১২:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাস্টমস কর্মকর্তা আতীকুজ্জামানের সম্পদের হিসাব ঘিরে প্রশ্ন

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:২৪:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫২১

কাস্টমস মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেট, ঢাকায় কর্মরত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আতীকুজ্জামানের নামে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

অনুসন্ধানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, বাড়ি, জমি ও বাণিজ্যিক সম্পদের পাশাপাশি শেরপুর ও ময়মনসিংহে বিপুল পরিমাণ কৃষি ও অকৃষি জমির মালিকানার তথ্য উঠে এসেছে। এসব সম্পদের সঙ্গে তাঁর বৈধ আয় ও আয়কর নথির সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আতীকুজ্জামান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক সম্পত্তি রয়েছে।

রামপুরার উলন রোডে ৬০ শতাংশ জমির অংশীদারিত্বসহ প্রায় ১ হাজার ৩০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। একই এলাকায় অংশীদারিত্বসহ আরও একটি প্রায় ১ হাজার ১০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

মোহাম্মদপুরের রামচন্দ্রপুর মৌজায় যথাক্রমে ১১১ ও ৫০ শতাংশ জমির অংশীদারিত্বসহ দুটি পৃথক ফ্ল্যাটের তথ্যও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

এ ছাড়া খিলগাঁওয়ের উত্তর মেরাদিয়ায় সাড়ে ৩ শতাংশ জমির ওপর একটি বাড়ি এবং যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ জমির ওপর ১১টি টিনশেড ঘর থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

সাভারের বারোকাকোর এলাকায় ৮ শতাংশ জমির একটি মূল্যবান প্রকল্পভূমির মালিকানার তথ্যও পাওয়া গেছে।

তবে এসব সম্পত্তির বর্তমান বাজারমূল্য, ক্রয়মূল্য এবং মালিকানার ধরন সংশ্লিষ্ট দলিল ও সরকারি রেকর্ডের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও আতীকুজ্জামানের পরিবারের নামে জমির মালিকানার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার কলাপাড়া মৌজায় ২৭৭ শতাংশ ও সাড়ে ৩ শতাংশ জমি, বাজারদী এলাকায় সাড়ে ৭ শতাংশ এবং কায়দা মৌজায় ৪০ শতাংশ জমির মালিকানার তথ্য রয়েছে বলে অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ১১২ শতাংশ কৃষি ও অকৃষি জমির তথ্যও পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীর আয়, সঞ্চয়, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদ ও বৈধ বিনিয়োগের সঙ্গে এসব সম্পত্তির মূল্য ও অর্জনের সময়কাল মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বর্তমানে মোহাম্মদ আতীকুজ্জামান কাস্টমস মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেট, ঢাকায় কর্মরত।

এই দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে আমদানিকৃত পণ্যের শুল্ক মূল্য নির্ধারণ, পণ্যের মূল্য কম দেখিয়ে শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা বা আন্ডার-ইনভয়েসিং প্রতিরোধ এবং আমদানিকারকদের অডিট কার্যক্রম পরিচালনা।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এ ধরনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের আমদানি পণ্যের মূল্যায়ন, অডিট রিপোর্ট এবং শুল্কসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে।

অভিযোগকারীদের দাবি, এই দায়িত্বের অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে আতীকুজ্জামানের বিরুদ্ধে দায়িত্বের অপব্যবহার করে সম্পদ অর্জনের অভিযোগের কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে—এমন দাবি করা হচ্ছে না। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাইযোগ্য।

অনুসন্ধানে কিছু সম্পত্তি তাঁর স্ত্রী মোছা. আশরাফুন্নাহারের নামে নিবন্ধিত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব সম্পত্তি স্ত্রীর নিজস্ব আয়, পারিবারিক সম্পদ, উত্তরাধিকার, উপহার বা স্বামীর আয়ের মাধ্যমে অর্জিত কি না—তা নির্ধারণে আয়কর নথি, ব্যাংক লেনদেন, দলিল ও সম্পদ বিবরণী পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

