বেনাপোল প্রতিনিধি: দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনকে ঘিরে লাগেজ ব্যবসার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত পণ্য শুল্ক পরিশোধ ছাড়া পারাপারের সুযোগ তৈরি করে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বেনাপোল ইমিগ্রেশনে দায়িত্ব পালনরত রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব পাল। তার বিরুদ্ধে লাগেজ সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশ, নির্ধারিত শুল্ক আদায়ে অনিয়ম এবং অতিরিক্ত পণ্য পারাপারে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ভারতীয় পাসপোর্টধারী যাত্রীদের লাগেজের মাধ্যমে শাড়ি, কাপড়, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়মিত বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত পণ্যের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী শুল্ক আদায়ের বিধান থাকলেও কথিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কিছু পণ্য কম শুল্কে কিংবা শুল্ক পরিশোধ ছাড়াই পার হয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, লাগেজ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একটি চক্র ইমিগ্রেশন এলাকায় সক্রিয় থেকে যাত্রীদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ ও পরিবহনের কাজ করছে। এ ঘটনায় কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর যোগসাজশের প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকারের রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ক্ষতির বিষয়টি সামনে আসতে পারে।
এ বিষয়ে রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব পালের বক্তব্য জানতে সাংবাদিক সুমন হোসেন তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করেছেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে তিনি কী কারণে বিস্তারিত বক্তব্য দেননি, সেটিও স্পষ্ট নয়।
সাংবাদিক সুমন হোসেনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী, অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের দাবি, বেনাপোল ইমিগ্রেশনে লাগেজ পারাপারের পুরো প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোন যাত্রীর মাধ্যমে কী পরিমাণ পণ্য প্রবেশ করছে, অতিরিক্ত পণ্যের ক্ষেত্রে কত টাকা শুল্ক নির্ধারণ ও আদায় করা হচ্ছে এবং সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, লাগেজ স্ক্যানিংয়ের তথ্য, শুল্ক আদায়ের রেকর্ড, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের তথ্য এবং লাগেজ ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের কার্যক্রম তদন্ত করা হলে অভিযোগের সত্যতা থাকলে তা বেরিয়ে আসতে পারে।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। একই সঙ্গে নির্দোষ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য নিরপেক্ষ তদন্তের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।




















