্বও পালন করছেন। দীর্ঘ চাকরি জীবনে তিনি সোনাইমুড়ী, সেনবাগ ও বেগমগঞ্জে বন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, একজন উপজেলা বন কর্মকর্তার মাসিক বেতন ও ভাতা মিলিয়ে সর্বোচ্চ প্রায় ৩৭ হাজার টাকা হলেও সামছুদ্দিনের নামে কালিকাপুর এলাকায় ২২ ডিসিম জমি, বগাদিয়া-কালিকাপুর বাজারসংলগ্ন সড়কের পাশে প্রায় ৩০ ডিসিম জমি রয়েছে। এসব জমির বর্তমান বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে অভিযোগকারীর দাবি। ওই জমিতে যাওয়ার রাস্তা তৈরির ক্ষেত্রে সরকারি খাল দখলের অভিযোগও করা হয়েছে।

এ ছাড়া কালিকাপুরে পৈতৃক জমিতে একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ এবং মাইজদী শহরের দীঘিরপাড় আবাসিক এলাকায় ‘আপন নিবাস’ নামে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাসের অভিযোগ রয়েছে। ফ্ল্যাটটির পাশেই কয়েক কোটি টাকা মূল্যের একটি প্লট কেনার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে ওই জমিতে শ্বশুরের নামে ব্যানার ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালের মে মাসে সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নের ছনগাঁও এলাকায় সামাজিক বনায়নের প্রায় ২০টি গাছ কেটে ফেলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বনপ্রহরীরা বিষয়টি জানতে পারলে ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা এ এস এম সামছুদ্দিন আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কিন্তু গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বনপ্রহরী লিপন অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সামাজিক বনায়নের সভাপতি আবুল কাশেমের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে প্রায় ২০টি গাছ কাটার চিহ্ন দেখতে পান। পরদিন সামছুদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের বকাঝকা ও মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। পরে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়া হয় বলে তার দাবি।

অন্যদিকে, ২০২৩ সালের আগস্টে সেনবাগ উপজেলার কাদরা ইউনিয়নের হিজলী গ্রামে সামাজিক বনায়নের প্রায় ৫০টি গাছ কাটার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন ভূঁইয়ার নির্দেশে ইউপি সদস্য পলাশ গাছগুলো কাটেন। বিষয়টি জানার পর তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা সামছুদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে কাটা গাছ তাদের জিম্মায় দিয়ে আসেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামছুদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, নিয়মবহির্ভূতভাবে সামাজিক বনায়নের গাছ বিক্রির অর্থ আত্মসাৎ এবং মামলার ভয় দেখিয়ে উৎকোচ আদায়ের অভিযোগও করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নোয়াখালী বন বিভাগের এক কর্মচারী অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সামছুদ্দিন নিজেকে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ওই কর্মচারীর দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে পাওয়া একটি পুরস্কারকে পুঁজি করে নোয়াখালী বন বিভাগে প্রভাব বিস্তার করতেন সামছুদ্দিন। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় কোনো কোনো সাংবাদিককে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানো এবং মামলা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে আবারও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নোয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোল্লা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, **“বেগমগঞ্জ বন কর্মকর্তা সামছুদ্দিন দীর্ঘ তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে এ জেলায় চাকরি করছেন। এটা সত্য। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”**

নোয়াখালী দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, **“বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগে অনিয়ম ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”**

তবে বেগমগঞ্জ উপজেলা বন কর্মকর্তা এ এস এম সামছুদ্দিন আহমেদ মুঠোফোনে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করেছেন।

অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সম্পদের বৈধ উৎস নির্ধারণে তদন্ত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। দুদকের তদন্ত শেষে অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত

সাড়ে ৫ হাজার শিক্ষার্থীর দুর্ভোগ লাঘবে মেহেরুল্লাহনগর স্টেশনে ট্রেনের স্টপেজ চায় যবিপ্রবি

বেগমগঞ্জের বন কর্মকর্তা ‘বন সামছু’র বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ,

আপডেট: ০৯:৫০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা বন কর্মকর্তা এ এস এম সামছুদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, দায়িত্বে অনিয়ম, সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার ঘটনায় ব্যবস্থা না নেওয়া, সরকারি খাল দখলসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে গত ৮ আগস্ট নোয়াখালী দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত আবেদন করেছেন বেগমগঞ্জ উপজেলার বেতুয়া বাজার গোপালপুর ইউনিয়নের মমিনুল ইসলাম পিজন।