স্ত্রীর সম্পত্তির স্বাধীন ও বৈধ উৎস থাকলে সেটিও তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রত্যন্ত এলাকায় কৃষি ও অকৃষি জমিতে বিনিয়োগ বৈধ সম্পদ ব্যবস্থাপনার অংশও হতে পারে। আবার অবৈধ অর্থের উৎস গোপন বা বৈধ হিসেবে দেখানোর জন্য জমি কেনার ঘটনাও বিভিন্ন দুর্নীতি অনুসন্ধানে উঠে আসে।

তবে কোনো ব্যক্তির জমি থাকার কারণেই সেটিকে অবৈধ অর্থের বিনিয়োগ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। সম্পদের প্রকৃত উৎস জানতে আয়, ক্রয়মূল্য, ব্যাংক লেনদেন, কর নথি এবং সম্পত্তির দলিলসহ সংশ্লিষ্ট আর্থিক তথ্য যাচাই প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ আতীকুজ্জামান অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে পরে বিস্তারিত কথা বলার আশ্বাস দেন।

তিনি জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত এবং তাঁর সব সম্পদের তথ্য আয়কর নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাঁর এই বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর নামে থাকা সম্পদের বৈধতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আয়কর নথি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভিযোগে উল্লেখ করা সম্পদের তথ্য সত্য হলে এবং সেগুলোর বৈধ উৎস দেখাতে না পারলে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনি এখতিয়ারের মধ্যে পড়তে পারে।

তাদের মতে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬ ও ২৭ ধারার আলোকে সম্পদের বিবরণ ও জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি যাচাই করা যেতে পারে।

এ ছাড়া সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের বিবরণ দাখিল এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও যাচাইয়ের বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ অবস্থায় মোহাম্মদ আতীকুজ্জামান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের উৎস, আয়কর নথি, সম্পত্তির দলিল, ব্যাংক লেনদেন এবং সরকারি চাকরিতে প্রাপ্ত বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আর অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও স্পষ্ট করা জরুরি।

তাই সম্পদের উৎস ও মালিকানা যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে চেকপোস্টে পুলিশের অভিযান, ভারতীয় মাদক সিরাপসহ গ্রেপ্তার ১

কাস্টমস কর্মকর্তা আতীকুজ্জামানের সম্পদের হিসাব ঘিরে প্রশ্ন

আপডেট: ১২:২৪:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

কাস্টমস মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেট, ঢাকায় কর্মরত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আতীকুজ্জামানের নামে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

অনুসন্ধানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, বাড়ি, জমি ও বাণিজ্যিক সম্পদের পাশাপাশি শেরপুর ও ময়মনসিংহে বিপুল পরিমাণ কৃষি ও অকৃষি জমির মালিকানার তথ্য উঠে এসেছে। এসব সম্পদের সঙ্গে তাঁর বৈধ আয় ও আয়কর নথির সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আতীকুজ্জামান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক সম্পত্তি রয়েছে।

রামপুরার উলন রোডে ৬০ শতাংশ জমির অংশীদারিত্বসহ প্রায় ১ হাজার ৩০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। একই এলাকায় অংশীদারিত্বসহ আরও একটি প্রায় ১ হাজার ১০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

মোহাম্মদপুরের রামচন্দ্রপুর মৌজায় যথাক্রমে ১১১ ও ৫০ শতাংশ জমির অংশীদারিত্বসহ দুটি পৃথক ফ্ল্যাটের তথ্যও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

এ ছাড়া খিলগাঁওয়ের উত্তর মেরাদিয়ায় সাড়ে ৩ শতাংশ জমির ওপর একটি বাড়ি এবং যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ জমির ওপর ১১টি টিনশেড ঘর থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

সাভারের বারোকাকোর এলাকায় ৮ শতাংশ জমির একটি মূল্যবান প্রকল্পভূমির মালিকানার তথ্যও পাওয়া গেছে।

