১১:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মিরপুরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ‘হাজিরা বাণিজ্য’, সিআই মৃত্যুঞ্জয়ের বিরুদ্ধে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৩০:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৯

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অঞ্চল-২ (মিরপুর) ৭ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ে কর্মরত পরিচ্ছন্নতা বিভাগের সিআই (সুপারভাইজার) মৃত্যুঞ্জয়ের বিরুদ্ধে দায়িত্বে থাকা কর্মীদের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ আদায়, অনুপস্থিত কর্মীদের হাজিরা দেখানো এবং চাকরি হারানোর ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর অভিযোগ, দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকা বা অতিরিক্ত ছুটি নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে কর্মীদের কাছ থেকে মাসে প্রায় ২ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। কেউ নগদ অর্থ দেন, আবার কেউ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠান বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সিআই মৃত্যুঞ্জয়ের অধীনে প্রায় ৬৪ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের কর্মস্থল নির্ধারণ, মাঠপর্যায়ে উপস্থিতি এবং কাজ তদারকির দায়িত্বও তাঁর ওপর।

অভিযোগকারীদের দাবি, ৬৪ জন কর্মীর কাছ থেকে মাসিক প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হতে পারে। তবে এ অর্থ আদায়ের অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন।

এদিকে, অন্তত ১০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়মিত মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন না করলেও হাজিরা খাতায় তাঁদের উপস্থিত দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে করিম, ফিরোজ, সাজু, রফেজা, পিংকি, গাজীর মেয়ে, রবি ও শেফালীসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মী গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করেন অথবা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত। অথচ তাঁদের নিয়মিত হাজিরা দেখানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন কর্মী।

দুই মাস ধরে চালানো অনুসন্ধানে অভিযোগে নাম আসা কয়েকজনকে দায়িত্ব পালনের নির্ধারিত সময়ে তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে তাঁদের অনুপস্থিতির বিষয়টি হাজিরা খাতা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কয়েকজনের দাবি, নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা সিআই মৃত্যুঞ্জয়কে মাসে প্রায় ১২ হাজার টাকা করে দেন। ১০ জনের ক্ষেত্রে এ অর্থের পরিমাণ মাসে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

বদলি ডিউটিতেও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ

শুধু অনুপস্থিত থাকার সুযোগ দেওয়াই নয়, একজন কর্মীর পরিবর্তে অন্য কেউ বদলি হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তাঁর কাছ থেকে মাসে প্রায় ৩ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কয়েকজন পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এসব অভিযোগ করেন। তাঁদের বক্তব্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালিয়ে কয়েকজন কর্মীকে দায়িত্ব পালনের নির্ধারিত সময়ে নিজ নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার মৃত্যুঞ্জয়ের

অভিযোগের বিষয়ে সিআই মৃত্যুঞ্জয়ের বক্তব্য জানতে তাঁর কার্যালয়ে গেলে তিনি প্রতিবেদককে উপ-ব্যবস্থাপক মো. বেনজির আহমেদের কক্ষে বসান। সেখানে অভিযোগগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. বেনজির আহমেদ তাঁর পক্ষে বক্তব্য দেন।

পরে সিআই মৃত্যুঞ্জয় অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগের প্রায় ৮০ শতাংশই মিথ্যা এবং তাঁকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে প্রতিবেদকের কাছে থাকা ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অভিযোগগুলো নিয়ে আপত্তি জানান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এ দাবিরও স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কয়েকজন আরও অভিযোগ করেন, কেউ তাঁর বিরুদ্ধে কথা বললে কিংবা সাংবাদিকদের কাছে তথ্য দিলে চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হয়।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে হাজিরা খাতা, দায়িত্ব বণ্টনের তালিকা, ছুটির অনুমোদন, বদলি ডিউটির নথি, সংশ্লিষ্টদের আর্থিক লেনদেন এবং মাঠপর্যায়ের উপস্থিতির তথ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করলে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো প্রমাণিত নয়। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

সর্বাধিক পঠিত

নরসিংদীতে ভূমি কর্মকর্তার সাড়ে ৫ কোটি টাকার সম্পদ, আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

মিরপুরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ‘হাজিরা বাণিজ্য’, সিআই মৃত্যুঞ্জয়ের বিরুদ্ধে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

আপডেট: ০৯:৩০:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অঞ্চল-২ (মিরপুর) ৭ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ে কর্মরত পরিচ্ছন্নতা বিভাগের সিআই (সুপারভাইজার) মৃত্যুঞ্জয়ের বিরুদ্ধে দায়িত্বে থাকা কর্মীদের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ আদায়, অনুপস্থিত কর্মীদের হাজিরা দেখানো এবং চাকরি হারানোর ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর অভিযোগ, দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকা বা অতিরিক্ত ছুটি নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে কর্মীদের কাছ থেকে মাসে প্রায় ২ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। কেউ নগদ অর্থ দেন, আবার কেউ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠান বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সিআই মৃত্যুঞ্জয়ের অধীনে প্রায় ৬৪ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের কর্মস্থল নির্ধারণ, মাঠপর্যায়ে উপস্থিতি এবং কাজ তদারকির দায়িত্বও তাঁর ওপর।

অভিযোগকারীদের দাবি, ৬৪ জন কর্মীর কাছ থেকে মাসিক প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হতে পারে। তবে এ অর্থ আদায়ের অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন।

এদিকে, অন্তত ১০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়মিত মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন না করলেও হাজিরা খাতায় তাঁদের উপস্থিত দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে করিম, ফিরোজ, সাজু, রফেজা, পিংকি, গাজীর মেয়ে, রবি ও শেফালীসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মী গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করেন অথবা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত। অথচ তাঁদের নিয়মিত হাজিরা দেখানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন কর্মী।

দুই মাস ধরে চালানো অনুসন্ধানে অভিযোগে নাম আসা কয়েকজনকে দায়িত্ব পালনের নির্ধারিত সময়ে তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে তাঁদের অনুপস্থিতির বিষয়টি হাজিরা খাতা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কয়েকজনের দাবি, নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা সিআই মৃত্যুঞ্জয়কে মাসে প্রায় ১২ হাজার টাকা করে দেন। ১০ জনের ক্ষেত্রে এ অর্থের পরিমাণ মাসে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

বদলি ডিউটিতেও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ

শুধু অনুপস্থিত থাকার সুযোগ দেওয়াই নয়, একজন কর্মীর পরিবর্তে অন্য কেউ বদলি হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তাঁর কাছ থেকে মাসে প্রায় ৩ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কয়েকজন পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এসব অভিযোগ করেন। তাঁদের বক্তব্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালিয়ে কয়েকজন কর্মীকে দায়িত্ব পালনের নির্ধারিত সময়ে নিজ নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার মৃত্যুঞ্জয়ের

অভিযোগের বিষয়ে সিআই মৃত্যুঞ্জয়ের বক্তব্য জানতে তাঁর কার্যালয়ে গেলে তিনি প্রতিবেদককে উপ-ব্যবস্থাপক মো. বেনজির আহমেদের কক্ষে বসান। সেখানে অভিযোগগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. বেনজির আহমেদ তাঁর পক্ষে বক্তব্য দেন।

পরে সিআই মৃত্যুঞ্জয় অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগের প্রায় ৮০ শতাংশই মিথ্যা এবং তাঁকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে প্রতিবেদকের কাছে থাকা ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অভিযোগগুলো নিয়ে আপত্তি জানান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এ দাবিরও স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কয়েকজন আরও অভিযোগ করেন, কেউ তাঁর বিরুদ্ধে কথা বললে কিংবা সাংবাদিকদের কাছে তথ্য দিলে চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হয়।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে হাজিরা খাতা, দায়িত্ব বণ্টনের তালিকা, ছুটির অনুমোদন, বদলি ডিউটির নথি, সংশ্লিষ্টদের আর্থিক লেনদেন এবং মাঠপর্যায়ের উপস্থিতির তথ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করলে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো প্রমাণিত নয়। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।