অভিযোগকারী আবেদনে উল্লেখ করেন, গত প্রায় ১৭ বছরে বন অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায় থেকে সামছুদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ চিহ্নিত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি ২০১৯ সালেও তার বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে বন কর্মকর্তা সামছুদ্দিনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অনিয়ম নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসব সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তৎকালীন নোয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু ইউসুফ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বন অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। তবে সরকার পরিবর্তনের পর বিষয়টি আর এগোয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয়ভাবে ‘বন সামছু’ নামে পরিচিত সামছুদ্দিনের পৈতৃক বাড়ি নোয়াখালীর কালিকাপুর বাজার এলাকায়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ১৯৯০ সাল থেকে নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলায় বন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তিনি বেগমগঞ্জ উপজেলা বন কর্মকর্তার পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত হিসেবে সেনবাগের বন কর্মকর্তার দায়িত্বও পালন করছেন। দীর্ঘ চাকরি জীবনে তিনি সোনাইমুড়ী, সেনবাগ ও বেগমগঞ্জে বন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, একজন উপজেলা বন কর্মকর্তার মাসিক বেতন ও ভাতা মিলিয়ে সর্বোচ্চ প্রায় ৩৭ হাজার টাকা হলেও সামছুদ্দিনের নামে কালিকাপুর এলাকায় ২২ ডিসিম জমি, বগাদিয়া-কালিকাপুর বাজারসংলগ্ন সড়কের পাশে প্রায় ৩০ ডিসিম জমি রয়েছে। এসব জমির বর্তমান বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে অভিযোগকারীর দাবি। ওই জমিতে যাওয়ার রাস্তা তৈরির ক্ষেত্রে সরকারি খাল দখলের অভিযোগও করা হয়েছে।

এ ছাড়া কালিকাপুরে পৈতৃক জমিতে একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ এবং মাইজদী শহরের দীঘিরপাড় আবাসিক এলাকায় ‘আপন নিবাস’ নামে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাসের অভিযোগ রয়েছে। ফ্ল্যাটটির পাশেই কয়েক কোটি টাকা মূল্যের একটি প্লট কেনার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে ওই জমিতে শ্বশুরের নামে ব্যানার ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালের মে মাসে সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নের ছনগাঁও এলাকায় সামাজিক বনায়নের প্রায় ২০টি গাছ কেটে ফেলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বনপ্রহরীরা বিষয়টি জানতে পারলে ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা এ এস এম সামছুদ্দিন আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কিন্তু গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বনপ্রহরী লিপন অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সামাজিক বনায়নের সভাপতি আবুল কাশেমের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে প্রায় ২০টি গাছ কাটার চিহ্ন দেখতে পান। পরদিন সামছুদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের বকাঝকা ও মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। পরে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়া হয় বলে তার দাবি।

অন্যদিকে, ২০২৩ সালের আগস্টে সেনবাগ উপজেলার কাদরা ইউনিয়নের হিজলী গ্রামে সামাজিক বনায়নের প্রায় ৫০টি গাছ কাটার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন ভূঁইয়ার নির্দেশে ইউপি সদস্য পলাশ গাছগুলো কাটেন। বিষয়টি জানার পর তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা সামছুদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে কাটা গাছ তাদের জিম্মায় দিয়ে আসেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামছুদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, নিয়মবহির্ভূতভাবে সামাজিক বনায়নের গাছ বিক্রির অর্থ আত্মসাৎ এবং মামলার ভয় দেখিয়ে উৎকোচ আদায়ের অভিযোগও করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নোয়াখালী বন বিভাগের এক কর্মচারী অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সামছুদ্দিন নিজেকে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ওই কর্মচারীর দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে পাওয়া একটি পুরস্কারকে পুঁজি করে নোয়াখালী বন বিভাগে প্রভাব বিস্তার করতেন সামছুদ্দিন। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় কোনো কোনো সাংবাদিককে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানো এবং মামলা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে আবারও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নোয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোল্লা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, **“বেগমগঞ্জ বন কর্মকর্তা সামছুদ্দিন দীর্ঘ তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে এ জেলায় চাকরি করছেন। এটা সত্য। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”**

নোয়াখালী দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, **“বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগে অনিয়ম ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”**

তবে বেগমগঞ্জ উপজেলা বন কর্মকর্তা এ এস এম সামছুদ্দিন আহমেদ মুঠোফোনে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করেছেন।

অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সম্পদের বৈধ উৎস নির্ধারণে তদন্ত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। দুদকের তদন্ত শেষে অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।