তবে এসব সম্পত্তির বর্তমান বাজারমূল্য, ক্রয়মূল্য এবং মালিকানার ধরন সংশ্লিষ্ট দলিল ও সরকারি রেকর্ডের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও আতীকুজ্জামানের পরিবারের নামে জমির মালিকানার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার কলাপাড়া মৌজায় ২৭৭ শতাংশ ও সাড়ে ৩ শতাংশ জমি, বাজারদী এলাকায় সাড়ে ৭ শতাংশ এবং কায়দা মৌজায় ৪০ শতাংশ জমির মালিকানার তথ্য রয়েছে বলে অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ১১২ শতাংশ কৃষি ও অকৃষি জমির তথ্যও পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীর আয়, সঞ্চয়, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদ ও বৈধ বিনিয়োগের সঙ্গে এসব সম্পত্তির মূল্য ও অর্জনের সময়কাল মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বর্তমানে মোহাম্মদ আতীকুজ্জামান কাস্টমস মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেট, ঢাকায় কর্মরত।

এই দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে আমদানিকৃত পণ্যের শুল্ক মূল্য নির্ধারণ, পণ্যের মূল্য কম দেখিয়ে শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা বা আন্ডার-ইনভয়েসিং প্রতিরোধ এবং আমদানিকারকদের অডিট কার্যক্রম পরিচালনা।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এ ধরনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের আমদানি পণ্যের মূল্যায়ন, অডিট রিপোর্ট এবং শুল্কসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে।

অভিযোগকারীদের দাবি, এই দায়িত্বের অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে আতীকুজ্জামানের বিরুদ্ধে দায়িত্বের অপব্যবহার করে সম্পদ অর্জনের অভিযোগের কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে—এমন দাবি করা হচ্ছে না। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাইযোগ্য।

অনুসন্ধানে কিছু সম্পত্তি তাঁর স্ত্রী মোছা. আশরাফুন্নাহারের নামে নিবন্ধিত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব সম্পত্তি স্ত্রীর নিজস্ব আয়, পারিবারিক সম্পদ, উত্তরাধিকার, উপহার বা স্বামীর আয়ের মাধ্যমে অর্জিত কি না—তা নির্ধারণে আয়কর নথি, ব্যাংক লেনদেন, দলিল ও সম্পদ বিবরণী পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

স্ত্রীর সম্পত্তির স্বাধীন ও বৈধ উৎস থাকলে সেটিও তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রত্যন্ত এলাকায় কৃষি ও অকৃষি জমিতে বিনিয়োগ বৈধ সম্পদ ব্যবস্থাপনার অংশও হতে পারে। আবার অবৈধ অর্থের উৎস গোপন বা বৈধ হিসেবে দেখানোর জন্য জমি কেনার ঘটনাও বিভিন্ন দুর্নীতি অনুসন্ধানে উঠে আসে।

তবে কোনো ব্যক্তির জমি থাকার কারণেই সেটিকে অবৈধ অর্থের বিনিয়োগ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। সম্পদের প্রকৃত উৎস জানতে আয়, ক্রয়মূল্য, ব্যাংক লেনদেন, কর নথি এবং সম্পত্তির দলিলসহ সংশ্লিষ্ট আর্থিক তথ্য যাচাই প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ আতীকুজ্জামান অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে পরে বিস্তারিত কথা বলার আশ্বাস দেন।

তিনি জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত এবং তাঁর সব সম্পদের তথ্য আয়কর নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাঁর এই বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর নামে থাকা সম্পদের বৈধতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আয়কর নথি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভিযোগে উল্লেখ করা সম্পদের তথ্য সত্য হলে এবং সেগুলোর বৈধ উৎস দেখাতে না পারলে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনি এখতিয়ারের মধ্যে পড়তে পারে।

তাদের মতে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬ ও ২৭ ধারার আলোকে সম্পদের বিবরণ ও জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি যাচাই করা যেতে পারে।

এ ছাড়া সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের বিবরণ দাখিল এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও যাচাইয়ের বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ অবস্থায় মোহাম্মদ আতীকুজ্জামান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের উৎস, আয়কর নথি, সম্পত্তির দলিল, ব্যাংক লেনদেন এবং সরকারি চাকরিতে প্রাপ্ত বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আর অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও স্পষ্ট করা জরুরি।

তাই সম্পদের উৎস ও মালিকানা যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।